আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

ভোলা জেলা: দ্বীপের রাণী

মোঃ মহিউদ্দিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেঘনা আর তেতুলিয়ার কোলে শুয়ে আছে ভোলা, যেন প্রকৃতির আঁচলে বাঁধা এক অনিন্দ্যসুন্দর রাণী। সবুজ শ্যামলে ভরা এ দ্বীপ যেন স্বপ্নের দোলা। সোনার মাটি, নদীর গীতিময় স্রোত আর ফসলি জমিতে দুলে ওঠা সোনালী ধান মিলে ভোলাকে বানিয়েছে প্রকৃতির এক মহিমান্বিত চিত্রপট।
ভোলার সকাল জাগে পাখির ডাকে। শিশিরভেজা হাওয়া যখন মাঠের বুক ছুঁয়ে যায়, তখন কৃষকের ঘামে ভিজে ওঠে শস্যশ্যামলা জমি। ধানের শীষে ঝরে পড়া সোনালি রোদ আর কৃষকের হাসি যেন একে অপরের পরিপূরক। মেঘনার ঢেউয়ে ইলিশের নৃত্য আর জেলেদের জালে স্বপ্ন ধরা—এই ভোলার নিজস্ব ঐশ্বর্য।

এ দ্বীপের আকাশে-বাতাসে মিশে আছে বক, মাছরাঙা, শালিক ও টিয়ার কিচিরমিচির। প্রকৃতির এমন সুরেলা কলতানে মন ভরে ওঠে মুগ্ধতায়। কাশবনের নরম দোলা, নদীর বুকে ভাটিয়ালি গানের সুর, আর নৌকার পাল মেলে বাতাসে ভেসে চলা—সবই ভোলার সৌন্দর্যের অনন্য উপাখ্যান।
ভোলা শুধু প্রাকৃতিক রূপে নয়, প্রাণের টানে রাণী। এখানে সমুদ্রের নোনা হাওয়া মাটির গন্ধে মিশে এক অদ্ভুত আবেশ ছড়ায়। কাঁকড়ার হাঁসি, ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, আর জেলেদের উচ্ছ্বসিত গান মিলে ভোলার সুরের মূর্ছনা তৈরি করে। জোছনার আলোয় নদীর বুকে ভেসে থাকা স্বপ্ন যেন হৃদয় জুড়ে এক অমলিন কবিতা হয়ে বাজে।

ভোলা জেলার প্রতিটি বাঁকে বাঁকে রঙিন মায়া, নদীর আঁকাবাঁকা পথ ধরে ছুটে চলে জীবনের স্রোত। তাই তো একে দ্বীপের রাণী বলা হয়। এ রাণীর সৌন্দর্য শুধু চোখে ধরা পড়ে না, হৃদয়ের গভীরে চিরকাল বেজে চলে।যেথায় যাই, মন পড়ে থাকে এই নদী-নদীর দেশে, কাশবনের বাতাসে, ইলিশের নৃত্যে, কৃষকের সোনালি হাসিতে। ভোলা শুধু একটি জেলা নয়, সে এক স্বপ্ন, এক ভালোবাসা—এ যে আমাদের প্রিয় দ্বীপের রাণী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বীরমুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন আহমাদ’র ৪১ তম মৃত্যুবার্ষিকী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোলার লালমোহনের কিংবদন্তি শিক্ষাবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা মানবসেবক নামজাদা ফুটবলার সালাউদ্দিন মিয়ার ৪১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২১ মে ২০২৬ ।উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মুন্সি আব্দুর রহমানের বংশধর সালাউদ্দিন আহমাদ, ভোলা কলেজের সাবেক অধ্যাপক মৌলানা মনসুর আহমাদ গোল্ডমেডেলিস্ট এবং বেগম বদরুন্নেসা আহমাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র । লালমোহন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চতলা গ্রামের বনেদি পরিবারের সন্তান সালাউদ্দিন আহমাদ ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম সেক্টরের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বিপুল বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন । একি সময়ে তিনি চট্টগ্রাম জোনের মুক্তিযুদ্ধের মহান সংগঠক এম এ আজিজের একান্ত উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন । এম এ আজিজের পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত হাজি মোহাব্বত আলী একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন সালাউদ্দিন আহমাদ । ১৯৭১ এর রণাঙ্গনে বিপুল বিক্রমে যুদ্ধ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মহান সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের সাথে ব্যক্তিগত ঘণিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় ভোলার বীরযোদ্ধা সালাউদ্দিন আহমাদের।

লালমোহন শাহবাজপুর কলেজের একসময়ের খ্যাতিমান ইংরেজি শিক্ষক সালাউদ্দিন আহমাদ বিচিত্র কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে ভোলা মাসুমা খানম গার্লস হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক, ডাওরীরহাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, লালমোহন হাইস্কুলের উপপ্রধানশিক্ষক, সীতাকুণ্ড লতিফা সিদ্দিকা মেমোরিয়াল হাইস্কুলের উপপ্রধানশিক্ষক ছিলেন । তিনি ধলীগৌরনগর হাইস্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা । দুই মেয়াদে সভাপতি ছিলেন ঐতিহ্যবাহী করিমগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সহোদর ভাইয়ের নামে লালমোহন উপজেলায় প্রথম বেসরকারি গণগ্রন্হাগার ” শহীদ জামাল স্মৃতিপাঠাগার” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সত্তুর এবং আশির দশকে পাঠক সৃষ্টিতে রেখে গেছেন কালজয়ী অবদান ।
ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ও ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কবি শাহাবুদ্দিন রিপন শান , তজুমদ্দিন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজিমউদ্দিন লিটন , চতলা সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শরিফউদ্দিন টিপু এবং চতলা করিমুন্নেছা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মেজবাহউদ্দিন রুবেল শান বীরমুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন আহমাদের সন্তান।

মরহুম সালাউদ্দিন আহমাদের ৪১ তম মৃত্যুবার্ষিকীর অবিস্মরণীয় দিনটি (২১ মে ২০২৬) মরহুমের কবর জিয়ারত, স্মরণ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে উদযাপন করবে- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ # ভোলা জেলা কমান্ড কাউন্সিল এবং শান ফাউন্ডেশন।

ভোলার ইলেকট্রিশিয়ানদের নিয়ে মনোমুগ্ধকর মতবিনিময় সভা করলো এমইপি গ্রুপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশীয় নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত ইলিকট্রিসিটি এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের গুণগত মান ও বিস্তার নিয়ে ভোলা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত ইলেকট্রিক টেকনেশিয়ানদের নিয়ে মনোমুগ্ধকর মতবিনিময় সভা আয়োজন করলো দেশের প্রথম সারির ইলেকট্রনিক শিল্প উৎপাদন প্রতিষ্ঠান এমইপি গ্রুপ ।

১৯ মে ২০২৬ মঙ্গলবার বিকেলে লালমোহন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নীচতলায় অবস্থিত ভুতের বাড়ি চাইনীজ রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত আলোঝলমল অনুষ্ঠানে, এমইপি গ্রুপ লালমোহন উপজেলা ডিস্ট্রিবিউটর ও মেসার্স রহমান ইলেকট্রনিক্স এর সত্ত্বাধিকারী মোঃ নাজিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কোম্পানির ডিভিশনাল সেলস ম্যানেজার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাব সভাপতি ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ভোলা জেলা সংসদের আহবায়ক সিনিয়র প্রভাষক কবি রিপন শান । সম্মানিত মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুলাদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার খান ।

অনুষ্ঠানে এমইপি পণ্য সমূহের মান নিয়ে মূল্যবান মতামত পরিবেশন করেন- ভোলা জেলার ইলেক্ট্রিক টেকনেশিয়ানগণ । ডিজিটাল স্ক্রিনে কোম্পানির বায়ান্ন বছরের ইতিহাস ও অগ্রগতি, বর্তমান কার্যক্রম এবং আকর্ষণীয় রেফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্যে দিয়ে শেষ হয় এমইপি গ্রুপ আয়োজিত ইলেকট্রেশিয়ান মতবিনিময় সভা ।।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ