আজঃ বুধবার ৪ মার্চ, ২০২৬

অতিরিক্ত গতি এবং দুর্ঘটনারোধে এলিভেটেডের উভয়পাশে আরো ১০টি ক্যামেরা ও স্পিড সাইন বসানো হচ্ছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বসানো হয়েছে স্পিড ক্যামেরা। ইতোমধ্যে গাড়ির গতি মনিটরিং করছে এই ক্যামেরা। অতিরিক্ত গতি এবং দুর্ঘটনারোধে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সম্প্রতি এই স্পিড ক্যামেরা বসিয়েছে।কোন গাড়ি ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চললে ক্যামেরায় ওই গাড়ির ছবি উঠবে এবং অটো জরিমানা হবে। জরিমানা পরিশোধের জন্য একটি সময় বেঁধে দেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা আদায় না করলে মামলার ব্যবস্থাও থাকবে। এছাড়া বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমেও এই জরিমানা আদায়ের সুযোগ থাকবে।
এদিকে পরবর্তীতে লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেডের উভয়পাশে ১০টি ক্যামেরা ও স্পিড সাইন বসানো হবে। যেখানে ক্যামেরা থাকবে তার একটু আগেই স্পিড সাইন থাকবে, চালকদের সতর্ক করতে এই সাইন বসানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে কোন যানবাহন নির্ধারিত গতির (ঘণ্টায় সর্ব্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার) বেশি চালালে এই ক্যামেরায় তা ধরা পড়বে। সেই সাথে বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে যানবাহন চালককে জরিমানার আওতায় আনা হবে। প্রথম কিছুদিন পরীক্ষামূলক এই ক্যামেরা চললেও কিছুদিনের মধ্যে জরিমানা কার্যকর হবে বলে জানায় সিডিএ।
এদিকে, আগামী ৩ ডিসেম্বর থেকে টোলের আওতায় আসছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। টোল আদায় শুরু হলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ফ্রিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হবে। টোল আদায়ের জন্য নগরীর পতেঙ্গাপ্রান্তে চারটি অস্থায়ী টোলবুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তীতে নগরীর লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে ১০টি টোলবুথ বসানো হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, আগামী ৩ ডিসেম্বর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোল আদায় শুরু হবে। ওইদিন সকালে উদ্বোধন শেষে টোল আদায় শুরু হবে। এরপর থেকে নির্ধারিত যানবাহন টোল আদায়ের মাধ্যমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবে। ইতোমধ্যে গাড়িভেদে টোলের হার মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়েছে। পতেঙ্গাপ্রান্তে টোলবুথ প্রস্তুত রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৪ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি চট্টগ্রাম শহরের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করেন। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সাড়ে নয় মাস পর গত ২৬ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চললেও পরবর্তীতে মোটরসাইকেলসহ সবধরনের যানবাহন চলাচল শুরু করে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে জিইসি মোড় থেকে উঠে পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন স্থানে নামার সুযোগ থাকবে। আবার পতেঙ্গা থেকে উঠে নগরীর টাইগারপাস, লালখানবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে নামার জন্য র‌্যাম্প রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, টাইগারপাস, নিমতলা, কেইপিজেড, ফকিরহাট, সিইপিজেডে ওঠানামার নয়টি র‌্যাম্প থাকবে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্পের ব্যায় বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। খরচ বেড়েছে ১ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সংশোধিত প্রকল্প একনেকের সভায় অনুমোদিত হয়। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের জুনে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজই শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
স্পিড ক্যামেরা প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, গাড়ির গতি সীমিত রাখতে ও দুর্ঘটনারোধে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে স্পিড ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে আপাতত এই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পরবর্তীতে এটি কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইমতিয়াজ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পাইলট প্রকল্প হিসেবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে এই স্পিড ক্যামেরা বসিয়েছে। জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো এই স্পিড ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসেবে পতেঙ্গাপ্রান্তে একটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোন গাড়ি ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চললে ক্যামেরায় ওই গাড়ির ছবি উঠবে এবং অটো জরিমানা হবে। জরিমানা পরিশোধের জন্য একটি সময় বেঁধে দেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা আদায় না করলে মামলার ব্যবস্থাও থাকবে। এছাড়া বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমেও এই জরিমানা আদায়ের সুযোগ থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সাংসদ আবু সুফিয়ান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীরন ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের আছাদগঞ্জ শুটকি পাট্টি কলাবাগান এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। রোববার দুপুরে তিনি অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শন করে অগ্নিকান্ডের ভয়বহতা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন এবং সংগঠিত অগ্নিকান্ডের ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে তাদের শান্তনা প্রদান করেন এবং সহমর্মিতা জানান। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করেন।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই কঠিন মুহুূর্তে তাদের পাশে দাড়াঁনো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দুর্যোগ-দুর্বিপাকে মানুষের পাশে থাকাই বিএনপির রাজনীতি। সরকারী বা বিরোধী দল মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলোর পাশে আছে। আগামীতেও বিএনপির পক্ষ থেকে সকল ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ এলাকার বিত্তবান ব্যক্তিদের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর পাশে থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. সাহেদ, মো. তালেব, মো. নাছির, মো. হোসেন, মো. হামিদ, মো. ইয়াছিন, মো. দুলাল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের আছাদগঞ্জ শুটকিপাট্টি কলাবাগান এলাকায় সংগঠিত এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি সেমিপাকা ঘর ভস্মিভূত হয়।

ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশী নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ এখন পর্যন্ত তিনজন নিহতের তথ্য মিলেছে। নিহত বাংলাদেশির নাম সালেহ আহমেদ। তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা এলাকার ছবর আলীর ছেলে।রোববার (১ মার্চ) রাতে সালেহ আহমেদের চাচাতো ভাই আরব আমিরাত প্রবাসী মাহবুব আলম চৌধুরী জানান, সালেহ আহমেদ সেখানে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইফতারের পর কাজে বের হন তিনি। সে সময় আরব আমিরাতে হামলা চালায় ইরান। এসময় বিস্ফোরণে সালেহ আহমেদ নিহত হন।

আলোচিত খবর

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে প্রতিনিধি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন- জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য একটি নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মৌখিক ও সরাসরি যোগাযোগও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকার পদেও নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এতে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জাতীয় সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ