এ পি জে আবদুল কালামের স্বপ্নের অসাধারণ কথামালা ————

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী ———

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম একজন স্বপ্নের ফেরীওয়ালা। ভালোবাসতেন নিজকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে। দক্ষিণ ভারতের মাদ্রাজে রামনাথ স্বামী জেলার রামেশ্বরমে ছিল তাঁর বসবাস। বাবা ছিল নৌকার মাঝি। তিনি বাবাকে দেখতেন নৌকা নিয়ে এ দ্বীপ থেকে অন্য দীপে প্রতিদিন যাত্রী পারাপার করতে। এ পেশার আয়ে তাদের জীবন চলতো না বলে রেলস্টেশন থেকে খবরের কাগজের যে সব বান্ডিল চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হতো সেগুলো কুড়িয়ে শহরে পৌঁছে দেয়ার কাজ করেছেন বহুদিন। এ কাজে তেমন অর্থ উপাজন না হওয়ায় তিনি ভাবলেন,বাবা যে নৌকা চালান তাতে যদি একটি যন্ত্র সংযোজন করে দেওয়া যায় তবে উপার্জন বৃদ্ধি হবে। এই যন্ত্র সংযোজন করতে গিয়ে গতিবৃদ্ধির স্বপ্ন পেয়ে বসে। সে স্বপ্নের অনুশীলনের মাধ্যমে বিমান প্রযুক্তির ভাবনা পেয়ে বসে। গতিবৃদ্ধি করতে গিয়ে একদিন হয়ে উঠেন মিসাইলম্যান। নৌকা তৈরীর মিস্ত্রীরা নৌকাই তৈরী করে সারা জীবন। কিন্তু ব্যতিক্রম হয় আবদুল কালাম। কারণ

আবদুল কালাম স্বপ্ন দেখেন এগিয়ে যাওয়ার। মাঝির ছেলে মাঝি হতে চাননি, স্বপ্ন দেখলেন বিজ্ঞানী হবেন। শুধু বড় বিজ্ঞানীই হলেন না, রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন। কারণ তিনি দেখেছিলেন বড় হওয়ার স্বপ্ন। তিনি বিশ্ববাসীকে জানালেন, ‘আমরা যা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখি তা স্বপ্ন নয়, যে স্বপ্ন ঘুমাতে দেয় না তাই স্বপ্ন।’
মানুষ কত বড়? প্রতিটি মানুষ তার স্বপ্নের চেয়ে অনেক বড়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ১৮ অক্টোবর ২০১৪ সালে ঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন, ‘বড় স্বপ্ন দেখ, ছোট স্বপ্ন দেখা অপরাধ’। বড় স্বপ্ন মানুষকে বড় করে।স্কুল জীবনে বারাক ওবামার শিক্ষক জানতে চেয়েছিলেন, বড় হলে কী হতে চাও? তিনি বলেছিলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। এ কথা শুনে সবাই হেসেছিলেন। কী ভাবে সম্ভব ! একজন বিদেশি, বিধর্মী, কৃষ্ণাঙ্গ সাদা ঘরে (হোয়াইট হাউস) প্রবেশ করবে! তিনি তাঁর বড় স্বপ্ন পুরণের জিদ ধরেন।প্রমাণ করলেন, চেষ্টা করলে আমেরিকার প্রেসিডেন্টও হওয়া যায়।

আবদুল কালাম বলেছেন, ‘স্বপ্নের একটি বাধা আছে, শত্রু আছে। সে শত্রুকে চিনতে পারলে পরাজিত করতে পারবে। তার পরাজয় মানে জীবনের জয়। সে শত্রুটি হলো ‘হতাশা’। স্বপ্ন মানে আশা তার বিপরীত হতাশা’।
আমরা জানি আশা আর ভালোবাসা চলেগেলে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। আত্মহত্যা করে। বেঁচে থেকেও অনেক মানুষ মৃত। যাদের স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে তারা মৃত।স্বপ্নের মৃত্যুর চেয়ে মানুষের জীবনে বড় ট্রাজেডী নেই। প্রিয়জনের মৃত্যুও ট্রাজেডী। কিন্তু এই ঘটনায় মানুষের ভূমিকা গৌণ। স্বপ্নের মৃত্যুর জন্য মানুষই দায়ী। রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞানী আবদুল কালামের স্বপ্ন দেখাই ছিল তার বড় মহত্ব এবং বিশালত্ব। জীবন ব্যাপী সমগ্র জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন আত্মজয়ের, ভারতের বিশ্বজয়ের, মহাকাশ জয়ের। স্বপ্ন দেখতেন মানুষের অসীম শক্তির বিকাশ সাধনের।

বাংলাদেশ সফরকালে বিজ্ঞানী আবদুল কালাম ঢাকায় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ১৭ অক্টোবর ২০১৪ সালে এক অনুষ্ঠানে বললেন, ‘তোমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশের স্বপ্ন। তোমাদের চিন্তা বাংলাদেশের চিন্তা। আজ আমি সত্যিই আনন্দিত কারণ তোমাদের মত মেধাবী তরুণ আমার মত ৮৩ বছরের একজন বৃদ্ধের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে এসেছো। এই রুমে আলো জ্বলছে, আলোর ঝলকে বর্ণিল হয়ে উঠেছে সব জায়গা।

এই বাতি আবিষ্কার করেছিল থমাস আলভা এডিসন। এই বাতি যতদিন জ্বলবে ততদিন আমরা তাঁকে মনে রাখবো। আমাদের পকেটে সেলফোন আছে, এটি আবিষ্কার করেছিল আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল। তাঁকে সবাই ভালোভাবে মনে রেখেছে। জীবনে তোমরা এমন কিছু করবে যাতে সবাই স্মরণ করে। স্বপ্ন দেখ, বড় স্বপ্ন দেখ। স্বপ্ন দেখতে হলে আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল, থমাস আলভা এডিসন, জগদ্বীশ চন্দ্র বসুর মতই দেখ।… ব্যর্থগুলো প্রতিহত করার যোগ্যতাই প্রকৃত নেতৃত্ব।
বাংলাদেশে এসে তিনি সফলতার গল্প শুনালেন। তিনি পি এইচ ডি ডিগ্রীধারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, দার্শনিক বা বিজ্ঞানীর কথা আমাদের শুনালেন না, শুনালেন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কথা। সফলতার শিক্ষা যে প্রাথমিক শিক্ষক হতে পেয়েছেন তা তিনি নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যে শিক্ষককে।

সফলতার পাহাড় শৃঙ্গে যিনি উঠেছেন তার পক্ষে ৭৫ বছর পূর্বের এক অখ্যাত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে স্মরণ করার কী প্রয়োজন ছিল? তিনি আমাদের শিখিয়ে গেলেন, যিনি স্বপ্ন দেখান, ভিতরে ভিতরে নির্মাণ করেন,তাঁকে ভুলে যাওয়া অন্যায়।
আবদুল কালাম মনে করতেন, মানুষের মধ্যে আছে অসাধারণ শক্তি। যে শক্তি বিকাশের কথা বলতেন গুরুত্বের সাথে। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষই কিছু না কিছু আগুন নিয়ে জন্মায়, মানুষের উচিৎ সে আগুন বিকশিত করে ছড়িয়ে দেয়া’। তাই তিনি তাঁর বিখ্যাত বইয়ের নাম দিয়েছেন, ‘উয়িংস অব ফায়ার’। আগুনের ডানা। যে ডানা আপনাকে পুড়তে হবে’। সে ডানা প্রসার করতে পারলে অনেক ওপরে উঠতে পারে, উড়তে পারে আকাশে, মহাকাশে। তিনি আরো বলেছেন, ‘সূর্য্যের ন্যায় উজ্জ্বল আলো ছড়াতে চাইলে সূর্য্যের ন্যায় আপনাকে পুড়তে হবে’।

জীবনে তিনি হতে চেয়েছিলেন বিমান চালক। ক্লাসের আট জন নির্বাচিত হয়েছিলেন বিমান চালক। আবদুল কালাম হয়েছিলেন নবম। বিমান চালক হতে পারেনি তাতে কি। একটি পথ বন্ধ হলেও কত পথ খোলা আছে তা তিনি জানতেন। নিজের অদম্য চেষ্টায় হয়ে উঠেন ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু বিজ্ঞানের প্রাণ পুরুষ এবং রাষ্ট্রপতি। তিনি কর্মজীবনে শুধু মাত্র দুইদিন ছুটি নিয়েছিলেন। মায়ের আর বাবার মৃত্যুদিনে। মৃত্যুর পূর্বে বলে গিয়েছিলেন, ‘আমার মৃত্যুতে ছুটি ঘোষণা করো না। আমাকে যদি ভালোবাস, মন দিয়ে কাজ করো সেদিন। আমার মৃত‍্যুর কারণে যেন ভারত একদিন পিছিয়ে না যায। আসলে এটি ছিল দেশপ্রেম। মহামতি প্লেটোর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, দেশপ্রেম কি? তিনি জানিয়েছিলেন, ‘প্রত্যেকই নিজের দায়িত্বটাকে সুচারুরূপে পালন করাই সর্বোচ্চ দেশপ্রেম।

এ পি জে আবদুল কালাম রাষ্ট্রপতি হয়েও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সময় কাটাতেন বেশি। তার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলতেন, ‘যেখানে বসে আছে আগামী দিনের ভারত শাসক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিকগণ সেখানে সময় কাটানোর চেয়ে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসে সময় কাটানোর আমার কাছে গুরুত্ব অধিক নয়’। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের বলতেন ‘চাকুরীপ্রার্থী নয় চাকুরীদাতা হও’।
তাঁর বড় হওয়ার পিছনে তাঁর বাবার একটি কথা জীবনে রেখাপাত করেছিল। তাঁর বাবা বলতেন, ‘তোমার সন্তান তোমার নয়, তারা প্রবাহমান জীবনের অংশ। তারা তোমাদের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে মাত্র’।
এ পি জে আবদুল কালামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাড়া জাগানোর উক্তি উল্লেখ করার লোভ সংবরণ করতে পারলাম।

(১) যে অন্যকে জানে সে শিক্ষিত কিন্তু জ্ঞানি হলো সেই ব্যক্তি যে নিজকে জানে। জ্ঞান ছাড়া শিক্ষা কোন কাজে আসে না।
(২) স্বপ্ন দেখ, কারণ স্বপ্ন চিন্তায় পরিণত হয়। চিন্তা মানুষকে কর্মে অনুপ্রাণিত করে।
(৩) একটি ভালো বই একশত বন্ধুর সমান আর একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরীর
সমতুল্য।
(৪) হাসতে হবে প্রাণখুলে। জীবনে হাসতে পারাটা খুব দরকার। হাসি জীবনকে সহজ করে। কঠিন সময় পার করতে সহায়তা করে।
(৫) প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন কাজ আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সম্মতি দেওয়া। আমি মনে করি পারিবাশ্বিক অবস্থার কারণে মানুষ অপরাধ করে। অপরাধের জন্য দায়ী সমাজ বা অর্থনৈতিক অবস্থা। কিন্তু সে ব্যবস্থাকে
আমরা শাস্তি দিতে পারি না। শাস্তি দিই ব্যবস্থার স্বীকার মানুষদের।
(৬) যুব সমাজের প্রজ্বলিত মন পৃথিবীর ওপর গভীর শক্তিশালী মূলধন।
(৭) তুমি সমস্যার অধিনায়ক হও, সমস্যাকে পরাজিত কর।
(৮) তোমাদের প্রশ্ন করতে চাই কী জন্য মানুষ তোমাকে মনে রাখলে খুশি হবে।
(৯) ফুলকে দেখ, কী অকৃপণ ভাবে সুগন্ধ আর মধুদান করে। কিন্তু যখন তার কাজ শেষ হয়ে যায়, নিঃশব্দে ঝরে পড়ে।

আবদুল কালাম মেঘালয়ের তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতারত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে নিচে পড়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই হয় তাঁর মহাপ্রয়াণ। সারা জীবন ছাত্রদের মাঝে আলো বিতরণ করতে করতে ছাত্রদের কোলাহলেই বিদায় নিলেন। অসাধারণ কর্মের মাধ্যমে তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলেন। সামরিক বাহিনীতে কর্মের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলে বলা হয়, To die with boots on. ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় সৈনিকের মৃত্যু। আবদুল কালামের মৃত্যু যেন আলোকিত মানুষের আলো বিতরণরত মহান এক সৈনিকের মহাপ্রয়াণ।মহান আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাত নসিম করুন।
লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে ইউসিটিসি’র ড্রামা ক্লাবের মঞ্চে ‘নিমফুল’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি,চট্টগ্রাম (ইউসিটিসি’র) ড্রামা ক্লাব তাঁর কালজয়ী নাটক ‘নিমফুল’ মঞ্চস্থ করেছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রযোজনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকটির মানবিক আবেদন, গ্রামীণ জীবন ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ দর্শকদের সামনে প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরেন। পুরো পরিবেশনা জুড়ে দর্শকদের উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ (হেদায়েত চৌধুরী), ফারজানা মুন্সি সীমা (মদিনা), রিফাত হাসান (মাস্টার), ইমতিয়াজ ইমতি (ফজলু), সফল দাশ (কুদ্দুস), সাওয়াদ সামি (মনা ডাকাত), আরিয়ান (মনা ডাকাতের ছেলে), মারুফ চৌধুরী (হেডমাস্টার), সিয়াম (মেম্বার), জয়নাল (অর্নব দত্ত), তাওছিন আক্তার (সালেহার আম্মা) এবং উম্মে সামিহা (সালেহা)। প্রযোজনাটির নির্দেশনা দেন মায়া দত্ত।
হেদায়েত চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করা জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ বলেন, “হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করা আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বড় একটি দায়িত্বও। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আমরা দীর্ঘদিন মহড়া করেছি। দর্শকদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নাটকের নির্দেশক মায়া দত্ত বলেন, “হুমায়ূন আহমেদের নাটক শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে আমরা তাঁর সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি।

নাটকটি দেখতে আসা এক দর্শক বলেন, “শিক্ষার্থীদের অভিনয় ছিল আন্তরিক ও পরিণত। সীমিত আয়োজনের মধ্যেও তারা নাটকের আবহ সুন্দরভাবে তৈরি করতে পেরেছে। পুরো প্রযোজনা উপভোগ্য ছিল।আরেক দর্শক জানান, “হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত দর্শকরা অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশককে অভিনন্দন জানান। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও বাংলা নাট্যসাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

জীবন সংস্কৃতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কতনা অদ্ভূত সমাজ
মিথ্যাকে বিশ্বাস করে
সত্যের প্রমান চায়,
সাপের মতো খোলস বদল
স্বভাব থেকে যায় ।

কতনা অদ্ভূত সমাজ
ভাল কাজ মুছে যায়
সময়ের বাঁকে,
মন্দ কাজ রেকর্ড হয়
ইতিহাসের ফাঁকে ।

কতনা বিচিত্র জীবন সংস্কৃতি
একদিন না পেলে
ভুলে যায় স্মৃতি ,
স্বার্থের মোহে অন্ধ মানুষ
লাভের গায় গীতি ।।

কতনা অদ্ভূত মানুষ
অবুঝ তার মন,
সত্যকে আড়াল করে
মিথ্যার অনুশীলন।

কতনা অসহায় মানুষ
যত পায় তত চায় ,
অফুরন্ত চাহিদা তার
অভাব থেকে যায় ।

কতনা অবুঝ মানুষ
হিসেবের খাতায় ভুল
ক্ষনিকের মোহ মায়ায়
সৃষ্টির প্রেমে আকুল ।

কতনা অসহায় মানুষ
হেরে যায় টাকার কাছে
লোভের কাছে
বন্ধুত্বের কাছে
কখনো ভালবাসার কাছে ।

কতনা অসহায় মানুষ
হেরে যায় বিবেকের কাছে
সময়ের কাছে
অবশেষে মৃত্যুর কাছে ।

কতনা অসহায় মানুষ
উজাড় করে জীবন,
একদিন নিজেই বোঝা
কেউ থাকেনা আপন।

কতনা অসহায় মানুষ
জানেনা তার কখন মরণ,
যেতে হবে ছেড়ে
মায়ার বাঁধন,
সব যাবে মুছে
কেউ করবেনা স্মরণ ।

এই বুঝি দুনিয়ার নিয়ম
বিদায়ের পরিনতি,
হাসি আর কান্নার মাঝে
জীবনের ইতি ।

রচনাকাল: ১৫/১২/২০২৫

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ