আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

দুই লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে চট্টগ্রাম কেইপিজেডে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারার কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) দীর্ঘদিনের ভূমি জটিলতা কাটিয়ে বিদেশি বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দুই লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। প্রায় ২৬ বছর পর জমির মালিকানা স্বত্ব (দলিল) পেয়েছে কেইপিজেড। গত সোমবার দুই হাজার ৪৮৩ একর জমির এই দলিল হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক। এদিকে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে কেইপিজেড শুরু থেকেই পরিবেশবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ৮২২ একর জমিতে ৩০ লক্ষাধিক গাছ লাগানো হয়। এছাড়াও রয়েছে ৩৩টি লেক ও জলাশয়। এসব জলাশয়ে ৬০০ মিলিয়ন গ্যালন বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যায়।

জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত কোরিয়ান ইপিজেড। এ শিল্পাঞ্চলের জন্য ১৯৯৭ সালে দুই হাজার ৪৯২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৯৯ সালে অধিগ্রহণকৃত জমি কেইপিজেড কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করে সরকার। কারখানা স্থাপন ও উৎপাদনে যায় ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে। বর্তমানে ইয়াংওয়ানের ৪৮টি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। এসব কারখানায় ৩৩ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু জমি আয়ত্বে থাকলেও মালিকানা স্বত্ব বা দলিল ছিল না। এখন দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে মালিকানা স্বত্ব ফিরে পায় কোরিয়ান ইপিজেড।
এদিকে, গত সোমবার কেইপিজেড এলাকা পরিদর্শন করেছে চীন, ভারত, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ৬০ জন বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। কেইপিজেড পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত কোম্পানি ইয়াংওয়ান করপোরেশন। এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কিহাক সাং বাংলাদেশে বিদেশিদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে কোরিয়ান ইপিজেড কর্তৃপক্ষের নিকট দুই হাজার ৪৮৩ একর জমির দলিল হস্তান্তর করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জমি অধিগ্রহণ বুঝে পাওয়ার পর শিল্প-কারখানা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন মালিকানা স্বত্ব (দলিল) না থাকায় অনেকটা বেকায়দায় ছিল কর্তৃপক্ষ। বিনিয়োগ করতে আসা অনেক কোম্পানি ভূমি জটিলতার কারণে বিনিয়োগ না করে ফিরে গেছে।
এ বিষয়ে কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, বিনিয়োগের জন্য কেইপিজেড একটি আদর্শিক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ জায়গা। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিনিয়োগকারীদের বিল্ডিং ভাড়ায় দিতাম। তারা সেখানে কারখানা তৈরি করে উৎপাদন করছে। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার কেইপিজেডের দীর্ঘদিনের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করেছে। এখন বিনিয়োগ ভূমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ফিরে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের টানতে কাজ করে যাচ্ছে, এজন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহোদয়ের নির্দেশনায় কোরিয়ান ইপিজেড কর্তৃপক্ষকে দুই হাজার ৪৮৩ একর জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। এরমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অধিগ্রহণকৃত জমি সংক্রান্ত জটিলতা মাত্র ২ মাসের মধ্যে নিরসন করা হয়েছে। এরফলে কোরিয়ান ইপিজেডে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম জেলায় দুই লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, ১৯৯৭ সালে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষকে অধিগ্রহণ করা জমি আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। কিন্তু জমির দখল বুঝে পেলেও জমির মালিকানা বা দলিল পায়নি। প্রধান উপদেষ্টা স্যারের নির্দেশনা ও বেজার চেয়ারম্যান স্যারের প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, জমির মালিকানা না থাকলে বিনিয়োগকারীরা বড় বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে না। এখন দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগকারী আগ্রহী হয়ে ওঠেছে। ইতিমধ্যে বিদেশি একটি বিনিয়োগকারী দল পরিদর্শন করে গেছেন।
কেইপিজেড কর্মকর্তারা জানান, একটি বিশ্বমানের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলছে। টেক্সটাইল জোনে ৫টি পোশাক তৈরির কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে দুটি চালু করা হয়েছে। বাকি তিনটির ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া কেইপিজেডে ১০০ একর জমিতে আইটি পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি আইটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি ভবন নির্মীয়মাণ রয়েছে। এছাড়া আরও ৫০ একর জমির ওপর আইটি ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্সের জন্য ১৬টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দুটি আইটি পার্ক নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। আইটি পার্ক ছাড়াও স্কুল এন্ড কলেজ এবং ৬শ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মীয়মাণ রয়েছে। অন্যদিকে কেইপিজেডে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বিশাল সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ