আজঃ বুধবার ১০ জুন, ২০২৬

নির্ভীক-নির্লোভ সম্পাদক-সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকতের কর্ম ও জীবন

নজরুল ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাহসী সাংবাদিকতার যুগনায়ক, নির্ভীক-নির্লোভ সম্পাদক-সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকতের ৭২তম জন্মবার্ষিকী ১০ জুন ২০২৬, বুধবার।

সম্পাদক, সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত ১৯৬৯ সালে সাংবাদিকতায় এবং ১৯৬৪ সালে সার্বজনীন ভোটাধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পূর্বে তিনি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রতিষ্ঠিত এবং ভাষা আন্দোলনের নেতা অলি আহাদ সম্পাদিত ‘ইত্তেহাদ’-এর বিশেষ সংবাদদাতা, ডেইলি ট্রিবিউনের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি এবং দৈনিক নয়াবাংলার সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১৭ আগস্ট তাঁর সম্পাদনায় চট্টগ্রাম থেকে ‘ইজতিহাদ’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। প্রকাশনার কয়েক মাস পর তৎকালীন এরশাদ সরকার পত্রিকাটির প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে হাইকোর্টে রিট আবেদনের মাধ্যমে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত চট্টগ্রাম সংবাদপত্র পরিষদ ও চিটাগাং এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক, পূর্বাঞ্চলীয় সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশ সম্পাদক সমিতির আহ্বায়ক এবং ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিলস (ডব্লিউএপিসি)-এর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রেস জুডিশিয়াল ও প্রেস রুলস কমিটির সদস্য (২০০২-২০০৬), বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের সহ-সভাপতি (২০০২-২০০৩), বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (১৯৮৮-১৯৯১), চট্টগ্রাম সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি (১৯৮০-১৯৮৪), চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্বাচন কমিশনার (১৯৮৭-১৯৯১), সাংস্কৃতিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (১৯৭৯-১৯৮৪), বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক (১৯৮৭-১৯৯১), গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য (১৯৯০-১৯৯১), জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির কাউন্সিলর (১৯৮৩), গণতান্ত্রিক মুক্তিযোদ্ধা ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান (১৯৯৯-২০০১), চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান (২০০৫) এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান (২০১৪-২০১৭) ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি হাটহাজারী-ফটিকছড়ি আঞ্চলিক মুক্তিবাহিনী (বিএলএফ)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া হাটহাজারী-ফটিকছড়ি হুকুমদখল জমি উদ্ধার কমিটির সাধারণ সম্পাদক (১৯৭৯-১৯৮৪), ফেডারেশন অব ইয়ুথের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল (১৯৭৬-১৯৭৯) এবং জাতীয় সাংস্কৃতিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (১৯৮১-১৯৮৩) ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা-সম্পাদক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) আয়োজিত ১৯৯৩ সালের Training Seminar for Editors of Community Newspapers এবং ১৯৯৫ সালের Editors’ Colloquium on Investigative Reporting-এ অংশগ্রহণ করেন।

তিনি চিটাগাং ইউনিভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্য কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির আজীবন সদস্য। গত পাঁচ দশক ধরে তিনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য।

১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক হিসেবে এবং ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর কৃতী সাংবাদিক হিসেবে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব তাঁকে সংবর্ধনা প্রদান করে। তিনি সিনিয়র জার্নালিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক এবং কল্পলোক মিডিয়া টাওয়ার সাংবাদিক ফ্ল্যাট মালিক স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর তাঁকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সংবর্ধনা প্রদান করে। একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম একুশে উৎসব পরিষদ সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তাঁকে একুশে সম্মাননা পদক প্রদান করে। এছাড়া ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ইউনিটি সাহসী সাংবাদিকতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মাননা দেয়।

ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিলসের নির্বাহী সদস্য হিসেবে তিনি ২০০৪ সালের তানজানিয়া ঘোষণা এবং ২০০৬ সালের ইস্তাম্বুল ঘোষণার অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন। ভারতের জাতীয় প্রেস ডে উপলক্ষে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত স্মারকে ২০০৬ ও ২০০৭ সালে তাঁর দুটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়— Press Freedom: A Continuing Struggle এবং Freedom of the Press is a Fundamental Right।

২০০৭-২০০৮ সালে ডব্লিউএপিসির কান্ট্রি রিপোর্টের মধ্যে তাঁর রিপোর্ট শ্রেষ্ঠ রিপোর্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৪ সালের ২৪-২৬ অক্টোবর তানজানিয়ার দার-উস-সালেমে অনুষ্ঠিত ডব্লিউএপিসির নবম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাঁর রিপোর্ট অন্যতম সেরা রিপোর্ট হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং তিনি ১১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০০৬ সালে ইস্তাম্বুলে গঠিত ডব্লিউএপিসির সংবিধান কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর রিপোর্ট ২০০৯ সালে ইস্তাম্বুল এবং ২০১০ সালে সাইপ্রাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ অ্যাসেম্বলিতেও প্রশংসিত হয়।

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে কারারুদ্ধ করা হলে তাঁর প্রতিবাদে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত। ২০২৩ সালের ৩ জুন বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা তাঁকে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য ‘তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া স্মৃতি পদক’ প্রদান করে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক-সম্পাদক ও ছাত্র-জনতার সমাবেশে তাঁকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ এডিটরস ফোরাম, চট্টগ্রাম এডিটরস ক্লাব, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদ, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক পরিষদ, ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি, চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা এবং জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মরহুমা আনোয়ারা বেগম এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ বৃহত্তর চট্টগ্রাম শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (১৯৪৯), নিখিল ভারত মুসলিম লীগ চট্টগ্রাম শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (১৯২৪) ও চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির প্রথম মুসলিম সভাপতি মরহুম আবদুল লতিফ উকিলের কনিষ্ঠ পুত্র মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত।

তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নিউরোসার্জন ও বিএমএ-এর সাবেক সভাপতি মরহুম অধ্যাপক ডা. এল. এ. কাদেরীর ছোট ভাই এবং হযরত মাওলানা নুর আহমদ আল কাদেরী (রহ.)-এর দৌহিত্র।

তাঁর স্ত্রী শেখ আফসানা কাদেরী ‘ইজতিহাদ’ পত্রিকার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। একমাত্র পুত্র শিহাব কাদেরী ‘ইজতিহাদ’-এর সহযোগী সম্পাদক এবং একমাত্র কন্যা সামিনা কাদেরী। তিনি ১৯৯৬ সালে পবিত্র হজব্রত পালন করেন।
সংগৃহীত –

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার আহ্বান সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে উদ্বেগ এনসিপি’র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তে পুশ-ইন বন্ধ এবং দেশের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা যাচাইসহ দেশীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বিষয়ে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান। এতে সাগুফতা বুশরা বলেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে সীমান্তে পুশ-ইনের প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ, আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক ও রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া দেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের, বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের বৈধতা যাচাইয়ে জরুরি জাতীয় অডিট, অবৈধভাবে কর্মরতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমান্তে পুশ-ইন বিষয়ে সরকারি অবস্থান, বিদেশি কর্মীদের বৈধতা যাচাইয়ের রূপরেখা এবং দেশীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষার কর্মপরিকল্পনা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সাগুফতা বুশরা বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মী, বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগের স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।আমাদের অবস্থান কোনো দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে নয়। আমরা বাংলাদেশের আইন, সার্বভৌমত্ব, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পক্ষে কথা বলছি।

তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যেখানে দেশীয় দক্ষ জনবল রয়েছে, সেখানে ধাপে ধাপে বাংলাদেশি জনবল দিয়ে বিদেশি কর্মীদের প্রতিস্থাপনের কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর বাস্তবায়নে ও রিয়েক্টস-ইন প্রজেক্টের আওতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ইএসডিও’র আয়োজনে ও পরিচালনায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর  ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ গ্রামে কৃষক মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়। 

কৃষক মাঠ দিবসে উপস্থিত শতাধিক কৃষকের মাঝে হারভেস্টপ্লাসের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ শাহিনুল কবির এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট ফোকাল কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল আলম মানবদেহে জিংক এর প্রয়োজনীয়তা এবং জিংকের অভাব পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২,  ব্রিধান১০০, ব্রিধান৮৪ এবং ব্রিধান৭৪ এর ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।তারা তাদের বক্তব্যে সকলের প্রতি জিংক ধানের চাষাবাদ পদ্ধতি, জিংক ধানের আবাদের সম্প্রসারণ ও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহীন আলী ও উত্তম কুমার বর্মন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছা: জিন্নাতুন নেছা, মাদারগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন, উক্ত গ্রামের মাদারগঞ্জ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম সাহেব মোঃ হায়দার আলী এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ আবু তালহা শিশির সহ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ