হাসপাতালের প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ: নতুন রোগীর পাশাপাশি পুরোনো রোগীকেও বুঝতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত নতুন রোগী, নতুন সেবা, নতুন বাজার কিংবা নতুন প্রচারণার বিষয়গুলোই সামনে আসে। কিন্তু এর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও ভাবা দরকার—যারা ইতোমধ্যে আমাদের সেবা নিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কটি আমরা কতটা ধরে রাখতে পারছি? একজন রোগী একবার হাসপাতালে এসেছেন মানেই সম্পর্ক শেষ নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে সেখান থেকেই একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের শুরু হতে পারে।

কেউ একবার চিকিৎসা নেন, কেউ নিয়মিত ফলোআপে আসেন, কেউ পরিবারের অন্য সদস্যের চিকিৎসার জন্য আবার ফিরে আসেন। আবার কোনো রোগী আজ একটি সেবা নেওয়ার পর ভবিষ্যতে অন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে একই প্রতিষ্ঠানের কথা ভাবতে পারেন। তাই একজন রোগীকে শুধু একটি ভিজিট, বিল কিংবা লেনদেন হিসেবে দেখলে বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। তিনি একই সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের সম্ভাবনাও তৈরি করেন।

একজন রোগীর নাম, চিকিৎসার ইতিহাস, রিপোর্ট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা হাসপাতাল ভিজিটের তথ্য থাকলেই রোগীকে পুরোপুরি বোঝা যায় না। জানতে হবে—তিনি প্রথমবার কেন এসেছিলেন, কোন সেবা নিয়েছিলেন, তাঁর ফলোআপের প্রয়োজন ছিল কি না, আবার এসেছেন কি না, না এলে কেন আসেননি এবং ভবিষ্যতে তাঁর বা পরিবারের অন্য সদস্যের প্রয়োজন হলে তিনি কোথায় যাচ্ছেন। এসব প্রশ্ন শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য নয়; এগুলোর সঙ্গে রোগীর অভিজ্ঞতা, সেবার মান এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিও জড়িত।

আমার অভিজ্ঞতায়, ডেটা যদি শুধু অতীতের হিসাব সংরক্ষণ করে, তার মূল্য সীমিত। কিন্তু সেই ডেটা যদি রোগীর প্রয়োজন বুঝতে, সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করতে সহায়তা করে, তখন সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সম্পদে পরিণত হয়।

রোগীর সঙ্গে পরবর্তী যোগাযোগও শুধু একটি ফোনকল বা এসএমএস—‘আপনার পরবর্তী অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় হয়েছে’—এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফলোআপ, স্বাস্থ্যতথ্য, রিপোর্ট, পরবর্তী করণীয় বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিষয়ে যথাসময়ে জানানো যেতে পারে। তবে এখানে একটি ভারসাম্য জরুরি। রোগীকেন্দ্রিক যোগাযোগ মানে বেশি বেশি বার্তা পাঠানো নয়; বরং সঠিক রোগীকে, সঠিক সময়ে, তাঁর প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য দেওয়া। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও সম্মতিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি এই যোগাযোগকে সহজ করতে পারে। তবে Digital does not mean one-size-fits-all। কেউ ফোনে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কেউ অনলাইনে তথ্য খোঁজেন, কেউ সরাসরি হাসপাতালে এসে কথা বলতে চান। আবার অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একজন সদস্য রোগীর হয়ে যোগাযোগ করেন। তাই রোগীকেন্দ্রিক যোগাযোগের অর্থ সবাইকে একই বার্তা একই মাধ্যমে পাঠানো নয়; বরং রোগীর প্রয়োজন বুঝে উপযুক্ত মাধ্যম বেছে নেওয়া।

নতুন রোগী আনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধুমাত্র নতুন রোগী অর্জনের ওপর নির্ভর করলে মার্কেটিংয়ের চাপ ও ব্যয় দুটোই বাড়তে থাকে। অন্যদিকে, একজন রোগীর সঙ্গে ভালো চিকিৎসা, ভালো সেবা ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আস্থা তৈরি হলে তিনি ভবিষ্যতে আবার সেবা নিতে পারেন, পরিবারের সদস্যকে নিয়ে আসতে পারেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন। ভালো সেবা নিজেই একটি শক্তিশালী সম্পর্ক ও ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারে।

এ কারণে হাসপাতালের প্রবৃদ্ধি পরিমাপের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু Reach, Leads, Calls বা New Patients নয়; কতজন রোগী পুনরায় এসেছেন, কোথায় রোগীরা সেবা নেওয়া বন্ধ করেছেন, কোন যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা বেশি সাড়া দিচ্ছেন এবং কোন ধরনের সমস্যায় তাঁরা বারবার যোগাযোগ করছেন—এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। রোগী ধরে রাখা শুধু মার্কেটিং বিভাগের সাফল্য নয়; এর সঙ্গে চিকিৎসা, নার্সিং, ফ্রন্ট ডেস্ক, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বিলিং, রিপোর্ট এবং সামগ্রিক রোগী-অভিজ্ঞতা জড়িত।

স্বাস্থ্যসেবায় Patient Retention-কে শুধু ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে দেখাও ঠিক নয়। একজন রোগীর জন্য সময়মতো চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ফলোআপ এবং নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন, সেখানে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো সহজ করা; যেখানে ফলোআপ প্রয়োজন, সেখানে সময়মতো মনে করিয়ে দেওয়া; আর যেখানে সচেতনতা প্রয়োজন, সেখানে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া—এসবই রোগীকেন্দ্রিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার অংশ।

আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন করছি—কীভাবে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়? এখন এর পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্ন করার সময় এসেছে—যারা ইতোমধ্যে আমাদের কাছে এসেছেন, তাঁদের আমরা কতটা ভালোভাবে বুঝতে পারছি?

আমার কাছে আগামী দিনের স্বাস্থ্যসেবা মার্কেটিংয়ের বড় পরিবর্তন এখানেই। হাসপাতালের প্রবৃদ্ধির সমীকরণ শুধু New Patient Acquisition নয়; এর সঙ্গে থাকতে হবে Patient Relationship, Follow-up, Patient Experience এবং Long-term Trust। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু একজন রোগীকে বারবার হাসপাতালে নিয়ে আসা নয়; এমন একটি সেবা-অভিজ্ঞতা তৈরি করা, যেখানে প্রয়োজনের সময় তিনি স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রতিষ্ঠানটির কথা ভাবেন।

লেখক, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন
হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর,
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২১ মৃত্যুর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই ১৬ জন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুন-জুলাই থেকে ডেঙ্গু বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সেপ্টেম্বর অক্টোবর থেকে ডেঙ্গু বাড়ার হার তুলনামূলকভাবে কমে আসতো। তবে এবার জুন-জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী খুব বেশি ছিল না। আগস্ট থেকে ডেঙ্গু রোগী বাড়তে থাকে। তবে সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বরে সেটি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এই ধারা অক্টোবরেও চলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছর চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৪৬৬ জন। ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২১ জন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৩০ জন। অন্যদিকে চলতি বছর মোট মৃত্যুর মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে ১৭ জন এবং পুরুষ রয়েছে ৪ জন। তবে আক্রান্তের দিকে পুরুষের হার বেশি। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৯৩ জন পুরুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, নারী আক্রান্ত হয় ১ হাজার ২৭৮ জন এবং শিশু আক্রান্ত হয় ৯৯৫ জন।

এদিকে ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সর্বশেষ তথ্য অনুসারে আগের ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ১০৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩১ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ১৩ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৩০ জন, চট্টগ্রাম সিএমএইচ হাসপাতালে ৫ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ১২ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৬ জন।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীর মূল চিকিৎসা হচ্ছে ফ্লুইড ম্যানেজম্যান্ট। অনেক রোগী এনএস-১ রিপোর্ট হওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। এটির আসলে কোনো দরকার নাই। ডেঙ্গুর প্ল্যাটিলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে তখন ইন্টারনাল ব্লিডিং শুরু হয়। তখন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ম্যানেজম্যান্টের প্রয়োজন পড়ে। আবার প্ল্যাটিলেট কমা শুরু হয় জ্বর কমে যাওয়ার পরপর। তখন শারীরিক কিছু অসুবিধা দেখা দেয়। ওই সময় হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্ল্যাটিলেট নিয়ে আতঙ্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আসলে প্ল্যাটিলেট যখন বাড়া শুরু হয় তখন দ্রুতই বাড়ে। কাজেই ডেঙ্গু জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন প্রায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে ভ্যাপসা গরম। এমন আবহাওয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া যত্রতত্র ডাবের খোসা, গাড়ি টায়ার ও বাসা বাড়ির ছাদে ফুলের টবে পানি জমে সেখান থেকে মশার বংশবিস্তার হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর বাইরে সীতাকুণ্ডের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। মহানগরের বাইরে ১ হাজার ৯২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে সীতাকুণ্ডে আক্রান্ত ৫৬২ জন। এরপরে কর্ণফুলীতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৭ জন।এছাড়া রাঙ্গুনিয়ায় ১৪৫ জন, বাঁশখালীতে ১৪২ জন, সাতকানিয়া ১০৯ জন, আনোয়ারায় ১০৭ জন, রাউজানে ৯৩ জন, পটিয়ায় ৮৮ জন, হাটহাজারীতে ৭৬ জন, মীরাসরাইতে ৭৪ জন, বোয়ালখালীতে ৭১ জন, চন্দনাইশে ৬৫ জন, লোহাগাড়ায় ৬১ জন, ফটিকছড়িতে ৩৭ জন এবং সন্দ্বীপে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, এখন প্রায় প্রতিদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাচ্ছে। ফলে এসব পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। কোনো স্থানে যেন তিনদিনের বেশি পানি না জমে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও মশক নিধনে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

জানা গেছে, গত বছর ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এছাড়া ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৪ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে মারা যান ১০৭ জন এবং ২০২২ সালে মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৪৪৫ জনের মধ্যে মারা যান ৪১ জন।

চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে নতুন সংযোজন ইএমজি মেশিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে যুক্ত হয়েছে ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি (ইএমজি) মেশিন। অহিদুল আলম নামে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত উদ্যোগে মেশিনটি হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে যুক্ত করা হয়। এ মেশিন দিয়ে মাংসপেশি এবং নার্ভ বা স্নায়ুর জটিলতা ধরা হয়। হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, রগে টান লাগা, মেরুদণ্ডের ব্যথার কারণে পা অবশ হওয়া (যেমন সায়াটিকা), মাংসপেশির দুর্বলতা ইত্যাদি রোগের ডায়াগনোসিসে এটি ব্যবহৃত হয়।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে মেশিন হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন।নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুর রহিম।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিভাগের সক্ষমতার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি রোগীর চাপ রয়েছে।তিনি বলেন, রোগীরা অনেক সময় মেঝে, বারান্দা ও করিডরে অবস্থান করেন। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও আমাদের চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে স্ট্রোক রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।

ইএমজি মেশিনটি শুধু রোগীদের চিকিৎসায় নয়, চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চমেকের নিউরোলজি বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ জন চিকিৎসক এমডি সম্পন্ন করেছেন। নতুন এই মেশিন চিকিৎসকদের দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

চট্টগ্রামে নিউরো-ইন্টারভেনশন সেবা চালুর উদ্যোগের কথাও জানান অধ্যাপক হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, বড় ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি, ক্যারোটিড স্টেন্টিংসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে এসব চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে ঢাকায় যেতে হয়। তিনি বলেন, স্ট্রোকের চিকিৎসায় সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসা দিতে হয়। তাই চট্টগ্রামেই এই সুবিধা থাকা প্রয়োজন।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ