আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম-৯ আসন ভোটারের সমর্থন আদায়ের লড়াইয়ে ব্যাস্ত ধানের শীষের সুফিয়ান, দাঁড়িপাল্লার ফজলুল।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনে জয়ের জন্য দিনরাত মাঠ-ঘাট, অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। অন্যান্য আসনের মতো চট্টগ্রামের এ আসনটিতেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটারের বিবেচনায় আছেন বিএনপি মনোনীত আবু সুফিয়ান এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. একেএম ফজলুল হক। মূল লড়াইয়ের আগে ভোটারের সমর্থন আদায়ের লড়াইয়ে উভয় প্রার্থীই যেন সমানে-সমান! গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণায় কেউ যেন পিছিয়ে না পড়েন, উভয়ের প্রাণান্ত চেষ্টা নজরে পড়ছে যে কারও। আবু সুফিয়ান না-কি একেএম ফজলুল হক, কাকে বেছে নেবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের ভোটারেরা, না-কি কোনো চমক অপেক্ষা করছে, সেটা জানা যাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর।
চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসন। শহরের মূল পয়েন্টকে ঘিরে এ আসনের অবস্থান হওয়ায় যে কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত। এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়াকে বিশেষ মর্যাদার বিবেচনা করা হয়, যার কারণে মূল রাজনৈতিক দলগুলোর মরিয়া চেষ্টা থাকে নিজেদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার। প্রার্থীও মরিয়া হয়ে মাঠে নামেন, অতীত নির্বাচনগুলোর ইতিহাস তাই বলে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় আছেন মোট ১০ জন। এদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া প্রচারে ঘাম ঝরাচ্ছেন কাঁচি মার্কায় বাসদের (মার্কসবাদী) প্রার্থী শফি উদ্দিন কবির আবিদ ও চেয়ার প্রতীকে ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ। গণসংযোগ, মিছিল-পথসভার মধ্য দিয়ে এই দুই প্রার্থীও ভোটারদের আলোচনায় এসেছেন।প্রার্থীদের মধ্যে আরও আছেন- নাগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার মজুমদার, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ হাসান মারুফ, জনতার দলের হায়দার আলী চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস শুক্কুর, জেএসডি’র আবদুল মোমেন চৌধুরী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন।

জানা গেছে, নগরীর কোতোয়ালী, চকবাজার এবং বাকলিয়ার মোট ১৪টি ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-৯ আসনের অবস্থান। এর মধ্যে শিক্ষিত-সচেতন নাগরিকদের আধিক্য আছে কোতোয়ালী-চকবাজার অংশে আর বাকলিয়ায় আছেন শ্রমজীবী ও ভাসমান মানুষের আধিক্য। আবার আসনটিতে সংখ্যালঘু আছেন মোট ভোটারের অন্তত ৩৫ শতাংশ। প্রায় সমসংখ্যক শ্রমজীবী-ভাসমান মানুষ আছে বাকলিয়ায়।

এ আসনে মোট ভোটার সোয়া ৪ লাখের মতো। এর মধ্যে দেড় লাখেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোটার বলে ধরা হয়। বাকলিয়ায় আছে সোয়া লাখের মতো ভোটার।
রাজনীতি সচেতন বাসিন্দাদের মতে, বাকলিয়া বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, তবে জামায়াতের সমর্থকের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। এবারের প্রেক্ষাপটে বাকলিয়ার ভোট দুই ভাগে ভাগ হবে। সেক্ষেত্রে ভোটে জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হবে সংখ্যালঘুরা। এ বাস্তবতা মাথায় রেখে ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দুজনই সংখ্যালঘুদের কাছে টানার চেষ্টায় যেমন আছেন, তেমনি চষে বেড়াচ্ছেন বাকলিয়ায়ও।

বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান একেবারে ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতা। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সামনের কাতারে আছেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদেও ছিলেন। তিনি মূলত নগরীর চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা, যেটি চট্টগ্রাম-৮ আসনের মধ্যে পড়েছে। ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের আমলে তিনি দুই দফায় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি এবার তাকে ওই আসন থেকে সরিয়ে এনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছে।

আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও বিএনপির দলীয় কার্যালয় ঘিরে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরব সুফিয়ান অবশ্য এ আসনের ভোটারদের মধ্যেও পরিচিত মুখ। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে পাশে পাওয়ায় নির্বাচনের মাঠে বাড়তি জোর পাচ্ছেন সুফিয়ান।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী একেএম ফজলুল হক চিকিৎসক হিসেবে চট্টগ্রামে পরিচিত মুখ। পারিবারিকভাবেও তার ভালো পরিচিতি আছে। এলাকায় সজ্জন মানুষ হিসেবেই তাকে লোকজন চেনে। রাজনীতির মাঠে অত বেশি পরিচিত না হলেও সমাজসেবার কারণে তার আলাদা একটি ভাবমূর্তি আছে। তবে আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতায় প্রথম দফায় তার মনোনয়ন বাতিল হলে তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। পরে অবশ্য প্রার্থিতা ফেরত নিয়ে এসে মাঠে নেমে গেছেন জোরশোরে।

মাঠের ‘পোড়খাওয়া’ নেতা আবু সুফিয়ান এবং ‘ভদ্রলোক’ ফজলুল হককে ঘিরেই আবর্তিত চট্টগ্রাম-৯ আসনের ভোটের মাঠ। প্রচারে নেমে মাঝেমধ্যে অবশ্য দুজন দুজনের দিকে খানিকটা তীর ছুড়ছেন। যেমন- ফজলুল হকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আমলের কোনো মামলা নেই। অথচ সুফিয়ানের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা। সুফিয়ানের সমর্থকরা যখন ভোটারের কাছে সেটা তুলে ধরে সহানুভূতি চাচ্ছেন, তখন ফজলুল হক সুফিয়ানের ‘আয়ের উৎস’ জানতে চেয়ে কামান দাগেন। জবাবে সুফিয়ান তার মার্কিন নাগরিকত্ব ও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আয় বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ করেন।

তবে এসব কথার যুদ্ধ ছাপিয়ে উভয়ের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিই ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি। সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টানা; এসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে সুফিয়ানের প্রচার। তবে গণসংযোগে যেসব অলিগলিতে যাচ্ছেন, সেখানকার বাসিন্দাদের সমস্যা, অভাব-অভিযোগ শুনে সমাধানের আশ্বাসও মিলছে সুফিয়ানের কাছ থেকে। এক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের চেয়ারে আছেন বিএনপি নেতা শাহাদাত, যা নিয়ে ইতোমধ্যে এনসিপি অভিযোগ তুলেছে।
আবু সুফিয়ান বলেন, আমাদের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব আছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেটা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে। আরেকটা হচ্ছে, স্থানীয়ভাবে নানা সমস্যা আছে। যেমন-জলাবদ্ধতা। এটা সমাধানে জোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাকলিয়ার অনেক এলাকা অনুন্নত রয়ে গেছে। সেখানে মানুষের নানা অভিযোগ আছে। আমি সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। ভোটারদের কাছে আমার বার্তা হচ্ছে; আমি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারি, আমি সেটাকে পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমানত হিসেবে গ্রহণ করব।

ক্ষমতার দাপট দেখানো, মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, সন্ত্রাস, মাদক, কিশোর গ্যাং; এসব চলতে পারবে না।অন্যদিকে ফজলুল হক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এলাকায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, চাঁদাবাজি প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাকলিয়ায় গণসংযোগে গিয়ে ঘোষণা করেছেন, তিনি নির্বাচিত হতে না পারলেও বাকলিয়ায় ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল করে দেবেন। ফজলুলের এই প্রতিশ্রুতি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বাকলিয়াকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা, মাদক ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাসও দিচ্ছেন। ফজলুল হক প্রতিদিনই চট্টগ্রাম-৯ আসনের বিভিন্ন অলিগলিতে একাধিক মিছিল, পথসভা করছেন। পুরো এলাকাকে শান্তিতে বসবাসের জন্য নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলা, তরুণদের কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা সহজ ও দুর্নীতি করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রচারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন-বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া যতবারই দেশ পরিচালনা করেছে ততবারই দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দেখা পেয়েছে। জিয়া পরিবারের সুুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

 

মানুষের যে মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করে; দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রুপ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, ই হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মত কল্যাণমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “ঈদবস্ত্র বিতরণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৫০০ মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের সেবা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, জনগণের কাছে আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপি-কাউন্সিলররা জনগণের পাশে ছিলনা। জনগণের ভাগ্যন্নোয়নের কথা বলে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। সে পাচারের টাকায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীরা এখন বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে।

৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু তালেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. ইসমাঈল বালি, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজ সেবক বাবু দিলীপ মজুমদার, পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. শহিদুল হক, আশরাফুল ইসলাম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শফিকুল আলম, মোহাম্মদ হামিদ, জিয়া সাইবার ফোর্স বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বাহাউদ্দিন ফারুক মুন্না, কোতোয়ালি থানা তাঁতি দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. শেখ আলী মিঠু , প্রবাল কৃষ্ণ, মোহাম্মদ সেলিম, যুবদলের মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নাদিম, রিয়াজ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ তুহিন,  সদস্য সচিব মো. জসিম, কোতোয়ালী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মারুফ,  কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. হোসেন মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ।

নারীদের শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচীর মধ্যে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অন্যতম। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদেরকে স্বনির্ভর, আত্মপ্রত্যয় এবং শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে মেয়েদের জন্য এইচ.এস.সি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এছাড়া নারীদের সার্বিক কল্যাণে তিনি অনেকগুলো কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য পুত্র বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্সমতায় আসার পর নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও বেগবান করতে প্রত্যেক নারীকে উদ্যেক্তা হিসেবে গড়ে উঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা কাজও শুরু করেছেন।


সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পর্যায়ে ৩ ক্যাটাগরিতে ৪ জন অদম্য নারীকে ফুল, ক্রেস্ট ও সনদপত্রসহ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা হচ্ছেন-শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল হালিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনা, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের মেয়ে শমলা বেগম, সফল জননী নারী ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আমিন আহমদ ভূঁঞার স্ত্রী বেগম তাজকেরা চৌধুরী ও সফল জননী নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার চান্দনপুর পাখাচং গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে বিলকিছ বেগম। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা তাদের জীবন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈরী পরিস্থিতিতে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা বলে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা মেরামতের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বিএনপি ৩১ দফা ঘোষনা করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফার ৮টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-ফ্যামিলি কার্ড। এটি পাবেন পরিবারের প্রধান নারী। কোন রাজনৈতিক বিবেচনা বা জনপ্রতিনিদিদের মাধ্যমে নয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ তালিকার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে, যাতে পরবর্তীতে কোন সরকার এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি জেলার ১৪টি ওয়ার্ড/উপজেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সবক’টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত অদম্য নারীদের বক্তব্যের আলোকে তিনি বলেন, আজকের অদম্য নারীদের মধ্যে এ পুরস্কার সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে-ইউনিয়নে-পৌরসভা-উপজেলা-থানা-নগর ও জেলা পর্যায়ে এটি ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নারী সম্মানের হকদার। বাংলাদেশে যত নারী আছেন তারা কোন না কোন জায়গায় অদম্যতার পরিচয়ে ঠিকে আছেন। অদম্য নারীদের জীবন-যুদ্ধে হার না মানার কাহিনীর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার এবং সমাজের অন্যান্য নারীদেরকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমরা বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে চাই, চট্টগ্রামের জন্য অনেক কিছু করতে চাই, এজন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, সংবিধানে সকলের সমান অধিকার। ১৯ কোটি মানুষের দেশে ৪ কোটি মানুষও যদি কর্মক্ষম বা অর্থনীতির বাইরে থাকে তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা কাঙ্খিত উন্নয়ন কোনভাবে সম্ভব নয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা উদ্যেক্তা হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে এবং উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে যদি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, সমতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে আমাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদেরকে সাথে নিয়ে পথ চলতে হবে। উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষের সমতা আনায়ন অত্যন্ত জরুরী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো.জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অদম্য নারী পুরস্কার কর্মসূচীর অতিরিক্ত পরিচালক ও কর্মসূচী পরিচাল মোঃ মনির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিচালক (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অদম্য নারীগণ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ