বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ সহজ হবে: আইনমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদ ও বিবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে জনগণ দ্রুত বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এবং ব্র্যাকের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সামনে যদি কোনো ইনোভেটিভ আইডিয়া আসে, সেটাকে আমরা গ্রহণ করে জনকল্যাণের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য। ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হবে। পাইলট উপজেলাগুলো হলো—কালীগঞ্জ (গাজীপুর), টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), ঝিনাইগাতী (শেরপুর), সদর (কুড়িগ্রাম), সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা), সদর (নড়াইল), কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সদর (সিলেট), চকরিয়া (কক্সবাজার) ও সদর (কিশোরগঞ্জ)।

প্রকল্পের আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে বয়স ও পরিচয় যাচাই করা হবে। ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি গোপন বিবাহ, বহুবিবাহ ও জালিয়াতি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সহজ হবে। বিবাহ ও তালাকের তথ্য রিয়েল-টাইমে সংরক্ষণ এবং দ্রুত ডিজিটাল সনদ প্রদানের ব্যবস্থাও থাকবে।প্রকল্পের আওতায় অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসও পরীক্ষামূলকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।আইনমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চুক্তির মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক ও ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় গ্রেফতার-২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইইনার গায়েবের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কন্টেইনার বের করে নিয়েছিল। তারা হলেন- পটিয়ার জিরি ইউনিয়নের উত্তর কৈয়গ্রামের মো. মোর্শেদ আলম (৩১) ও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মো. সাইদুর রহমান (৫১)। দুজনই চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার প্যারামাউন্ড ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের জেটি সরকার হিসেবে নিয়োজিত ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে কন্টেইনার গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের সামনে থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুজন ঘটনার সময় অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্যবাহী কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের এফসিএল সেকশনে থাকা অভিযুক্তরা তাদের সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। এ সময় ডকুমেন্ট ও স্বাক্ষর জাল করে অন-ডেট ও অন-চেসিস অ্যাসাইনমেন্টের কপি আসল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।এরপর ওই জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে পণ্যসহ একটি কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পদ্মা ব্যারেজের পিডি নিয়োগে ‘হাসান মাহমুদ’ কেন? নেপথ্যে কার সুপারিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি অবকাঠামো প্রকল্প ‘পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়)। প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ, নদী পুনরুদ্ধার ও লবণাক্ততা মোকাবিলা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। ১৩ মে ২০২৬ একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।

এমন একটি মেগা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখার অফিস আদেশ অনুযায়ী, তিনি ফেনী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পালন করবেন।
কিন্তু নিয়োগের পরই প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় প্রকল্পের নেতৃত্বে তাঁকেই কেন?

গ্রেড ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে বড় প্রশ্ন:
সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদিত জনবল কাঠামোয় প্রকল্প পরিচালকের পদটি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় গ্রেডের জন্য নির্ধারিত বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ হাসান মাহমুদ বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অর্থাৎ চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। একই প্রতিবেদনে বাপাউবোর সিভিল ক্যাডারের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তাঁর অবস্থান ৬২ এবং তাঁর আগে ৬১ জন কর্মকর্তা থাকার দাবি করা হয়েছে।
এখানেই মূল প্রশ্ন—যদি অনুমোদিত জনবল কাঠামোতে পিডির পদ নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তার জন্য হয়ে থাকে, তাহলে চতুর্থ গ্রেডের একজন কর্মকর্তাকে কোন বিধান ও প্রশাসনিক যুক্তিতে ওই দায়িত্ব দেওয়া হলো?
বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রয়োজন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি, জনবল কাঠামো, সংশ্লিষ্ট নোটশিট এবং নিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রকাশ করা।

‘৬১ জনকে ডিঙিয়ে’—দাবির সত্যতা কোথায়?:
নিয়োগ নিয়ে বাপাউবোর প্রকৌশলীদের একটি অংশের অভিযোগ, হাসান মাহমুদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ ৬১ জন কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে তাঁকে পিডি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বাপাউবোর জ্যেষ্ঠতা তালিকার ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান ৬২ বলা হয়েছে।
যদি সত্যিই ৬১ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অতিক্রম করে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক যুক্তি কী ছিল—এ প্রশ্নের উত্তর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাপাউবোর কাছ থেকেই আসা উচিত।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটিতে নাম—রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন:

হাসান মাহমুদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাপাউবো বঙ্গবন্ধু পরিষদের ২০২২–২৪ মেয়াদের কমিটিতে হাসান মাহমুদের নাম নির্বাহী সদস্য হিসেবে ছিল। একই প্রতিবেদনে কমিটির তালিকায় তাঁর অবস্থান সাত নম্বর নির্বাহী সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হাসান মাহমুদ নিজে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কখনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

ছাত্রজীবন ও নিয়োগ পরীক্ষার ফল নিয়েও প্রশ্ন:
হাসান মাহমুদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে ২০০৭ সালে বাপাউবোর সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন—এমন তথ্য তাঁর চাকরিজীবন নিয়ে প্রচারিত বক্তব্যে রয়েছে।তবে তাঁর নিয়োগ পরীক্ষায় অবস্থান, কোটায় নিয়োগের দাবি কিংবা ৬৩ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ৫০-এর পরে ছিল বলে অভিযোগ উঠে। পাউবোর ২০০৭ সালের নিয়োগ পরীক্ষার মেধাতালিকা, কোটা-সংক্রান্ত নথি এবং নিয়োগসংক্রান্ত সরকারি কাগজপত্র কি প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বগুড়ার দায়িত্বকাল – কাজ বণ্টন নিয়ে অভিযোগ:
হাসান মাহমুদ ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বগুড়া পানি উন্নয়ন বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—এ তথ্য অভিযোগপত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তাঁর ওই সময়ের দায়িত্ব পালন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে RFQ, DPMসহ বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়েছিল। নতুন লাইসেন্সধারী একটি প্রতিষ্ঠানকে বিপুলসংখ্যক কাজ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগের আরও নির্দিষ্ট অংশে ‘পারিশা ট্রেড সিস্টেম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং পরবর্তীতে TTSL নামে নতুন লাইসেন্সের কথা বলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো—২০১৭–২০১৯ সালের RFQ ও DPM-এর কার্যাদেশ, দরপত্র নথি, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা, কাজের মূল্য, কার্যাদেশের তারিখ এবং বিল পরিশোধের রেকর্ড।

ভোলার পাঁচ বছর: জ্যাকবের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ:
হাসান মাহমুদ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২, চরফ্যাশনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকালিন এই সময় তৎকালীন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কাজের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকবের কমিশন আদায়ের সহযোগী হিসেবে হাসান মাহমুদের নাম এসেছে এবং কার্যাদেশের বিপরীতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।আরেকটি প্রকাশিত প্রতিবেদনে চরফ্যাশন ও মনপুরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কাজের ওপর জ্যাকবের প্রভাব এবং সেখানে হাসান মাহমুদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

জ্যাকবের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রমাণ:
হাসান মাহমুদের ভোলায় দায়িত্ব পালনের সময়ের কিছু সরকারি/স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে সরকারি অনুষ্ঠানের বাহিরে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতো বলেও একাধিক অভিযোগ উঠে । এমপি জ্যাকবের ক্যাশিয়ার হিসেবেও তার ব্যপক পরিচিত লাভ করে। আরেকটি সুত্ত বলছে হাসান মাহমুদ সে সাবেক সচিব এবং আওয়ামী ক্যাডার কবির বিন আনোয়ারের একান্ত কাছের লোক ছিল ও তারও ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো।

পিডি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি নাকি আর্থিকপ্রীতি:
হাসান মাহমুদের পিডি নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভাবে গুঞ্জন উঠেছে বগুড়া বাড়ি হওয়াতে হয়তো স্বজনপ্রীতি হয়েছে নয়তো মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সমালোচনা নিয়ে দপ্তরের প্রতিটি টেবিলে কানাঘুঁষা চলছে।
‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ’—নিয়োগের নেপথ্যে কী?:
হাসান মাহমুদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে—এমন দাবি রয়েছে।

তার এই পিডি নিয়োগের নেপথ্যে কারা রয়েছে বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে বাপাউবো’র প্রতিটি দপ্তরে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে উত্তর অঞ্চলের কোনো এক প্রতিমন্ত্রীর ইশারায় এই সাবেক ছাত্রলীগের নেতা প্রকৌশলী হাসান মাহমুদকে পিডি করা হয়েছে, আরেকটি বিশেষ সুত্রে জানা যায়, পরিকল্পনা কমিশন থেকে কিছুদিন পুর্বে পাসম তে যোগদানকারী অতিরিক্ত সচিব জনাব মোহা: এনামুল সাহেব হাসান মাহমুদ, এছাড়া পানি সম্পদ সচিব মো: শাহাবুদ্দিন এবং বাপাউবোর ডিজি মো: রুহুল আমিনও এই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরের পক্ষে কাজ করেছেন এবং তাদেরও ভূমিকা থাকতে পারে বলে সুত্র প্রকাশ পিডি হওয়ার পিছনে ভুমিকা রেখেছেন।
অন্যদিকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পিডি হিসেবে তাঁকে নিয়োগের অফিস আদেশের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়। ২৭ আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে আদেশটি জারি হয় এবং উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন তাতে স্বাক্ষর করেন।

অতএব এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:
হাসান মাহমুদের নাম কে প্রস্তাব করেছিলেন? কোন দপ্তর সুপারিশ করেছিল? কোন নোটশিটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? কার অনুমোদনে তাঁকে চতুর্থ গ্রেড থেকে এত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হলো?
এই চারটি প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ পেলেই বিতর্কের বড় অংশের অবসান হতে পারে বলে সচেতন সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

পদ্মা ব্যারেজে স্বচ্ছতার পরীক্ষা:
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের ব্যয় ৩৪ হাজার ৪৯৭.২৫ কোটি টাকা এবং এটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা। প্রকল্পের অফিস আদেশে সরকারি আর্থিক ও পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণের পাশাপাশি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সামনে রয়েছে বিপুল সরকারি অর্থের ব্যবহার। এই অবস্থায় পিডি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটিকে রাজনৈতিক বিতর্কে আটকে না রেখে নথিভিত্তিক প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুসন্ধানে নেওয়া প্রয়োজন।
যে নথিগুলো প্রকাশ করা দরকার:
হাসান মাহমুদের নিয়োগ বিতর্কের অবসান ঘটাতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাপাউবোর কাছে নিম্নোক্ত নথি প্রকাশের দাবি তুলা যেতে পারে –

১. পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি।
২. প্রকল্প পরিচালকের অনুমোদিত গ্রেড ও জনবল কাঠামো।
৩. হাসান মাহমুদকে পিডি নিয়োগের অফিস আদেশ।
৪. নিয়োগের নোটশিট ও সুপারিশ।
৫. বাপাউবোর সর্বশেষ জ্যেষ্ঠতা তালিকা।
৬. পিডি নিয়োগের জন্য বিবেচিত কর্মকর্তাদের তালিকা।
৭. হাসান মাহমুদের চাকরির পূর্ণ সার্ভিস রেকর্ড।
৮. ২০১৭–২০১৯ সালের বগুড়া বিভাগের RFQ ও DPM-এর কার্যাদেশের তালিকা।
৯. ২০১৯–২০২৪ সালের চরফ্যাশন বিভাগের টেন্ডার ও কার্যাদেশের তথ্য।
১০. তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত, অডিট আপত্তি বা দুদক অনুসন্ধান হয়ে থাকলে তার অবস্থা।
দুদকে অভিযোগ :
হাসান মাহমুদ’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের আমলে মোটা অংকের অর্থ বিনিময়ে ফাইল দামাচাপা দেয় বলেও অভিযোগ উঠে।

অর্থপাচার ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে:
প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল অর্থ স্থানান্তর ও বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য সঠিক তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার বসিলায় অবস্থিত মধু সিটিতেও হাসান মাহমুদ তার ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগের অর্থের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার সেগুনবাগিচাভিত্তিক একটি অনলাইন পোর্টালকে তিনি অনেকটা নিজস্ব ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। তার বিরুদ্ধে কোনো সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করলে কিংবা কোনো গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে, সংশ্লিষ্ট সংবাদ সরিয়ে ফেলা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সমঝোতা করানোর ক্ষেত্রে ওই পোর্টালটির ভূমিকা থাকত বলে অভিযোগ।

আরও অভিযোগ করা হচ্ছে, হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে হাসান মাহমুদের সম্পদ, দেশ-বিদেশে বিনিয়োগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের আর্থিক লেনদেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত ও পরবর্তীতে অপসারিত সংবাদগুলোর তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ