আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্ণফুলীর সঙ্গে যুক্ত আটটি খালের মুখে ৫৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে যুক্ত আটটি খালের প্রবেশমুখ খনন করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষের ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকা আটটি খাল হচ্ছে- রাজাখালী খাল, চাক্তাই খাল, ফিশারিঘাট, জোবায়ের খাল, লইট্টা খাল, বিএফটি খাল, অভয়মিত্র খাল এবং পিকে সেন খাল। ইতোমধ্যে এসব খালের মুখে ৫৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে বলে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, আমরা বন্দরের পক্ষ থেকে কর্ণফুলী নদীর মূল চ্যানেলে ড্রেজিং এবং নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোর প্রবেশমুখের বর্জ্য অপসারণের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। মাননীয় উপদেষ্টাবৃন্দের মতবিনিময় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে আমরা বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। শহরে বিশেষ করে রাজাখালী ও চাক্তাই খালসহ নদীর সঙ্গে যুক্ত খালগুলো, যেগুলো আমাদের বন্দরের জলসীমার মধ্যে পড়েছে, সেগুলোর পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার কাজ চলছে।

জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া মেগাপ্রকল্পসহ সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং শুরু করেছেন অন্তর্বতীকালীন সরকারের চারজন উপদেষ্টা। গত ১৯ জানুয়ারি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চট্টগ্রামে এসে বন্দর, সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও চট্টগ্রামে এসে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছিলেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং’ নামে ২৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করে। ২০২২ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। নৌবাহিনী এ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ফেরানোর পাশাপাশি এবং নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আটটি খালের মুখ খনন করা হচ্ছে এ প্রকল্পের আওতায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক আরো জানান, দুটি কাটার সাকশান ড্রেজার, একটি এম্পিবিয়াস ড্রেজার এবং একটি বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ বে ক্লিনার-১ প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত আছে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার ঘনমিটার মাটি তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৫৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। আমরা আশা করছি বর্ষার আগেই খালগুলোর প্রবেশমুখে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে। আমরা আমাদের এ কাজ নিয়মিত চালু রাখবো। তবে সমস্যাটা হচ্ছে খালের ভেতরে, সেখানে তো কাজ করার এখতিয়ার আমাদের নেই। খালের ভেতরে যদি প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্যের জন্য পানি আটকে যায়, সেক্ষেত্রে প্রবেশমুখ ড্রেজিং করলেও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না। এজন্য নগরবাসীকে সচেতন করতে হবে, যাতে কেউ খাল-নালায়, ড্রেনে সরাসরি বর্জ্য নিক্ষেপ না করেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ দুটি, সিটি করপোরেশন একটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চার প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিডিএ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ