আজঃ সোমবার ২৫ মে, ২০২৬

দৈনিক ১২শ’ র উপরে চক্ষু রোগীর সেবা দিতে সক্ষম ‘চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল’।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চক্ষু চিকিৎসা সেবায় দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। একসময় ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও গুণে ও মানে এখন তারা আন্তর্জাতিকমানের দাবিদার। যার খ্যাতি ও সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বহিবিশ্বেও।সেবার মানসিকতাই তাদের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এটি।

প্রতিষ্ঠানটি সকলের কাছে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল নামে পরিচিত। এক সময় ছোট পরিসরে এই চিকিৎসাসেবা শুরু করলেও এখন হাসপাতালের দুই লাখ বর্গফুট ফ্লোরের ৩টি ব্লকে রয়েছে ১০০টি সাধারণ শয্যা,৩১টি বিভিন্ন ধরনের কেবিন এবং ৮টি বিশ্বমানের অপারেশন থিয়েটার। গত ৫৩ বছরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের চোখের চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করে। বছরে অস্ত্রোপচার করে আসছে প্রায় ২৭ হাজার রোগীর। দূর্ভাগ্যবশত এ গর্বিত যাত্রায় সম্প্রতি কিছু স্বার্থন্বেষীমহল অপ্রপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত পারিবারিক আক্রমন চালিয়ে দরিদ্র চিকিৎসাপ্রার্থীদের বিভ্রন্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বার্থন্বেষীমহল এ মহলের বিভিন্ন সমস্যাও মোকাবেলা করে আসছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ৩০-৪০ জনের একটি দল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ক্যাম্পাসের ভেতরে বিএনএসবি, চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক, চিকিৎসক ও ট্রাস্ট বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের উপর বেআইনি আক্রমণ চালায়। তবে কর্তৃপক্ষের দৃঢ মনোভাবে স্বাস্থ্যসেবা একদিনও বন্ধ থাকেনি বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ছায়া ঘেরা সুনিবিড় পরিবেশে গড়ে ওঠা এ হাসপাতালটি চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও উদ্দেশ্য ছিল গরীবদের চক্ষু চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব নিবারণ ও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া। শুরু থেকেই অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন হাসপাতালটিকে একটি পূর্নাঙ্গমানের রূপ দিতে স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্নের সারথী অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কয়েকজন সমাজ কর্মীর উদ্যোগে মাত্র ৩৬শ’ টাকা মূলধনে জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির নামে প্রথমে চিকিৎসা সেবা শুরু করেন। পরবর্তীতে ৪০ শষ্যায় রূপান্তরিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন “ইংল্যান্ডের রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি ফর দি ব্লাইন্ড” এর তৎকালীন পরিচালক স্যার জন উইলসন। এভাবেই অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চালিয়ে যান মানুষের চিকিৎসা সেবার কাজ। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানির ‘আন্দেরি হিলফি’ নামে একটি সংস্থার প্রেসিডেন্ট মিস রোজী গোলমম্যান বাংলাদেশে আসেন। অন্ধত্ব নিবারণ ও নিরাময়ে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করতে চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের। স্বপ্নের শুরু সেখানেই। ১৯৮৩ সালে এসে আরও ডালপালা বাড়ে এ স্বপ্নের। অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের চোখে থাকা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে আরও কয়েকজন। এদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জহুর আহম্মদ চৌধুরী, এ কে খান, অধ্যাপক এম.এ আমিন, ডা. ছমিউদ্দীন, ডা. এস আর দাশ প্রমূখ। শুরুতেই শিল্পপতি এ.কে.খান ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি।

১৯৮৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও এর আগে ১৯৭৯ সালের ১৯ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। তবে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় ভূমির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে সারাদেশে তিনশতধিক চিকিৎসক উচ্চতর ডিগ্রীর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়। আরও সহস্রাধিক চক্ষু সেবা প্রদানকারী নিয়োজিত নার্স ও প্যারামেডিক (এমএলওপি) তৈরি করে হাসপাতালটি। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক লোককে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ। আরও সহস্রাধিক চক্ষু সেবা প্রদানকারী প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি করেছে এ হাসপাতাল। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১২ শতাধিক রোগী এ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এ ছাড়া ইমার্জেন্সি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। প্রতিদিন গড়ে ১৫০-১৬০জন রোগীর অপারেশন করানো হয়।

হাসপাতালটিতে ৫০ জন চিকিৎসক ও ৪৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। একটি ট্রাস্টি বোর্ডের আওতায় পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে দেশের বাইরে থেকেও উচ্চ প্রশিক্ষণ নিতে অনেকেই ছুটে আসেন। চক্ষু পরিচর্যায় ডাক্তারদের এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে প্রাথমিক চক্ষু বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিশুর চোখের ক্যান্সার নির্ণয়ে দেশে প্রথমবারের মতো একটি বিভাগও খোলা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশের চক্ষু সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে তাল মেলাতে ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকস এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল ব্যক্তির জন্য এখানে ‘হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’ চালু করা রয়েছে। এছাড়া ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সিইআইটিসি এর মাধ্যে একাডেমিক চুক্তির মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন কমিউনিটি অফথালমোলোজি (ডিসিও) কোর্স শুরু হয়। এরপর ১৯৯১ সালে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলোজি (আইসিও) এর যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে হতদরিদ্র রোগীদের জন্য বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করছে বিএনএসবি ও সিইআইটিসি।
সিইআইটিসি’র প্রতিষ্ঠাতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন,

মানসম্পন্ন চক্ষু সেবা প্রদান এমনকী চক্ষু চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ উন্নয়ন ও একটি উৎকৃষ্ট চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমার স্বপ্ন। এত বড় প্রতিষ্ঠান করবো এমন কোন পরিকল্পনা ছিলনা। এ অবস্থায় পৌঁছানোর সবার সহযোগিতা রয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালটির পেছনে এই দেশের জনগণ, কতৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশী-বিদেশী কিছু দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তা এটিকে সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করে। এই কার্যক্রম প্রথমে ছানি রোগীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ধাপে ধাপে অনুধাবন হয় যে দক্ষ চিকিৎসক, জনবল ও কারিগরি দক্ষতা ছাড়া উন্নত চিকিৎসা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আর এই উপলব্ধি ও চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল। আজ এটি চক্ষু রোগের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সমান দক্ষতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। দেশ বিদেশের উন্নত চক্ষু চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও নানাবিধ সেবার আশ্রয়স্থল এই হাসপাতাল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আমাদের সন্তানেরা আজ হতাশ :চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ও চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে শিশু ধর্ষণের কয়েকটি ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত।

আমাদের সন্তানেরা কিভাবে নরপশু হলো, কা-কে দেখে হলো, কেন আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদ নয়-বিষয়গুলো প্রত্যেকের ভেবে দেখা দরকার। আজকে রহিম-করিমের (ছদ্মনাম) সন্তান আহত হচ্ছে, কালকে আমাদের সন্তান আহত হবে-এটা আর হতে দেব না। যেখানে এ ধরণের ঘটনা ঘটবে সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে। এখন থেকে শিশু ও নারীদেরকে সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন জরুরী। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে শিশু ও নারীদের প্রতি সহিংসতা এবং ক্ষতিকর প্রথা প্রতিরোধ’-বিষয়ক পিভিএইচপি প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের ইনসেপশন কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্মশালার আয়োজন করেন।

ডিসি বলেন, শিশু ও নারী সহিংসতার ঘটনাগুলো যেভাবে ভাইরাল হচ্ছে সেগুলো দেখে আমাদের সন্তানেরা আজ হতাশ। এ ধরণের ঘটনা আমরা কখনো প্রত্যাশা করি না। বিবেকের কাছে পরাজিত না হয়ে আমরা নিরাপদ রাষ্ট্র গড়তে চাই, নারী-শিশুদেরকে সুরক্ষিত রাখতে চাই। কর্মকর্তাদের উপর নিজ নিজ অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে বা সকলে আত্মশুদ্ধ হলে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।

কর্মশালায় অন্যান্য ঊক্তারা বলেন, ইদানিং শিশুদের ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও নির্যাতনের মত ঘটনা আমরা সহ্য করতে পারি না। শিশু ও নারী নির্যাতনের মত ঘটনাগুলো যেভাবে ভাইরাল হচ্ছে তা দেখে আমাদের সন্তানেরা হতাশ। তাদের সুরক্ষায় এগিয়ে আসার পাশাপাশি জনসচেতনা খুবই জরুরী। সন্তানের প্রতি পিতা-মাতাকে আরও দায়িত্ববান হতে হবে, তাদেরকে নীতি-নৈতিকতা শিখাতে হবে। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সকল ধরণের সহিংসতা, শোষণ, অপব্যবহার ও অবহেলা থেকে শিশু-নারীদেরকে রক্ষা করা এবং এ ধরণের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জেলা পর্যায়ের কর্মশালায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ‘শিশু ও নারী সুরক্ষা এবং এর মূলনীতি’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পিভিএইচপি প্রকল্পের প্ল্যানিং কর্মকর্তা মোঃ আবু সালেহ। বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিন উদ্দিন (আনোয়ারা), ফারহানুর রহমান (পটিয়া), মোঃ আবদুর রহমান (চন্দনাইশ), সজীব কান্তি রুদ্র (কর্ণফুলী), ফখরুল ইসলাম (সীতাকুন্ড), মোঃ নাজমুল হাসান (রাঙ্গুনিয়া), খোন্দকার মাহমুদুল হাসান (সাতকানিয়া), মেহেদী হাসান ফারুক (বোয়ালখালী), সাঈদ মোঃ ইব্রাহিম (ফটিকছড়ি), এসএম রাহাতুল ইসলাম (রাউজান), জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ, জেলা পুলিশ পরিদর্শক কবির হোসেন, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা থোয়াইনু মং মার্মা, আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের পেশ ঈমাম মুফতি এহসানুল হক জিলানী, ব্র্যাক’র রিজিওনাল ম্যানেজার হামিদুল হক প্রমূখ। বিভিন্ন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, গণমাধ্যমকর্মী ও স্টেকহোল্ডারগণ কর্মশালায় অংশ নেন।

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে চার দফা দাবি আদায়ে শ্রমিকরা মাঠে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি আদায়ে মাছে নেমেছে। শনিবার সকালে নগরের পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থিত রিফাইনারির প্রধান ফটকের সামনে তারা সমাবেশ করেন। এ সময় শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দেন এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী দ্বিবার্ষিক চুক্তিনামা সম্পাদন, পার্সোনাল পে বাস্তবায়ন, আবাসন সুবিধা নিশ্চিতকরণসহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে শ্রমিক-কর্মচারীরা।ইস্টার্ন রিফাইনারি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন, গত ১৮ মে থেকে ৪ দফা দাবিতে শ্রমিক কর্মচারীদের আন্দোলন সংগ্রাম চলছে।

পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সিবিএ নেতারা বলেন, শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী আগের নিয়মে ২০২৩-২৪ সালের দ্বিবার্ষিক চুক্তিনামা অবিলম্বে সম্পাদন করতে হবে। পাশাপাশি পার্সোনাল পে বাস্তবায়ন, শ্রমিক-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পদোন্নতি নীতিমালা সংস্কারের দাবি জানান তারা।সমাবেশে ইস্টার্ন রিফাইনারি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ