আজঃ সোমবার ২০ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট : বৃহৎ দুই সার কারখানা সিইউএফএল ও কাফকো’’র উৎপাদন বন্ধ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দুটি বৃহৎ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)’র উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ফলে সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যায়।

পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, সিইউএফএল স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে। অন্যদিকে কাফকোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত রয়েছে।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর। পর্যাপ্ত চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ছাড়া উৎপাদন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। কম চাপের গ্যাসে উৎপাদন অব্যাহত রাখলে যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার সরবরাহ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে দুই কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর দীর্ঘ সাড়ে ছয় মাস বন্ধ থাকার পর বহুল আলোচিত রাষ্ট্রায়ত্ত সিইউএফএল পুনরায় চালু করা হলেও তা ১২ ঘণ্টাও উৎপাদন সচল রাখতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এরপর কয়েক দফায় যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাস সংকটসহ নানা কারণ দেখিয়ে কারখানাটি চালু ও বন্ধের মধ্যে ছিল। সবশেষ আবারও গ্যাস সংকটে বন্ধ হলো কারখানাটি।অন্যদিকে কাফকোও গত বছরের অক্টোবর মাসে অভ্যন্তরীণ সমস্যাজনিত কারণে প্রায় ১৫ দিন উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল। এরপর সবশেষ গতকাল গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপির ৩৬ নারী আসন চূড়ান্ত, থাকছেন যারা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৩৬ জন প্রার্থীর বিএনপির চূড়ান্ত করা হয়েছে। পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড গত দুই দিনে প্রায় ৯০০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকারে দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের প্রার্থীরা অংশ নেন। সাক্ষাৎকারে নারী নেত্রীরা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকা, ত্যাগ এবং দলের প্রতি অবদানের কথা তুলে ধরেন। ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়- ঢাকা,চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। ওইদিন পাঁচ শতাধিক প্রার্থী সাক্ষাৎকার দেন।


জানা যায়, ৯০০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্য থেকে প্রথমে ৩০০ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা করা হয়। এরপর সেখান থেকে বাছাই করে চূড়ান্ত ৩৬ জনকে নির্ধারণ করা হয়েছে। মনোনয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত নারী নেত্রীদের মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায়
রয়েছেন—মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, জামালপুর থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া ডা. সানসিলা জেবরিন পিয়াংকা, সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা, বেবি নাজনিন, রিজিয়া পারভীন, সাবিরা নাজমুল, শাম্মী আক্তার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রেহেনা আক্তার রানু, শিরীন সুলতানা, নেওয়াজ হালিমা আরলি, চৌধুরী নাদিরা আক্তার, জসিম উদ্দীন মওদুদ, মাহমুদা হাবিবা, নাসিমা আক্তার কল্পনা, সানজিদা ইসলাম তুলি, বিথীকা বিনতে হুসাইন, আরিফা সুলতানা রুমা এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুকসানা শাহনাজ, ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি, হাসনা হিনা হীরা, নাদিয়া পাঠান পাপন, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, মহিলা দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক শামীমা আক্তার রুবী।

রিহ্যাব নির্বাচনে পরিচালক নির্বাচিত আবদুল গাফফার মিয়াজী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে পরিচালক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এ এস এম আবদুল গাফফার মিয়াজী। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেন।

এ এস এম আবদুল গাফফার মিয়াজী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও সামাজিক অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ। তিনি জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ (নাসিব) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ মানবাধিকার ফোরাম চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি, নাগরিক উন্নয়ন ফোরাম চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক এবং রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ইতোমধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ব্যবসা পরিচালনায় দেড় যুগেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আবদুল গাফফার মিয়াজী বলেন, আবাসন খাত বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকটের মুখে রয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, নতুন ড্যাপ নীতিমালা এবং গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস—সব মিলিয়ে খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন সৎ, দক্ষ ও দূরদর্শী সংগঠক হিসেবে খাতের সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেছি। নির্বাচিত হওয়ার পর এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয় একটি শিল্পখাতকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি রিহ্যাবের সদস্যদের অধিকার রক্ষা এবং ব্যবসা পরিচালনায় আইনি ও নীতিগত বাধা দূর করতে তিনি কাজ করবেন। আবাসন খাতকে আরও গতিশীল, বিনিয়োগবান্ধব ও গ্রাহকবান্ধব করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান।

আলোচিত খবর

সমুদ্রপথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ক্যাডেটরা প্রস্তুত: চট্টগ্রামে নৌ পরিবহনমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ।আপনারা শুধু ব্যক্তি নন, আপনারা জাতির সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবেন, দেশের সক্ষমতা ও স্মার্টনেস প্রদর্শন করবেন।যারা এই কোর্স সম্পন্ন করে সমুদ্রে যাবেন, তারা নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছেন। জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌ চলাচল-যেখানেই থাকুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম। তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছে।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, একমাত্র অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্ব তৈরি করে। এর বিপরীতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত মেরিটাইম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে ইতোমধ্যে হাজারো দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাত আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন। দীর্ঘসময় রোদে প্যারেড করার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া অনুষ্ঠানে মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ