আজঃ রবিবার ২৪ মে, ২০২৬

শ্রমিক কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় চসিককে স্বাবলম্বী করার বিকল্প নেই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে যদি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে স্বাবলম্বী করতে পারি, তাহলে শ্রমিক কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, চাকরি স্থায়ীকরণ, রাস্তা ড্রেন উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। নগরীর লালদীঘিস্থ চসিক পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে চসিক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি: নং-চট্ট-২১) আয়োজিত নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় চসিক প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার দেনায় জর্জরিত ছিল। কিন্তু সবার সহযোগিতা ও মহান আল্লাহর রহমতে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দেনা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আমরা নিয়মিতভাবে ঠিকাদারদের পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করছি।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছ থেকে আইনানুগ হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে চসিক কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পূর্বে যেখানে মাত্র ৪৫ কোটি টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেখানে নতুন মূল্যায়নের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেয়র আরও বলেন, বন্দরের ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের সড়ক ব্যবহার করছে। এতে বছরে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার রাস্তা সংস্কার ব্যয় বহন করতে হয়। আমি কোনো ক্ষতিপূরণ চাই না, শুধু চসিকের ন্যায্য কর আদায় নিশ্চিত করতে চাই।

শ্রমিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চসিকের ইতিহাসে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে স্থায়ী করার উদ্যোগ একটি সাহসী পদক্ষেপ। ধীরে ধীরে সবাইকে স্থায়ী করা হবে। এটি আপনাদের অধিকার।
ডোর টু ডোর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, যারা রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগর পরিষ্কার রাখছেন, তাদের জন্য বর্ষাকালে রেইনকোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের কল্যাণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, গত ঈদুল ফিতরেপ্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবার ঈদুল আজহায়ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া শ্রমিকদের আবাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৮০ কোটি টাকার সহায়তা চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন দিয়েছেন।

চসিকের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৭৮টি স্কুল, ২৮টি কলেজ, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০০টির বেশি মাদরাসা রয়েছে। শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনসহ শিক্ষা খাতে বছরে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। তবে এটিকে আমরা ব্যয় নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখি।তিনি জানান, চসিক পরিচালিত প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সাতটি বিষয়ে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জন করেছে।

নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আনু মিয়া বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মজুমদার, প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী।

বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নবনির্বাচিত কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি জাফর আহমেদ, সহ সভাপতি মন্জু মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সবুর খান মাসুম, সহ সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক মীর হারুন, দপ্তর সম্পাদক কাজী আহসান হাবীব, অর্থ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল উদ্দিন, শ্রম সম্পাদক রমিজুল হাসান, মহিলা সম্পাদক রোকসানা আক্তার, কার্যকরী সদস্য হাসান ওসমান লিটন, আরিফ হোসেন, মাহাবুবুর রহমান প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশু ধর্ষণ, থানায় মামলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেফতার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন। অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি। পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশুবোঝাই ট্রাক আসছে স্থায়ী-অস্থায়ী হাটে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পশুবোঝাই ট্রাক এসেছে, সে তুলনায় ক্রেতাদের আনাগোনা অনেকটাই কম। বাজারে পশুর ঘাটতিকে পুঁজি করে অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন হাটে আসা ক্রেতারা। আবার অনেকেই এসেছেন দরদাম যাচাই করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে পশু ক্রয় করতে। গোখাদ্য, পরিবহন ও লালন-পালনে খরচ বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর দামও নাগালের বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

ক্রেতারা জানান, কোরবানি পশুর আকাশচুম্বী দামে এখন দেখতে আসা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছেন এবং পশু দেখতে এসেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, বিক্রেতারা এখনো পশু বিক্রিতে আগ্রহী নন। এ কারণে তারা অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন। পশুর হাটের হাসিল নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।

খামার-সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদন কমে যাওয়ায় কোরবানি ঈদে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে থাকতে পারে পশুর দাম। বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক পশু চট্টগ্রামের বাজারে আসছে। নগরের সাগরিকা, মইজ্জ্যারটেক ও পাহাড়তলীসহ এগ্রোগুলোতে জমতে শুরু করেছে বেচাকেনার জোরেশোরে প্রস্তুতি। খামারিরা বলছেন, গোখাদ্য ও পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারা কিছুটা শঙ্কার মধ্যে আছেন। তবে এবারের ঈদে বাজারে ভালো দামের পশুর চাহিদা থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৫ হাজার পশুর ঘাটতি আছে। যা গেল বছরের তুলনায় বড় ফারাক। ২০২৪ সালে উৎপাদন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি এবং ২০২৩ সালে ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি। সেই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙে ৭ লাখ ৮৩ হাজারে নেমে আসাকে ডেইরি খাতের বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়ভাবে গৃহপালিত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৯টি ষাঁড়, ৯০ হাজার ৪৮৮টি বলদ, ৩৩ হাজার ৭৯২টি গাভি, ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ, ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল ও ৪১ হাজার ৪২৩টি ভেড়া এবং ৯৬টি অন্যান্য পশু।

প্রাণিসম্পদ অফিস তথ্যসূত্রে আরও দেখা যায়, চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চল ও উপজেলাগুলোতে পশুর উদ্বৃত্ত থাকলেও নগর এলাকায় ঘাটতি বেশি। উপজেলাগুলোর মধ্যে মিরসরাইয়ে ৬ হাজার ৫১০টি, সন্দ্বীপে ১১ হাজার ৬০৪টি, সীতাকুণ্ডে ৩ হাজার ২৩০টি, ফটিকছড়িতে ৭ হাজার ৮১৮টি এবং লোহাগাড়ায় ৬ হাজার ৯৭৬টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ ছাড়া বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ-সংশ্লিষ্টরা জানান, সুস্থ ও প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু বাজারে আনতে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে এবং খামারিরাও লাভবান হবেন।
সরেজমিনে পশুর হাটে গিয়ে বিভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের একটি অংশ বিভিন্ন এগ্রো ও ফার্মের ওপর নির্ভর করায় এখনো হাটে আশা অনুযায়ী ক্রেতার দেখা মিলছে না। মানুষ আগের মতো পশুর হাটের ঝামেলা-জঞ্জালের মধ্যে আসতে চায় না। এগ্রো ও ফার্মে তারা পশু লালন-পালন করে মোটাতাজা করে আকর্ষণীয় করে তোলেন, ফলে ক্রেতাদের এখন নজর ওদিকেই বেশি।

আহমদ জমির নামের এক পশু বিক্রেতা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ফার্ম হয়ে গেছে, তাই বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি যেমন কমেছে তেমনি কমেছে আগত পশুর সংখ্যা। মানুষ এখন এগ্রো বা ফার্ম থেকে আগেভাগেই পশু কিনে রাখছেন। ফলে বাজারে ক্রেতার চাপ কমে যাচ্ছে। আমরা খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছি। পশু বিক্রেতা জলিল আহমদ বলেন, প্রতিনিয়ত খাদ্য, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ– সবকিছুই বাড়ছে। তাই পশুর দামও বেড়ে যাচ্ছে। আমরা ন্যায্য দাম চাইছি, লোকসান দিয়ে তো বিক্রি করতে পারব না।

সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলীম চৌধুরী বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমি সিটি করপোরেশন থেকে বাজারটি ইজারা নিয়েছি। পশুর হাট এখনো জমেনি। হাটে ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন, দাম জিজ্ঞেস করে ফিরে যাচ্ছেন। অল্প অল্প করে এখানে অসংখ্য পশু আনা হয়েছে। আশা করছি, বাজার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেচাকেনায় চাঙ্গা হয়ে উঠবে। হাসিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইজারা অনুযায়ী হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
পশু দেখতে আসা নগরের অক্সিজেন এলাকার আবু হেনা বলেন, কেনার উদ্দেশ্যে আসিনি। এসেছি কোরবানির পশু দেখতে এবং দাম যাচাই করতে। দাম, বাজার পরিস্থিতি ও পশুর সরবরাহ বিবেচনা করে কিছুদিন পরই পশু কিনতে আসব।

হাটে আসা শামীম হোসেন আখন্দ নামের ক্রেতা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম অনেক বেশি, মহিষের দামও নাগালের বাইরে। তাই বিভিন্ন হাট ঘুরছি, দেখছি, তারপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিনব। কোরবানির জন্য ভালো পশু দরকার কিন্তু বাজেটও দেখতে হচ্ছে।
শামসুল আলম নামের অন্য এক ক্রেতা বলেন, লাখে যদি ৩ শতাংশ হাসিল দিতে হয় তাহলে গরু না কিনে রশি কিনেই বাড়ি ফিরতে হবে। এমনিতে হাটগুলোতে গরু-মহিষের দাম হাতের নাগালের বাইরে। ভাবছি, গ্রামের খামারিদের কাছ থেকে কম দামে কিনতে পারি কি না।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, চট্টগ্রাম নগরে যে সামান্য ঘাটতি রয়েছে, তা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশু দিয়ে পূরণ হবে। বিশেষ করে বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার বেপারিরা প্রতিবছরের মতো এবারও পশু নিয়ে আসবেন। এ ছাড়াও তিন পার্বত্য জেলাতেও চাহিদার তুলনায় পশু উদ্বৃত্ত আছে। এ ধরনের বিষয় নিয়ে খামারিদের সহায়তার জন্য উপজেলা অফিসে যেতে হবে। বড় খামারিরা অনেকেই ঋণের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে সহায়তা চান না।

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ