আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

,একুশে পদক,এর প্রর্বতক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’

লেখক: জহিরুল ইসলাম

সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। [email protected]

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তি ও মহান রাষ্ট্রনায়ক। জিয়া বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। জাতীয় ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে একজন পরিত্রাণকারী হিসেবে রাজনীতিতে জিয়ার আবির্ভাব। তিনি শতধা বিভক্ত জাতিকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করেছেন। জিয়া দেশপ্রেমে উজ্জ্বল এক অনুভূতির নাম। ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’-ছিল জিয়ার বিশ্বাস ও ধ্যান। তিনি আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শুধু রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে তার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেননি, স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতেও তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ও অবদান রেখে গেছেন।

একুশে পদক বাংলাদেশের একটি জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক প্রদানের বিষয়টি পরিচালনা করে থাকে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতীয় পর্যায়ে গুণীজনদের সম্মানিত করার জন্য এই পুরস্কার একটি বিশেষ জাতীয় স্মারক হিসেবে স্বীকৃত।

একুশে পদক ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম প্রবর্তন করেন। একুশে পদক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও সংস্থাকে প্রদান করা হয়। প্রথম পদক পান আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম,পল্লীকবি জসিম উদ্দিন ও বেগম সুফিয়া কামাল। ইতিহাস থেকে কারো অবদান জোর করে মুছে দেয়া যায় না। সাময়িকভাবে জিয়াকে হেয় করা, তার সোনালি অবদানকে অস্বীকার করার অপতৎপরতা আমরা পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা রেজিমে দেখছি। কিন্তু এ অপপ্রয়াস সফল হয়নি। জিয়াকে ভুলিয়ে দেয়া, তার অবদানকে মুছে ফেলার সাধ্য এ দেশে কারো হবে না। জিয়া থাকবেন দেশপ্রেমিক বিবেকবান প্রতিটি মানুষের অন্তরে এক জীবন্ত প্রত্যয় হিসেবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এর তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের একুশে পদক ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে তুলে দেবেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও আপোষহীন দেশনেত্রী সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র সুযোগ্য সন্তান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যিনি নিজ মেধা মননে, নিজ যোগ্যতায় নেতৃত্বগুনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ টি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ও দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নেতৃত্ব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভুমিধস বিজয় লাভ করেছে। দুই-তৃতীয়াংশ জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠন করেছেন। তিনি ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন পেরিয়ে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। এ পথ অনেক কঠিন। রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে খুনী হাসিনা গং ধ্বংস করে গেছে। দেশের ইতিহাস বিকৃতি করে গেছে। একুশে পদক যিনি প্রর্বতন করেছেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম কে নানা ভাবে হেয় করার প্রচেষ্টা দেশবাসী দেখেছে। ক্ষমতা লোভী হাসিনার কারণে এদেশের শিল্প সংস্কৃতিতে রাজনৈতিক নগ্ন দলীয়করণ হয়েছে ব্যাপকভাবে। শিল্পীরা দলমতের উর্দ্বে।শিল্পী সমাজ যদি দলকানা আচরণ করে তাহলে শিল্প সংস্কৃতি তার স্বকীয়তা হারায়। সবার আগে বাংলাদেশ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের রয়েছে নিজস্ব কৃষ্টি কালচার গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বাহি বিশাল শিল্প-সাহিত্য ভান্ডার। শিল্পীরা থাকবে দল-মতের উর্ধ্বে। সাহিত্যিক, কবি বুদ্ধিজীবিরাও। রাজনীতিবিদরা দেশ চালাবে এটাই স্বাভাবিক। অতীতে সামান্য পুরস্কারের লোভে ইতিহাসের বিকৃতি হতে আমরা দেখেছি। আমরা আশা করবো ভবিষ্যতে এমন ইতিহাস বিকৃতি হবে না। কবি সাহিত্যিক লেখকরা হবে সমাজের দর্পণ। তারা দলকানা হবে না। সত্য প্রকাশে পিছপা হবে না এমনই চাওয়া নতুন বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ৯ জন ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠান কে একুশে পদক-২০২৬ তুলে দিবে। একুশে পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তিরা হলেন-অভিনয়ে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নৃত্যে অর্থি আহমেদ, পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় প্রফেসর ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার ও ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস। এ ছাড়া সংগীতে ওয়ারফেজকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নিয়েছেন খুবই বাজে সময়ে। দেশের অর্থনীতি হতে শুরু করে সব সেক্টর ই করুন দশা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের চেয়েও খারাপ সময়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেকটি রাষ্ট্রীয় অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে নেই কোন চেইন অফ কমান্ড। বৈদেশিক ঋণের বাড়ে দেশের অর্থনীতি কাবু। নেই বিদেশি বিনিয়োগ। কর্মসংস্থানের অভাবে বেকারত্বের হার বাড়ছে প্রতিনিয়ত। আইন-আদালত থেকে ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবি, শিল্পী, শিক্ষাবিদ এমনকি জাতীয় পর্যাযের ক্রীড়াবিদরাও নগ্নভাবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে সুবিধাভোগী। এমন কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের মানুষের আশা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর হাতধরে এদেশে অনেক কিছুতেই নতুনত্ব এসেছিলো। রাষ্ট্রপতি হিসেবে (১৯৭৭–১৯৮১) তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর উদ্যোগে খাল খনন কর্মসূচি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়। একুশে পদক প্রর্বতনের মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও জাতীয় পর্যায়ে গুনীজনদের সম্মানিত করে গেছেন। যার ধারাবাহিকতা আজও চলমান। বাংলাদেশ যতোদিন থাকবে একুশে পদকের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও গুনীজনদের প্রতি এই সম্মাননা ততোদিন চলতে থাকবে। আমরা চিরঋনী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর কাছে। দেশের প্রত্যেকটি সেক্টর ই উনার ভিশনারী নেতৃত্বের সুফল আজও আমরা পাচ্ছি।

বাংলাদেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত করে জিয়া ইতিহাসে নিজের অক্ষয় স্থান নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বহুদলীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, সময়োপযোগী গতিশীল পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অবস্থান ও গতিপথ নির্ধারণ এসব বহুমাত্রিক সাফল্যের কথা সুবিদিত এবং বহুল চর্চিত। শহীদ জিয়া ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। এ দেশের গরিব মেহনতি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ছিল তার অন্যতম জীবন সাধনা। ২০২৬ সালের একুশে পদক বিতরণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম কে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্মরণে বরণে  ভোলার বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

 

 

রিপন শান #

পলিমাটির জনপদ দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৪ নং কাচিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ’র নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ মার্চ ২০২৬ । বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ ১৯৪৪ সালের ২৭ এপ্রিল ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিজ গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আব্দুল হাই, মাতা শামর্থ ভানু।

ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও পারিবারিক সুত্র থেকে জানা যায় : তারুণ্যে পদার্পণ করেই তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। অকুতোভয় এ সাহসী সৈনিক তাঁর কর্মজীবনে নানা প্রতিকুলতার মাঝেও রেজিমেন্টের বিভিন্ন ইভেন্টে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এরমধ্যে, ২৯ বার হেলিকপ্টার হতে প্যারাসুট জাম্প ও দীর্ঘ দৌড়ে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন । কর্মজীবনে তিনি পাকিস্তান, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার, করাচি এবং দেশের বিভিন্নস্থানে দক্ষতা ও আনুগত্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি যশোর সেনানিবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিদ্রোহ করেন এবং, মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্সের অধীন যশোর অঞ্চলে তিনি যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ বিজয়ের শেষদিকে সাথী যোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে ডান হাতে পাঁচটি গুলিবিদ্ধ হন। এসময় শত্রু পক্ষের অনেকেই ঘটনাস্থলে মারা যান। অতঃপর বহু প্রতিকুল পথ পেরিয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। তিনিই প্রথম ভোলা জেলার মুক্তিযোদ্ধা ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি কর্ণেল এমএজি ওসমানীর সান্নিধ্য পান।

বীরযোদ্ধা আব্দুর রউফের নিজ এলাকা কাচিয়া ইউনিয়নে তিনি ছিলেন দলমতের উর্ধ্বে একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব। এ প্রসংগে বীরমুক্তিযোদ্ধার সাথী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান : “১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ সকাল ৮ টার সময় যশোর ক্যান্টম্যান্টের ১ম ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টের ওপর তিনদিক থেকে পাকহানাদার বাহিনী (নাইন ভেলুস) হামলা চালায়। সেই যুদ্ধে নায়েক গাজী আব্দুর রউফ নিজের জীবনকে বিপন্ন জেনেও এমএমজি (মিডিয়াম মেশিন গান) দিয়ে হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।এসময় পাকবাহিনীর অনেকে হতাহত হন। সেদিন, রউফ সাহেব এগিয়ে এসে যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলবো না। ”

একজন রাষ্ট্রস্বীকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মু্ক্তিযুদ্ধের ওয়েবসাইটের লাল মুক্তিবার্তায় ক্রমিক নং ০৬০৪০৬০০০৩৮/২০০১, বেসামরিক গেজেট ৩৩৫/১৭এপ্রিল২০০৫, সামরিক গেজেট সেনা ৩২১২ নথিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ ২০১৭ সালের ১২ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে ভোলার নিজ বাড়ি০৪ নং কাচিয়া ইউনিয়নের ফুলকাচিয়া ০৫ নং ওয়ার্ডে সেনাবাহিনীর গার্ড অব রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন তৌহিদের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। মরহুমের প্রথম জানাজা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মসজিদ মাঠে এবং দ্বিতীয় জানাজা নিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

তাঁর জানাজায় যশোর ক্যান্টমেন্টের সেনাবাহিনীর একটি টিম, বীর মুক্তিযোদ্ধাগন, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং স্থানীয় সকল শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আছিয়া বেগম, ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে যান। তাঁর বড় পুত্র সাংবাদিক ও লেখক ডা. গাজী মো. তাহেরুল আলম লিটন, ছোট সন্তান গাজী মো. হাসান ও কন্যা রূপজান বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক, গাজী মো. হোসেন অব. সেনা সৈনিক, গাজী মোক্তাদির ও গাজী মো. রানা সম্মানজনক পেশায় কর্মরত ।

দেশ ও জাতির কৃতি সন্তান এ বীরসেনানীর মৃত্যুতে নিজ এলাকার সামাজিক ও আদর্শিক উন্নয়নকর্মে তাঁর শুন্যতা আজীবন থাকবে। যতোদিন রবে মেঘনা তেতুলিয়া ইলিশা বঙ্গোপসার বহমান থাকবে; যতোদিন স্বাধীনতার লালসবুজ পতাকা পতপত করেউড়বে বাংলার আকাশে, ততোদিন দ্বীপজেলা ভোলার বীরসন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম গাজী আব্দুর রউফের নাম ও জীবনস্মৃতি অক্ষয় হয়ে থাকবে।

বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ : এক সাহসী দেশপ্রেমিকের জীবনকথা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অসংখ্য বীর সন্তানের আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সেইসব গৌরবোজ্জ্বল নামের ধারাবাহিকতায় বীর চট্টলার এক কৃতী সন্তান হলেন বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ। তিনি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই নন, বরং একজন সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে সমাজে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর জীবন সংগ্রাম, চিন্তা-চেতনা ও কর্মধারা দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মহান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ তিনি সরাসরি গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। দুঃসাহসিক অভিযান, অদম্য মনোবল ও দেশমাতৃকার প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যুদ্ধের সময় তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সেই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা আজও দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়।

ফজল আহমদ একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সুবক্তা হিসেবেও পরিচিত। সমাজ, রাষ্ট্র, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে তাঁর চিন্তা ও লেখনী পাঠকের কাছে গভীর অনুপ্রেরণা জাগায়। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজের উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন সংগঠক হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন রত্নগর্ভ পিতা ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ। তাঁর পরিবার ও সমাজজীবনে সততা, আদর্শ ও নৈতিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। মানবকল্যাণ ও সমাজসেবামূলক কাজে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে একজন আলোকিত নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি আজীবন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ধারণ করেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর জীবনদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই আদর্শকে ধারণ করেই তিনি সমাজে ন্যায়, মানবতা ও দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের গর্বিত সন্তান হিসেবে ফজল আহমদের অবদান স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সাহসী বক্তব্য, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বগুণ তাঁকে সময়ের একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁর সততা, সাহস ও দেশপ্রেমের জন্য তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।

সংগ্রাম, আদর্শ ও দেশপ্রেমে ভাস্বর এই মানুষটি আমাদের জাতীয় জীবনের এক মূল্যবান সম্পদ। বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদের জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর মতো দেশপ্রেমিক মানুষের অবদানই বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ ও গৌরবান্বিত করেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ