আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

ঊনিশ শতকের ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানরা ছিল সকল পক্ষের দ্বারা শোষিত এক সম্প্রদায়। উপমহাদেশের এক সময়কার শাসকরা ব্রিটিশদের কাছে তাদের শাসন ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি তাদের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অবস্থাকেও হারিয়ে বসেছিল। ব্রিটিশদের প্রতি তাদের বিরাগ ও তাদের প্রতি ব্রিটিশদের সন্দেহপ্রবণতা পাশাপাশি ব্রিটিশদের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবেশি সম্প্রদায়সমূহের মধ্য থেকে নতুন গড়ে ওঠা পুঁজিপতিরা মুসলমানদের জন্য সামগ্রিক পরিস্থিতিকে প্রতিকূল করে তোলে। এরমধ্যে বাংলার মুসলমানদের অবস্থা ছিল সর্বাধিক শোচনীয়।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে মুসলমানদের বের করে আনার জন্য যে সকল মহাপুরুষ অগ্রসর হন, মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ তাদের মধ্যে অন্যতম। সাংবাদিকতার জগতে বাঙালী মুসলমানের অবস্থান তৈরি এবং তাদের বক্তব্যকে প্রচারের কাজে তিনি অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেন।

১৮৬৮ সালের ৭ই জুন বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট মহকুমার হাকিমপুর গ্রামে এই মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা আবদুল বারী খাঁ ছিলেন সাইয়েদ আহমদ ব্রেলভীর জিহাদ আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য। এমন পিতার সন্তান হিসেবে মাওলানা আকরম খাঁ শৈশব থেকেই ছিলেন বিপ্লবী মানসিকতার মানুষ।
শৈশবেই তিনি তার পিতা-মাতাকে হারান। কিন্তু তাতে হতাশ না হয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। ১৯০০ সালে তিনি কলকাতা আলীয়া মাদরাসা থেকে এফ. এম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

অল্প বয়সেই মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সাথে জড়িত হন। সাংবাদিকতার শুরুতে তিনি ‘আহল-ই-হাদীস’ ও ‘মোহাম্মদী আখবার’ পত্রিকায় কাজ করেন। পরবর্তীতে কলকাতার বিখ্যাত মুসলমান ব্যবসায়ী হা্জী আলতাফের সহযোগিতায় ১৯১০ সালে তিনি ‘সাপ্তাহিক মোহাম্মদী’ নামে এক পত্রিকার প্রকাশ শুরু করেন।

মাওলানা আকরাম খাঁর সম্পাদনায় পত্রিকাটি বাংলা, আসাম সহ ভারত ও বার্মার অন্যান্য স্থানের বাংলাভাষী মুসলমানদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সমালোচনা ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তুর্কি ওসমানী খেলাফতের প্রতি সমর্থন পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকারের ক্রোধের শিকার হয়। ফলে সরকারী আদেশে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

১৯১৩ সালে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর উদ্যোগে বাংলার আলেমদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার মানসে “আঞ্জুমানে ওলামায়ে বাঙ্গালা” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাওলানা আকরাম খাঁ এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। পাশাপাশি ১৯১৫ সালে সংগঠনটির মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হওয়া ‘মাসিক আল-এসলাম’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯১৯ সালে তুর্কি ওসমানী খেলাফতের সমর্থনে ভারতে সৃষ্ট খিলাফত-অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯২০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় খিলাফত কমিটির মহাসম্মেলনে তিনি কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। একই বছর তিনি উর্দু দৈনিক ‘জামানা’ ও পরের বছর ১৯২১ সালে বাংলা দৈনিক ‘সেবক’ প্রকাশ করেন এবং এই পত্রিকা দুটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খিলাফত-অসহযোগ আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে এই দুটি পত্রিকা ভূমিকা পালন করে। ১৯২৩ সালের ১০ ডিসেম্বরে দৈনিক সেবকে “অগ্রসর! অগ্রসর!” শিরোনামে এক সম্পাদকীয় লেখার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে। ব্রিটিশ রাজবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে বিচারে তাকে এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয় এবং দৈনিক সেবক পত্রিকার প্রকাশনার অনুমতি বাতিল করা হয়।

১৯২৭ সালে মাসিক হিসেবে ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকা নতুন করে প্রকাশিত হয়। মুসলিম সমাজের চিন্তাজগতে সংস্কার সাধন ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রচারে মাসিক মোহাম্মদী ভূমিকা পালন করে । এই সময়ে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে সাম্প্রদায়িকতাপূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ ও ভারতের জাতীয় প্রতীক হিসেবে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ‘শ্রীপদ্ম’কে নির্ধারন করার জন্য ভারতীয় হিন্দু নেতৃবৃন্দ দাবী করলে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয় । এ নিয়ে মাওলানা আকরাম খাঁ মাসিক মোহাম্মদীতে তার লেখার মাধ্যমে মুসলমানদের বিরোধীতার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। মূলত মাসিক মোহাম্মদীতে তার লিখনী মুসলমানদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতার জন্ম দেয় । এই সচেতনতার প্রেক্ষিতে তারা ভারতীয় উপমহাদেশে নিজেদের আলাদা আবাসভূমি গড়ে তোলার দিকে অগ্রসর হয়।

১৯৩৬ সালে মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মুসলিম লীগে যোগদান করেন। একই বছর ৩১ অক্টোবর, ‘আজাদ’ নামে কলকাতা থেকে একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকার প্রকাশ শুরু করেন। বাংলা ও আসামের বাঙালি মুসলমানের মুখপত্র হিসেবে পত্রিকাটি বিপুল জনপ্রিয় হয়।

১৯৩৭ সালে তিনি মুসলিম লীগের বাংলা প্রদেশের প্রাদেশিক সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। একই বছর অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের নির্বাচনে পরিষদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। মূলত এসময় তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের কণ্ঠস্বরকে প্রকাশের জন্য সংগ্রাম করেন। একদিকে দৈনিক আজাদের মাধ্যমে তিনি মুসলমানদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য উদ্বুদ্ধ করছিলেন, অপরদিকে প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি ও বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য হিসেবে বাঙালি মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করছিলেন। ১৯৪০ এর দশকে তার নেতৃত্বেই বাঙালি মুসলমানরা ভারতে তাদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র ‘পাকিস্তান’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করলে তিনি ভারতের অধীনস্থ কলকাতা ছেড়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় চলে আসেন। একইসাথে ১৯৪৮ সালের দিকে কলকাতা থেকে দৈনিক আজাদ ও মাসিক মোহাম্মদীকে ঢাকায় নিয়ে আসেন।

১৯৫৪ সালে স্বাস্থ্যগত কারনে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন । তবুও দৈনিক আজাদ ও মাসিক মোহাম্মদীর মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ প্রচার ও প্রতিষ্ঠা এবং বাঙালি মুসলমানদের মাঝে সাংস্কৃতিক সচেতনতা তৈরির জন্য মাওলানা আকরাম খাঁ কাজ করে গেছেন।

শুধু সাংবাদিকতা ও রাজনীতিই নয়, মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ ছিলেন একজন সুসাহিত্যিক । ছাত্রজীবনে বাংলা, ফারসী ও উর্দু ভাষায় তিনি কাব্যচর্চা করতেন। তার রচিত বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে রাসূল (সা.)-এর সীরাতগ্রন্থ ‘মোস্তফা-চরিত’, ‘মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস’, ‘সমস্যা ও সমাধান’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বাংলায় পাঁচ খন্ডে কুরআনের তাফসীর ‘তাফসীরুল কুরআন’ রচনা করেন।

১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার বংশালে আহলে হাদীস মসজিদে নামাজরত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মসজিদ প্রাঙ্গনেই তাকে দাফন করা হয়।মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁর হাত ধরেই বাঙালি মুসলমানের সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি । ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তানি আমলের অনেক প্রথিতযশা মুসলিম সাংবাদিক মাওলানা আকরাম খাঁর তত্ত্বাবধানেই সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ।

সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের বক্তব্যকে প্রচারের ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম অগ্রসর হন । সাফকথায়, সাংবাদিকতায় বাঙালি মুসলমানদের পথনির্দেশনা দানে আলোকবর্তিকা হিসেবে যিনি প্রথম এগিয়ে এসেছিলেন ; তিনিই বহুমাত্রিক বাঙালি মুসলিম সমাজচিন্তক মনীষী মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিশুরাই আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। যে শিক্ষা মানুষকে মানুষ হতে সাহায্য করে না, তা কুশিক্ষা। জে.এম সেন হল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতন ও বিবেকানন্দ সঙ্গীত নিকেতনের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।

তারা আরো বলেন, শিক্ষার বিস্তার ও সংস্কৃতির প্রসার একটি জাতিকে সভ্য জাতিতে পরিনত করে। বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতন ও সঙ্গীত নিকেতন এই গুরু দায়িত্ব পালন করছে। স্কুল পরিচালনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দুলাল কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক চট্টগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী শক্তিনাথানন্দজী মহারাজ, প্রধান অতিথি বিশিষ্ট সমাজসেবী অজয়কৃষ্ণ দাশ মজুমদার, বিশেষ অতিথি শিক্ষাবিদ প্রফেসর রীতা দত্ত, শিক্ষানুরাগী মিহির কান্তি নাথ।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান সম্পাদক তাপস হোড়, অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নারায়ন চৌধুরী। প্রিয়ম কৃষ্ণ দে’র উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে ছিল চিত্রপ্রদর্শনী, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও শিশু শিল্পীদের পরিবেশিত সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশ নিল ৩৪৫ শিক্ষার্থী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: তৃতীয়বারের মতো দেশব্যাপী লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। এরই ধারাবাহিকতায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো এই প্রতিযোগিতা। শনিবার চট্টগ্রামের জামালখানের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্ণাঢ্য এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।পরবর্তীকালে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড চট্টগ্রাম অঞ্চল পর্বের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, মাতৃভাষা গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) আবুল কালাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের সদস্যসচিব ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর ড. খিলফাত জাহান যুবাইরাহ্। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক হাবিবুর রহমান ও ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহেদা আক্তার।

এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চল ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি (ক) ক্যাটাগরিতে ২৩৩ জন এবং দশম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (খ) ক্যাটাগরিতে ১১২ জন শিক্ষার্থী এবং সর্বমোট ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড-এর মূল্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফলাফল ঘোষণা পর্বে ভাষাবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মাতৃভাষা চর্চার মধ্য দিয়েই একটি জনগোষ্ঠী তার মনন, মেধা ও চিন্তা প্রকাশ করে। পৃথিবীতে অনেক মাতৃভাষা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে এসব ভাষা সঠিকভাবে চর্চা না করলে তা মৃত্যুমুখে পতিত হবে। মাতৃভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে ওই ভাষার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিলীন হয়ে যাওয়া। কাজেই বিপন্ন ভাষা চর্চা, অনুশীলন, পুনরুজ্জীবন, নথিবদ্ধকরণ আবশ্যক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এ কাজটি করে যাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তরপর্বে অংশগ্রহণ করে। আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে ফলাফল ঘোষণা করেন এবং সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ২০২৪ সালে প্রথমবার লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয় ক-ক্যাটাগরি: ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি এবং খ-ক্যাটাগরি: ১০ম থেকে ১২শ শ্রেণি। লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড-২০২৬ অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট িি.িরসষর.মড়া.নফ-এ প্রবেশ করে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ২০২৬ সেবাবক্স থেকে রেজিস্ট্রেশন লিংকে ক্লিক করে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে।

এ বছর লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা অঞ্চলসহ মোট ১০টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি অঞ্চল থেকে ক-ক্যাটাগরিতে ১০ জন করে মোট ১০০ জন এবং খ-ক্যাটাগরিতে ১০ জন করে মোট ১০০ জন চূড়ান্ত পর্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। চূড়ান্ত পর্বে ২ ক্যাটাগরিতে ৩ জন করে মোট ৬ জন প্রধান উপদেষ্টার নিকট থেকে একুশের অনুষ্ঠানমালায় পুরস্কার গ্রহণ করবে এবং ক ও খ ক্যাটাগরি থেকে প্রথম স্থান অধিকারী ২ জন এ বছর অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ