আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

জনমানুষের নেতা মোজাম্মেল হক চৌধুরী: যাত্রী অধিকার আন্দোলনের সাহসী মুখ-

এম মনির চৌধুরী রানা /মো.কামাল উদ্দিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

বিগত সরকারের সময় আজকের এইদিনে
গভীর রাতে, ঠিক ভোররাতে হঠাৎ করেই মিরপুর মডেল থানার পুলিশ এসে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেয়েছিল। কেন তাঁকে আটক করা হলো, সেই বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই জনমনে নানা প্রশ্ন, শঙ্কা এবং ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল।মোজাম্মেল হক চৌধুরী নামটি বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে শুধু একটি সংগঠনের মহাসচিব নয়, বরং যাত্রী অধিকার আন্দোলনের প্রতীক।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেছেন বাস-ট্রাক-মাইক্রোবাস থেকে শুরু করে প্রতিদিনের ভোগান্তির বিরুদ্ধে। তার আন্দোলনের কারণেই আজ যাত্রী সেবা, যাত্রী অধিকার এবং সড়কে শৃঙ্খলার বিষয়ে কিছুটা হলেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে, নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে আলোচনার জন্ম হয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে তাঁকে দমিয়ে রাখার জন্য। সেই সময়ের ক্ষমতাসীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু মানুষ জানত—এই মানুষটি মিথ্যা বা ভণ্ডামির আড়ালে লুকানো কোনো চরিত্র নন। তাই সেদিন সারাদেশের মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। সাংবাদিক,

বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, শ্রমজীবী—সবাই কণ্ঠ মিলিয়েছিল মোজাম্মেল হক চৌধুরীর জন্য। আমিও তখন তাঁর হয়ে কলম ধরেছিলাম।আমার সঙ্গে মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সম্পর্ক দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময়ের। তিনি আমারই এলাকার মানুষ—বোয়ালখালীর গর্ব। লেখালেখির জগৎ থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন পর্যন্ত তাঁর সাহচর্য পেয়েছি আমি। অসংখ্য দিন-রাত্রি আমরা কাটিয়েছি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। তার চিন্তা, মনন, দর্শন সবকিছুই সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। তিনি সবসময় জনমুখী ছিলেন, এখনো আছেন। আজকে তিনি শুধু একজন সংগঠক নন; তিনি জাতীয় নেতা, তিনি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। গণমানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর ভূমিকা আজ সবার কাছে অনস্বীকার্য।

সড়কের ভাঙা সেতু থেকে শুরু করে অতিরিক্ত ভাড়া, পরিবহনে হয়রানি, দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো—প্রতিটি জায়গায় মোজাম্মেল হক চৌধুরী ছিলেন নির্ভীক যোদ্ধা। তাঁর কণ্ঠস্বর আজ সারা দেশের যাত্রীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। তাঁকে নিয়ে লেখা কয়েকটি লাইনে শেষ করা সম্ভব নয়।

কারণ মোজাম্মেল হক চৌধুরী কোনো একক ব্যক্তি নন—তিনি এক ইতিহাস, এক আন্দোলন, এক প্রতিরোধের নাম। আজ তাঁর এই আকস্মিক গ্রেপ্তার আমাদের মনে করিয়ে দিল, এদেশে সত্য বলার, মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর মূল্য আজও চড়া।
তবুও আমরা বিশ্বাস করি—সত্য কখনো দমিয়ে রাখা যায় না। মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে হয়তো আজকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু তাঁর লড়াইকে আটকানো যাবে না। ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম চিরকাল থাকবে—যাত্রী অধিকার আন্দোলনের সাহসী মুখ, জনমানুষের নেতা হিসেবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ