দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম নগর নেতৃবৃন্দের সাথে সিএমপির মত বিনিময় সভা

চট্টগ্রাম অফিস:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

আজ রোববার সকাল ১১.০০ ঘটিকায় দামপাড়া পুলিশ লাইনস্থ মাল্টিপারপাস ড্রিল শেডে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জনাব কৃষ্ণ পদ রায়, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)’র সভাপতিত্বে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি এবং সকল থানার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি ও সদস্যবৃন্দের সাথে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৩ উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

উক্ত সভায় চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে পূজা উদযাপনের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। পুলিশ কমিশনার মহোদয় পুলিশের পক্ষ থেকে পূজা উদযাপনকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

পূজা মন্ডপের ধরন অনুযায়ী প্রতিবছরের ন্যায় এবারও চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রতিটি মন্ডপে পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও র‌্যাব সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তাৎক্ষণিক অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিমা বিসর্জনের সময় ফায়ার ব্রিগেডের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। সভায় সিএমপি’র পক্ষ থেকে উপস্থিত পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি প্রতিটি পূজামন্ডপ কেন্দ্রিক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন ও টিমের সদস্যদেরকে সার্বক্ষণিক পালাক্রমে নিরাপত্তা ডিউটিতে মোতায়েন এবং তাদের পরিচিতি জন্য নির্ধারিত পোশাক/আইডি কার্ড/আর্ম-ব্যান্ড পরিধানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

এছাড়াও পূজা মন্ডপে দর্শণার্থী প্রবেশের সুবিধার্থে মহিলা ও পুরুষদের জন্য আলাদা আলাদা প্রবেশ ও বহির্গমন পথের ব্যবস্থাকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় নিরাপত্তার স্বার্থে বড় বড় প্রতিটি পূজা মন্ডপে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন, মেটাল ডিটেক্টর, ফায়ার এক্সটিংগুইশার ও জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার জন্য নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। তদুপরি আজান ও নামাজের সময় মন্ডপের সাউন্ড সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়। শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনকালীন সমগ্র মহানগরীতে মন্ডপ কেন্দ্রীক মাদক, ছিনতাই এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশি অভিযান কার্যক্রম জোরদার, টহল বৃদ্ধি, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং উর্ধ্বতন অফিসার কর্তৃক নিয়মিতভাবে প্রতিটি পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদানে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কমিশনার মহোদয় সকলকে আশ্বস্ত করেন। তাছাড়াও পূজা মন্ডবের আশেপাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং, মেলা, রাস্তার উপর দোকান-পাট না বসানোর জন্য নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন এবং জরুরি সেবা পেতে ৯৯৯ যোগাযোগ করার জন্য আহবান জানান।

এসময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব এম এ মাসুদ; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব আবদুল মান্নান মিয়া, বিপিএম-সেবা; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) জনাব মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ মহোদয়সহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম মহানগরে আকাশ ছুঁতে চায় সবজির বাজার, দূর্ভোগ ক্রেতাদের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অতিসম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সবজির বাজার আকাশ ছুঁতে চায়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা। সকল রেকর্ড ভেঙে শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, ফুলকপি ৩০০ টাকা। করোলা ১৬০, টমেটো ১৪০, বেগুন-বাঁধাকপি-মুলা-শসা ১২০ টাকা কেজি। ঝিঙ্গে ১০০ টাকা! ১০০ টাকার নিচে বিক্রি হওয়া সবজির দাম শুনেন এবার। পটল-মিষ্টি কুমড়া ৮০ টাকা, লাউ ৭০, আলু ৩৫। এতো বেশি দামে এসব তরি-তরকারি আর কখনো বিক্রি হয়নি। অতি বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে এ অস্থিরতা।
কাজীর দেউড়ি কাঁচা বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা শেখ হাবিবা-হাসিবা ট্রেডার্সের পরিচালক শেখ মহিউদ্দিন বাবু জানালেন, বাজারের প্রায় সব সবজির দাম এখন ১০০ টাকার ওপরে। সপ্তাহের বাজার করতে আগের চেয়ে কয়েক’শ টাকা বেশি লাগছে। এভাবে সংসার চালানো খুব কষ্টকর।

জানা গেছে, ১৫ দিন আগেও এসব সবজি ২০ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি। ১০ দিন আগেও যেসব সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই এখন ১০০ টাকার ঘর অতিক্রম করেছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিকভাবেই বেশি দাম এখন প্রতিটির সবজির।
বাজারে দামের এ আগুন কতদিন চলতে থাকবে কেউ কিছু বলতে পারছে না। সাধারণ ক্রেতারা বাজারে এসেই চমকে যাচ্ছেন দাম শুনে। এ দাম নিয়ে আলোচনা চলছে আড্ডায়, অফিসে, বাসায়।

এদিকে ১০০ টাকার নিচে এখন মধ্যবিত্তের জন্য বিকল্প বলতে লাউ, আলু আর পটল। একসময় যে পরিবারগুলো এক বাজারে পাঁচ-ছয় ধরনের সবজি কিনে সপ্তাহ পার করত, তারা এখন হিসাব কষে মাত্র দুই-একটি সবজি নিয়েই ফিরছে।
বাজারে আসা এক গৃহিনী বলেন, আগে পাঁচ-ছয় ধরনের সবজি কিনতাম। এখন দুই-তিন ধরনের বেশি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ভালো মানের সবজির দিকে দামের কারণে তাকানোই যাচ্ছে না।

সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ শফিক (মিন্টু) বললেন, বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার সবজির খেত নষ্ট হয়েছে। আড়তে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে, সেটাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
শহরে অধিকাংশ সবজির যোগান এসে থাকে দোহাজারী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, নাজিরহাটসহ বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে। সম্প্রতি সেই সব এলাকায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে। এ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।

টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে স্থায়ী-অস্থায়ী জলাবদ্ধতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অতিসম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে চট্টগ্রাম মহানগরীর স্থায়ী-অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।গত ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও জোয়ারের নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ওই সময়ে চট্টগ্রামে ৪৩ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়। এতে কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, সিএন্ডবি মোহরা, কুয়াইশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জনভোগান্তি কমাতে জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ১৬টি কুইক রিয়েকশন (কিআর) টিম মাঠে কাজ করেছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগও কাজ করেছে।

এদিকে জলাবদ্ধতার পিছনে পরিকল্পনা অনুযায়ী জলাধার নির্মাণ না করা, ড্রেন ভরাট, ডোবা ভরাট করে আবাসন প্লট, রাস্তা উঁচু না করা, খাল দখল এবং ক্রস কালভার্ট বন্ধ করাসহ ছয়টি কারণ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এই প্রতিবেদন শীঘ্রই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী।

জানা গেছে, বৃষ্টি চলাকালীন সময়ে ৩৪ ব্রিগেডের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কাতালগঞ্জ ও কাপাসগোলায় জলাবদ্ধতা হয়নি। এছাড়া, আগ্রাবাদের পানি একদিনে নেমে গেলেও মোহরা ও কুয়াইশ এলাকার পানি প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকা এলাকাগুলো নিয়ে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এর কারণ অনুসন্ধান করে একটি তদন্ত প্রতিবেদনও প্রস্তুত করেছে ৩৪ ব্রিগেড। যা কিছুদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রধানদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও চট্টগ্রাম নগরী একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হবে। সেনাবাহিনীর এই অনুসন্ধান ও কারিগরি সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধানের পথ অনেকটাই সুগম হবে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, শিগগিরই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে জলাবদ্ধতার কারণ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় নগরীর পাঁচটি স্থানে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় দিন পর্যন্ত পানি স্থায়ী ছিল। তবে কাতালগঞ্জ ও কাপাসগোলায় পানি উঠলেও আগাম পরিকল্পনার কারণে দ্রুত তা সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। আমরা আগে থেকেই জানতাম সেখানে পানি উঠবে এবং বৃষ্টি থামার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে।

সে অনুযায়ী কুইক রিঅ্যাকশন টিম পাম্পিং ও পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিন আরো জানান, আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল ও ব্যাংকিং এলাকায় প্রায় একদিন ধরে দুই থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত পানি জমে ছিল। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা উঁচু না করায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালে চসিকের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করি। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীতে পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে রাস্তা উঁচু করার পাশাপাশি সমান উচ্চতায় ড্রেন নির্মাণের কথা ছিল। আমরা ড্রেন নির্মাণ করলেও রাস্তা উঁচু করার কাজ হয়নি। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সিএন্ডবি ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার পেছনে তিনটি কারণ খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রথমত, এলাকার পানি পাশের বিলে যেতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান তিনটি ক্রস-কালভার্টের দুই পাশে পানি চলাচলের চ্যানেল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, ড্রেন ও নালা দখল করে ঘরবাড়ি, দোকান ও গুদাম নির্মাণের ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে দোকান বা গুদামে যানবাহন প্রবেশের সুবিধার জন্য ড্রেনের ওপর বালির বস্তা ফেলে পরে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পানি না নামায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সম্মতিতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হলে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে কোমরসমান পানি নেমে যায়।

অক্সিজেন-কুয়াইশ এলাকার জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, অনন্যা আবাসিক এলাকা একসময় প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে কাজ করত। আশপাশের বৃষ্টির পানি সেখানে জমা হতো। পরে জলাভূমি ভরাট করে আবাসিক প্লট নির্মাণ করায় প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। এই এলাকার পানি সংরক্ষণে বামনশাহী খালের পাশে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত কয়েকটি জলাধার নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। তবে ব্যয় সংকোচনের কারণে বাদ দেওয়া হয়। সেই জলাধারগুলো থাকলে এলাকার পানি সেখানে জমা থাকত এবং জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যেত।

তিনি আরও জানান, কুয়াইশ খাল দিয়ে আগে শিল্পকারখানা ও আশপাশ এলাকার বর্জ্য ও পানি হালদা নদীতে যেত। হালদা নদী রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেই প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়াইশ, কৃষ্ণা ও লিংক খাল দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালগুলোর নাব্যতা ও প্রস্থ কমে গেছে। ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ছোট ছোট খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়েছে। আপাতত পাম্পিংয়ের মাধ্যমে পানি সরানো হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি। সিটি কর্পোরেশন নগরীর ৪০টি খাল সংস্কারের যে প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সেখানে, কুয়াইশ, কৃষ্ণা ও লিংক খাল অন্তর্ভুক্ত করা এবং এলাকার পানি সংরক্ষণে জলাধার নির্মাণ করা।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ