আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

বিশ্বের ব্যস্ততম ১০০ বন্দরের নতুন তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর ৬৮তম স্থানে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান এক ধাপ িিপছিয়ে গেছে। বিশ্বের ব্যস্ততম ১০০ বন্দরের নতুন তালিকায় পেছালো ২০২৫ সালের র‌্যাংকিংয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ৬৮তম অবস্থানে গেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৩ সালে র‌্যাংকিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ৬৭তম অবস্থানে ছিল। কিন্তু কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার পরেও এবার এক ধাপ পিছিয়ে গেছে।

ব্যস্ততম বন্দরগুলোর কনটেইনার পরিবহনের হিসাব করে সেরা ১০০ বন্দরের তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক শিপিংবিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো সংবাদ মাধ্যম লয়েড’স লিস্ট। সম্প্রতি ‘ওয়ান হান্ড্রেড কনটেইনার পোর্টস ২০২৫’ তালিকা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। লয়েড’স লিস্ট বিশ্বের কোন বন্দরে কত কনটেইনার ওঠানামা হয়েছে সেই তালিকা ধরেই শীর্ষ ১০০ বন্দরের তালিকা প্রকাশ করে। এখানে বন্দরে সেবার মান বা দক্ষতা আমলে নেওয়া হয় না। ফলে দক্ষতার দিক থেকে কোন বন্দর এগিয়ে আছে সেটি এই তালিকার মাধ্যমে জানার সুযোগ নেই।

লয়েড’স জানিয়েছে, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৭ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। এর আগে ২০২৩ সালে যা ছিল ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৩ একক। অর্থাৎ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ বাড়লেও তালিকায় অবস্থান থেকে এক ধাপ পিছিয়েছে। মূলত বিশ্বের অন্যান্য বন্দরগুলোর প্রবৃদ্ধি আরো বেশি হওয়ার কারণেই চট্টগ্রাম বন্দর তার র‌্যাংকিং থেকে পিছিয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর সর্বপ্রথম ২০১০ সালে ৯৮তম স্থান নিয়ে লয়েড’স লিস্টের তালিকায় স্থান করে নেয়। এরমধ্যে ২০১১ সালে বন্দরটি ১০ ধাপ এগিয়ে ৮৮তম স্থানে যায়। পরে ২০১২ সালে ১ ধাপ পিছিয়ে ৮৯তম, ২০১৩ সালে ১ ধাপ পিছিয়ে ৯০তম, ২০১৪ সালে ৪ ধাপ এগিয়ে ৮৬তম, ২০১৫ সালে ১ ধাপ পিছিয়ে ৮৭তম, ২০১৬ সালে ১০ ধাপ এগিয়ে ৭৬তম, ২০১৭ সালে ৫ ধাপ এগিয়ে ৭১তম, ২০১৮ সালে ১ ধাপ এগিয়ে ৭০তম, ২০১৯ সালে ৬ ধাপ এগিয়ে ৬৪তম, ২০২০ সালে ৬ ধাপ এগিয়ে ৫৮তম, ২০২১ সালে ৯ ধাপ পিছিয়ে ৬৭তম এবং ২০২২ সালে ৩ ধাপ এগিয়ে ৬৪তম অবস্থানে ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। এরপর ২০২৩ সালে আবার ৩ ধাপ পিছিয়ে ৬৭তম অবস্থানে যায় বন্দরটি। এরপর ২০২৪ সালেও সেই একই অবস্থান ধরে রাখে। তবে ২০২৫ সালে বন্দরের দক্ষতা আরো বাড়লেও তালিকায় একধাপ পিছিয়ে ৬৮তম অবস্থানে এলো।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১০০টি ব্যস্ততম বন্দরের প্রকাশিত তালিকায় প্রথম ৯টি বন্দর তার নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের এবারও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর। এই বন্দরটি ২০২৪ সালে ৫ কোটি ১৫ লাখ ৬ হাজার ৩শ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে।দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুর বন্দর হ্যান্ডলিং করেছে ৪ কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ১শ একক কনটেইনার। যা এর আগের বছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।তৃতীয় অবস্থানে থাকা চীনের নিংবো-ঝুশান বন্দর হ্যান্ডলিং করেছে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৮ হাজার একক কনটেইনার। এর আগের বছরের চেয়ে যা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

তালিকার চতুর্থ অবস্থানে চীনের শেনজেন, পঞ্চম অবস্থানে চীনের কিংদাও, ষষ্ঠ অবস্থানে চীনের কুয়াংচৌ, সপ্তম অবস্থানে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান, অষ্টম অবস্থানে চীনের তিয়ানজিন এবং নবম অবস্থানে আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড বন্দরের নাম রয়েছে। এই নয়টি বন্দরই গতবারের তাদের নিজ নিজ অবস্থান এবারও ধরে রেখেছে। পরিবর্তন এসেছে তালিকার দশম স্থানে। আরো একধাপ এগিয়ে দশম অবস্থানে এসেছে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং। যা গতবছর দুই ধাপ এগিয়েছিল।

অন্যদিকে গতবছর একধাপ পিছিয়ে ১২তম অবস্থানে যাওয়ায় নেদারল্যান্ডের রোটারডাম বন্দর এবার একধাপ এগিয়ে ১১তম অবস্থানে এসেছে। আর দশম অবস্থান থেকে দুই ধাপ পিছিয়ে ১২তম অবস্থানে এসেছে চীনের হংকং বন্দর।
এদিকে তালিকায় গতবারের ন্যায় এবারও শীর্ষ দশে শুধু চীনের বন্দরই আছে ৬টি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দুটি বন্দর আছে ১০০টি ব্যস্ততম বন্দরের এই তালিকায়। তবে দুইটি বন্দরই এবার তালিকায় পিছিয়েছে। ২৫তম তালিকায় রয়েছে ভারতের মুন্দ্রা বন্দর। গত গতবছর ছিল ২৪তম অবস্থানে। অন্যদিকে তিন ধাপ পিছিয়ে ৩১তম অবস্থানে এসেছে জহুরলাল নেহেরু বন্দর (পুরনো নাম কোলকাতা বন্দর)।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রমে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন জলদস্যুর মাঝে র‌্যাবের ঈদ উপহার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন সাবেক জলদস্যুর মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে র‌্যাবের চট্টগ্রাম ইউনিট। বুধবার চট্টগ্রাম ইউনিটের সদর দপ্তর পতেঙ্গা এলিট হলে র‌্যাব মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী ও পেকুয়া উপকূলীয় অঞ্চলের আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের মাঝে এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।একইসঙ্গে তাদের বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংস্থাটি অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ডাকাত, চাঁদাবাজ, খুনি ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সফলতা অর্জন করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে ২০১৮ ও ২০২০ সালে ৭৭ জন এবং ২০২৪ সালে আরও ৫০ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে বলে জানায় সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম র‌্যাবের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা র‌্যাবের কল্যাণমূলক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অপরাধমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তারা ভবিষ্যতে সৎ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার হস্তক্ষেপে অবশেষে নগরের বায়েজিদ এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। জেপি সনেট লিমিটেডের মালিকপক্ষ বুধবার (১৮ মার্চ) কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে বাধ্য হয়েছে।

জানা যায়, ডিসির নির্দেশে কারখানার যন্ত্রপাতি তাৎক্ষণিকভাবে ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে মালিকপক্ষ। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভোরে সেই অর্থ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় কোনো ধরনের ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।কারখানার সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন বলেন, ডিসি স্যার প্রথমে নিজে টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।তিনি অচলাবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে অফিসারদের মাধ্যমে মনিটরিং করেন। এছাড়া তিনি মালিকপক্ষকে সতর্ক করে দেন—প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই মালিকপক্ষ তালবাহানা বন্ধ করে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।তিনি বলেন, ডিসি স্যার হস্তক্ষেপ না করলে ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের পাওনা পেতেন না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে আমরা যন্ত্রপাতি ও স্টক মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করি। প্রথমে ক্রেতা গড়িমসি করলেও ডিসি স্যার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি রাজি হন। রাত ১২টার দিকে সমঝোতা হয় এবং ভোর ৬টায় পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, আমাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। তবে জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়েছে বকেয়া পরিশোধ করতে। জেলা প্রশাসক বারবার খোঁজ নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন—শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়। ঈদের আগে তিন মাসের বেতন বকেয়া এবং শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর নির্দেশ দিতে হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সৃষ্ট এই শ্রম অসন্তোষের সূত্রপাত হয় গত ১৪ মার্চ, যখন প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি, শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকার করে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। নারী শ্রমিকসহ অনেকে কারখানায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মালিকপক্ষ সময়ক্ষেপণ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরে ১৮ মার্চ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে ১ লাখ টাকা আংশিক পরিশোধ করা হয়েছিল।জেলা প্রশাসন জানায়, শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ, ক্রেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছিল এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ