আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত ডার্মাটাইটিস ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে প্রায় ৬২ শতাংশ প্রবীণ জনগোষ্ঠী ডার্মাটাইটিস ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত। প্রায় ৫ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় প্রবীণদের চর্মরোগ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, দীর্ঘমেয়াদি রোগের উপস্থিতি, পরিবেশগত প্রভাব এবং সচেতনতার ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আক্রান্তের কারণে দৈনন্দিন জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন গবেষণায় ওঠে এসেছে, বয়স ৬০ বা তার বেশি বয়সী রোগীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ডার্মাটাইটিস (ত্বকের শুষ্কতা ও প্রদাহজনিত রোগ) ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবীণদের প্রায় ৬২ শতাংশ আক্রান্ত এ দুই চর্মরোগে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডায়াবেটিসের সঙ্গে সংক্রামক চর্মরোগের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ও কম শিক্ষিত রোগীদের মধ্যে ছত্রাক সংক্রমণ বেশি, যা স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতনতার অভাবের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (সিআইএমসিএইচ) ডার্মাটোলজি বহির্বিভাগ ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই তিন বছরে আসা ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪ হাজার ৭৭০ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে। তাদের এই পর্যবেক্ষণে প্রবীণদের মধ্যে ডার্মাটাইটিস ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণ প্রধান চর্মরোগের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সজনিত ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, দীর্ঘমেয়াদি রোগের উপস্থিতি এবং পরিবেশগত প্রভাব মিলেই প্রবীণদের চর্মরোগ বাড়াচ্ছে। ত্বকের সাধারণ শুষ্কতাকে অবহেলা করার ফলেই অনেক ক্ষেত্রে জটিল ডার্মাটাইটিস বা সংক্রমণে রূপ নিচ্ছে। তাই রোগের প্রকৃতি ও ঝুঁকির কারণগুলো জানা থাকলে উন্নত চিকিৎসা পরিকল্পনা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং রোগীর ব্যবস্থাপনা সহজতর হবে।

ডার্মাটোলজি ও ভেনেরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আরা বলেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ত্বকসহ শরীরের সব অঙ্গ পরিবর্তিত হয়। ত্বক পাতলা হয়ে যায়, আর্দ্রতা কমে, পুনর্গঠন ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে প্রবীণদের মধ্যে চর্মরোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে, এই বয়সে চর্মরোগের প্রকৃতি ও বিস্তার জানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, ডার্মাটাইটিস, বিশেষ করে ইরিটেন্ট বা এলার্জিক কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস, বয়সজনিত ত্বকের শুষ্কতার কারণে বেড়ে গেছে। ছত্রাকজনিত সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ও কম শিক্ষিত রোগীদের মধ্যে, যা স্বাস্থ্যবিধি অজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, উন্নত চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো গবেষণা। রোগ ও রোগী নিয়ে নিয়মিত গবেষণা ছাড়া নতুন চিকিৎসা ও সেবার দ্বার উন্মোচন সম্ভব নয়। গত এক দশক ধরে আমরা চিকিৎসা খাতের বিভিন্ন রোগ ও রোগী নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করছি।
সিআইএমসির ডার্মাটোলজি ও ভেনেরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আরার পরিচালিত গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ডার্মাটাইটিসে আক্রান্তের হার ৩৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আর ছত্রাকজনিত সংক্রমণ ২২ দশমিক ০৫ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য চর্মরোগের মধ্যে গবেষণায় স্ক্যাবিস, সোরিয়াসিস, বুলাস ডিজিজ, ঔষধজনিত ত্বক প্রতিক্রিয়া এমনকি কিছু স্কিন ক্যানসারের রোগীও শনাক্ত হয়েছে। যা প্রবীণ বয়সে চর্মরোগের বহুমাত্রিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, সামগ্রিকভাবে প্রবীণদের মধ্যে অ-সংক্রামক চর্মরোগের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ। আর সংক্রামক রোগের হার ছিল ৪০ দশমিক ২ শতাংশ। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৬৫ দশমিক ৬ বছর। এর মধ্যে ছিল ২৮৬২ জন নারী (৬০%) এবং ১৯০৮ জন পুরুষ (৪০%)। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ বেশি, আর নারীদের মধ্যে কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ