আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলার পর টহল পার্টিকে ‘দেখামাত্র গুলি’র নির্দেশ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টহল বা অভিযানের সময় পুলিশের সামনে কেউ অস্ত্র বের করলেই আত্মরক্ষায় ‘দেখামাত্র গুলি’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। চট্টগ্রাম মহানগরের ঈশান মিস্ত্রির ঘাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় বন্দর থানার এসআই আবু সাঈদ রানা গুরুতর আহত হওয়ার পর ওয়্যারলেসে সব ইউনিটে তিনি এ মৌখিক নির্দেশ দেন।

সোমবার রাত, সল্টগোলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পেয়ে রানা ও দুই পুলিশ সদস্য অভিযান চালান। একটি বাসায় তল্লাশির সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রানা’র মাথায় আঘাত করে। পরে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে কিরিচ, ছুরি ও ধারালো অস্ত্রসহ ১৮ জনকে আটক করে।

হাসিব আজিজ নির্দেশনায় বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে যে অস্ত্র বহনের প্রাধিকার ছিল, তা অনুযায়ী এখন থেকে থানার মোবাইল পার্টি, পেট্রোল পার্টি, ডিবি ও চেকপোস্ট টিম আগ্নেয়াস্ত্র ও লাইভ অ্যামুনিশন নিয়ে বের হবে। রবার বুলেট যথেষ্ট নয়। অস্ত্র বের করা মাত্র গুলি হবে-ধারালো হোক বা আগ্নেয়াস্ত্র। আত্মরক্ষা দণ্ডবিধি ৯৬ থেকে ১০৬ ধারার অধিকার।তিনি আরও বলেন, বন্দর থানার ঘটনায় আমার অফিসারের মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। আল্লাহ তাকে বাঁচিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে লাশ ছাড়া টহল পার্টি ফেরত আসবে না।

এদিকে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় রানা’র সঙ্গে থাকা দুই কনস্টেবল শটগান বহন করলেও গুলি ছোড়েননি। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য বলেছেন, অনেকেই এখনো ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরবর্তী জনআক্রোশের ট্রমায় ভুগছেন। অভিযানে গুলি চালালে পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় পড়তে হয় বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বন্দর জোনের ডিসি মো. আমিরুল ইসলাম জানান, আহত এসআই-এর সিটি স্ক্যান করা হয়েছে, তিনি শঙ্কামুক্ত। চট্টগ্রাম মেডিকেলে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসায় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জরিমানা গুনল দুই পেট্টোল পাম্প, ওজন কম ও হালনাগাদ নেই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে দুইটি পেট্টোল পাম্পকে জরিমানা করা হয়। বুধবার বিএসটিআইয়ের পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতে এসব জরিমানা করা হয়। দুটি পেট্টোল পাম্পকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই চট্টগ্রামের পরীক্ষক প্রিময় মজকুরী জয়। অভিযানে নগরীর পাঁচলাইশ থানার নাসিরাবাদের বাদশা মিয়া অ্যান্ড সন্স পেট্টোল পাম্পের ডিসপেন্সিং ইউনিট যাচাই করে দেখা যায়, ডিজেল সরবরাহে প্রতি ৫ লিটারে ১২০ মিলিলিটার কম দেওয়া হয়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন মন্ডল অপু।

একইদিন, কাতালগঞ্জ এলাকার হাজি ইউনুস অ্যান্ড কোং নামের পেট্টোল পাম্পের ভেরিফিকেশন সনদ হালনাগাদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে তাদের ডিসপেন্সিং ইউনিটে পরিমাপের যথার্থতা সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার। এছাড়া একই এলাকায় খান ব্রাদার্স সিএনজি প্রাইভেট লিমিটেডের পরিমাপ সঠিক এবং প্রয়োজনীয় সব সনদ হালনাগাদ থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

চট্টগ্রাম কারাগারে ঈদের হাসি ফোটাতে নানা উদ্যেগ, বন্দীরা আপ্যায়িত হবে বিশেষ খাবারে ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদে কারাবন্দীদের মুখে হাসি ফোটাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। প্রায় ছয় হাজার বন্দীদের মাঝে কারাগার কর্তৃপক্ষ ছড়িয়ে দিতে চায় ঈদের আনন্দ। ঈদের দিন কারাগারে স্বজনদের কাছে ছুটলেও চার দেয়ালের বাইরে যাবার সুযোগ নেই কারাবন্দীদের। সরকারি নিয়মীতির মধ্যে থেকেই দেখা করতে হয়। এবার ঈদে কারাগারে বন্দীদের পায়েস, মুড়ি, গরুর ও ছাগলের মাংসের ব্যবস্থা থাকবে। তবে ঈদের পরদিন স্বজনরা বাসায় রান্না করা খাবার দিতে পারবেন বন্দীদের। বাহিরের কোন বাবুচি নয়, কারাবন্দী কয়েদীরা এই রান্না করবেন বলে জানা গেছে। এবার কারাবন্দী মায়ের সাথে ৪৫ শিশুও ঈদ করবে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, বিধি অনুযায়ী আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি ঈদে যেন বন্দীদের মন খারাপ না থাকে। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ রান্নার আয়োজন করা হবে কারাগারে। কারাগারের ভেতরে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত। সকাল সাড়ে সাতটায় কারাগারে কর্মরত অফিসার ও কর্মচারীরা নামাজ পড়বেন।

সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হবে বন্দীদের ঈদের নামাজ। সকালে বন্দীদের সরবরাহ করা হবে পায়েস, মুড়ি। দুপুরে মুসলিম বন্দীদের জন্য গরুর মাংস। অন্য ধর্মালম্বীদের জন ছাগলের মাংসের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া সবার জন্য থাকবে মুরগির মাংস ও মিষ্টি। রাতে পোলাও এবং পান সুপারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের পরদিন স্বজনরা বাসায় রান্না করা খাবার দিতে পারবেন বন্দীদের।
কারগারসূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম কে›ন্দ্রীয় কারাগারে সাজা, মত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও হাজতি মিলে বন্দীর সংখ্যা ছিলো প্রায় ছয় হাজার। সেই হিসেবে প্রায় ছয় হাজার বন্দী এবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদ উদযাপন করবেন।

বিপুল সংখ্যাক বন্দীর জন্য কারাগারে উন্নত খাবারের রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। করা হয়েছে বাহারি আলোকসজ্জা। ইচ্ছে করলেও কারাবন্দীরা সারাবছর ঘরে রান্নার স্বাদ নিতে পারেন না। তবে ঈদের পরদিন স্বজনরা চাইলে বাড়ির রান্না করা খাবার দিতে পারবেন বন্দীদের।
জানা গেছে, ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম কারাগার ১৯৯৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত হয়। কারাগারের পাঁচ তলা বিশিষ্ট পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ভবনের প্রতিটিতে ৩০০ জন ও কর্ণফুলী, সাংগু ও হালদা ভবনের প্রতিটিতে ২৪০ জন বন্দী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট দুটি ফাঁসির সেল ভবন, ৩২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি সেল ভবন রয়েছে।

এবার পেশাদার কোন বাবুর্চি নয়, কারাবন্দী কয়েদীরা ২৮ চুলায় এসব রান্না তৈরি করবেন। বন্দীদের রান্নার জন্য দুটি রান্না ঘরে ২৮টি চুলা (চৌকা) রয়েছে। এছাড়া চারতলা বিশিষ্ট একটি মহিলা কয়েদি ও দুই তলা বিশিষ্ট মহিলা হাজতি ব্যারাক রয়েছে দুটি। কাগজে কলমে দুই হাজার ২’শ ৪৮ জন বন্দীর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ছিল প্রায় ছয় হাজার। এদিকে কোন অপরাধ না করেও কারাগারে বন্দী রয়েছে ৪৫ শিশু। নানা অপরাধে জড়িত কারাবন্দী মায়ের সাথে শিশুরাও বন্দী জীবনযাপন করছে। জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, বন্দী মায়ের সাথে শিশুদের ছয় বছর বয়স পর্যন্ত কারাগারে রাখা হয়। কারাগারে থাকা শিশুদের জন্য খেলাধূলা ও পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। ছয় বছর বয়স পার হলেও তাদেরকে সমাজ সেবার আওতাধীন বিভিন্ন শিশু সদনে পাঠানো হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ