আজঃ রবিবার ৩ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া গণপিটুনিতে নিহত দুজনই জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় গণপিটুনিতে নিহত দুজনই জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেছেন, সালিশ বৈঠকের নামে ডেকে নিয়ে তাদের দুজন কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের চূড়ামণি গ্রামের ছনখোলা এলাকায় গণপিটুনিতে দুজন

নিহত হন। এ সময় গোলাগুলিতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন, মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন (৪৫) ও মোহাম্মদ ছালেক (৩৫)। এদের মধ্যে নেজাম উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের মধ্যম কাঞ্চনা এলাকার মাহমুদুল হকের ছেলে। আর ছালেক একই ইউনিয়নের গুরগুরি এলাকার আবদুর রহমানের ছেলে।

আহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন, ওবায়দুল হক (২২), নাসির উদ্দিন (৩৮), আব্বাস উদ্দিন (৩৮) ও মো. মামুনুর রশিদ (৪৫)। তারা ছনখোলা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ৪-৫টি সিএনজি অটোরিকশায় করে নেজাম ও ছালেকসহ অন্তঃত ১২ জন যুবক ছনখোলা এলাকায় যান। তারা ওই গ্রামের দোকানের সামনে অটোরিকশা থেকে নামেন। তখন মসজিদের মাইক থেকে এলাকায় ডাকাত এসেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘোষণায় গ্রামের লোকজন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। অনেকে তারাবির নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হন। তারা নেজামদের ঘিরে ফেললে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। গুলিবর্ষণের মধ্যেই

অটোরিকশায় করে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও গ্রামবাসী নেজাম ও ছালেককে ধরে বেধড়ক মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। আর গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজন আহত হন।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানা থেকে ওসিসহ পুলিশের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। রাতে পুলিশ সুপারসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও সেখানে যান। পুলিশ দুজনের লাশ উদ্ধার করে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আহতদের নগরীতে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, আটটি গুলির খোসা ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করেছে বলে ওসি জানান।

জামায়াতে ইসলামীর সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের সেক্রেটারি জায়েদ হোছেন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। একটি সালিশ বৈঠকের কথা বলে তাদের এওচিয়া ইউনিয়নে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দুজনের মাথায় পর্যায়ক্রমে আঘাত করা হয়।
তবে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের সক্রিয় কর্মী নেজাম উদ্দিন আওয়ামী লীগের আমলে দীর্ঘসময় এলাকাছাড়া ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি এলাকায় ফেরেন। এরপর এলাকায় নেজামের পক্ষে-বিপক্ষে দুটি গ্রুপ তৈরি হয়। তারা একাধিকবার সংঘাতেও জড়িয়েছে। এ ছাড়া নেজাম ও তার পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠতে থাকে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ এবং এলাকাভিত্তিক অপরাধ ও আধিপত্যের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে বলে সূত্র জানায়।

জানতে চাইলে ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম আরো বলেন, স্থানীয় লোকজন আপনাদের যে তথ্য দিচ্ছেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরাও সেগুলোই পাচ্ছি। নেজাম অনেকদিন এলাকায় ছিলেন না। নেজাম ও ছালেকের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা আছে। এর মধ্যে কিছু মামলা বিচারাধীন আর কিছু মামলা তদন্তাধীন আছে। তবে এলাকায় ফেরার পর নেজাম ও তার অনুসারীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কেউ থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। তারা এত রাতে কেন ওই গ্রামে গেল, গ্রামবাসীর মধ্যে ডাকাত আতঙ্ক কিভাবে ছড়িয়ে পড়ল- এগুলো আমরা তদন্ত করে দেখছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের এ দিন কে স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে এই দিবসটি। রাষ্ট্রীয়ভাবে মে দিবস পালন করছে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা সিএনজি মালিক ও শ্রমিক সমিতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার আয়োজনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। মহান মে দিবসের ইতিহাসের সূচনা ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবং দিবসটি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি পায় ।

শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলে তারা ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে সংগঠিত হয়ে ওঠে। ওই বছরের ১ মে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিকাগো।আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪ মে সংঘটিত হে মার্কেট বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তীকালে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে বিতর্কিত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে তা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সেই স্বরণে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সিএনজি মালিক ও শ্রমিক সমিতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার আয়োজনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি ভাঙ্গুড়া বাস স্ট্যান্ড শহীদ মিনার থেকে শুরু করে শরৎনগর বাজারে দিকে রওনা হয়। শরৎনগর বাজারের মেইন মেইন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজপাড়া মোড়ের ব্রিজ পার হয়ে, ভাঙ্গুড়া বাজারের মেইন মেইন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরবর্তীতে ভাঙ্গুড়া বাস স্ট্যান্ড শহীদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাকিউল আযমের নেতৃত্বে গাড়ি বহ পুলিশ শোভাযাত্রাটিকে নিরাপত্তা প্রদান করেন।

আপন ভাই কে তুলে নেওয়ায় ফেসবুকে পোস্ট; লাঞ্চিত করল বিএনপি নেতার ভাই সাংবাদিককে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আপন ছোট ভাই কে তুলে নেওয়ার ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশ করায় এক জনৈক সাংবাদিক কে প্রকাশ্যে মারধর করেছে, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই শরীফ সহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ শাহিবুল ইসলাম পিপুল ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিপুল দৈনিক বাংলা ট্রিবিউন-এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক যুগান্তরের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই দিন বিকাল প্রায় ৫ টার দিকে কলেজ পাড়া এলাকায় ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিন সহ কয়েক জন যুবক জোরপূর্বক সাংবাদিক পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামী কে হাসপাতাল পাড়া সংলগ্ন শিশুকুঞ্জ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে নিয়ে যায়।
বিষয়টি জানার পর পিপুল তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠায়।

এ ঘটনার পর পিপুল নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ‘বাহার’ নামে একব্যক্তি ফোন করে তার অবস্থান নিশ্চিত করে ও পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

কিছুক্ষণ পর পিপুল ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজ ও তার সাথে থাকা এক যুবক পরিচয় নিশ্চিত করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং তারাই তার ভাইকে তুলে নিয়েছিল বলে স্বীকার করে। সেখান থেকে সরে আসার চেষ্টা করলে শরীফ ফোনে যোগাযোগ করে পিপুলের অবস্থান জেনে নেয়।

পরবর্তীতে শরীফের নেতৃত্বে ১২/১৫ জনের একটি দল সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তানভীর নামে এক ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক দাঁড়িয়ে থাকা।
একটি সিএনজিতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে পিপুল রক্ষা পায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ভাঙ্গুড়া থানার এস আই আল-আমিন হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিপুল স্থানীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙ্গুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ