আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

পাবনায় বিপুল পরিমাণ নকল দুধ জনসম্মুখে নষ্ট ,১ জনের ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার পাবনা প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নকল দুধ উৎপাদনের বিরুদ্ধে অভিযানে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাবনার ফরিদপুর উপজেলায়  স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে শফি নামের এক দুধ ব্যবসায়ীর কারখানা থেকে বিশ মণ নকল দুধ জব্দ করে জনসম্মুখে তা নষ্ট করা হয়। একইসাথে কারখানা থেকে দুইজনকে আটক করা হয় এবং এক আসামিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।ফরিদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে শফির মালিকানাধীন দুধ কারখানায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাসায়নিক ও কৃত্রিম উপাদান মিশিয়ে ‘নকল দুধ’ তৈরি করা হচ্ছিল। এই দুধ স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো। অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, কারখানায় সয়াবিন তেল ডিটারজেন্ট, ফ্যাট রিমুভার এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে বিশাল পরিমাণে দুধ প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

অভিযান চলাকালীন জনসম্মুখে বিশ মণ নকল দুধ বড় বড় ড্রামে করে রাস্তায় ঢেলে দেওয়া হয়। স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় এবং অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “এতদিন আমরা যে দুধ খেয়েছি, সেটা কি এই বিষ ছিল? এইসব ব্যবসায়ীদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন,জনস্বাস্থ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমন অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।
অভিযানে অংশ নেওয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গোপেশ চন্দ্র সরকার বলেন, “নকল দুধে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এই অভিযান পাবনা জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের এমন দৃঢ় পদক্ষেপে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তবে প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের নকল পণ্য কারা কিনে নেয়? বাজারে কিভাবে এই দুধ সরবরাহ হতো? বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি উদ্যোগে ভেজালবিরোধী এমন অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনস্বার্থে এরকম অভিযান আরও বেশি প্রয়োজন—এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

চট্টগ্রামের বাংলাবাজারে রেলের বগিতে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের মাঝিরঘাট বাংলাবাজার এলাকায় রেলের কয়েকটি বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, বারিকবিল্ডিং এলাকার পাশে এসআরবি স্টেশনে রেলের পুরাতন বগিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নির্বাপণে কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ