আজঃ বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

ট্রেনের রাস্তায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিশাল খামার বাড়ি

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকা ফেনী বিলোনিয়া রেলপথের ফেনী অংশের বেশিরভাগ জায়গা এখন অবৈধ দখলে। জেলার ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নে রেলপথটির প্রায় ২০০ মিটার দখল করে৷ বিশাল খামারবাড়ি করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার। তার যুক্তি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি খালি জায়গায় আবাদ করার জন্য বলেছেন, তাই তিনি রেললাইনের জায়গায় আবাদ করেছেন।

 

জানা যায়, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ১৯২৭ সালে ২৫টি গ্রামের ২৭৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপন করে। ১৯২৯ সালে ফেনী থেকে বিলোনিয়া হয়ে আসাম পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত একটি ট্রেন চলাচল করত। পরবর্তী সময় যাত্রী স্বল্পতার কারণে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট ওই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে রেলপথটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
সরেজমিন দেখা যায়, রেললাইনের লোহার পাত, স্লীপার খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মুন্সীরহাট, মোহাম্মদপুর, গাইনবাড়ি, বন্দুয়াসহ বহু জায়গায় রেললাইনের চিহ্নও অবশিষ্ট নেই। রেললাইন এখন পরিণত হয়েছে সড়কপথে। দখল হয়ে গেছে রেলওয়ের শত শত কোটি টাকার জমি। দখল করা জমিতে তৈরি হয়েছে দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির এবং বিভিন্ন ক্লাব। প্রায় দুবছর আগে আনন্দপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামে রেললাইনের ওপর বালু সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে তিনটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করেছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার। দুটি ঘরে দুই জাতের শতাধিক গরু ও অন্য ঘরে একটি ঘোড়াসহ গরুর খাবার রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রেললাইনের দুই পাশে রয়েছে বিশাল মৎস্য প্রকল্প। রয়েছে কবুতর, টার্কি-মুরগিসহ দেশি হাঁস-মুরগির খামার। চেয়ারম্যানের এই খামারবাড়ির জন্য বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ২০০ মিটার রেললাইন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি খালি জায়গায় আবাদ করার জন্য বলেছেন, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমি রেললাইনের জায়গায় আবাদ করেছি। এটা ছাড়াও রেললাইনের পাশে আমার আরও জায়গা রয়েছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ যদি চায় তাহলে আমি ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকব। রেললাইনের জায়গা শুধু আমি নয়, ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত অনেক জায়গায় দখল হয়ে গেছে। আমি অল্প কিছু করেছি, তাতে এমন সমস্যা কী?
ফেনী রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। রেলওয়ের সার্ভেয়ার বিভাগ এগুলো দেখাশোনা করে। তবে কেউ অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে তোপের মুখে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ।চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলীর এইচ এম ভিলা থেকে বের হওয়ার সময় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক মেয়র মনজুর আলম। এর আগে বিএনপির মনোনয়নপত্র নিয়ে তিনি ২০১০ সালে সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০১৫ সাথে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাসির উদ্দিনের কাছে পরাজিত হন । তাক এবার এনসিপির ব্যানারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে জুলাইযোদ্ধা ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এলাকায় উত্তেজনা চলতে থাকে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের।

পরবর্তীতে পুলিশ প্রটোকল ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহায়তায় হাসনাত আবদুল্লাহ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক এবং এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। একই সঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।ঘটনাস্থলে মহানগর যুবদলের সহসভাপতি সাহেদ আকবর, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিবুল হক বাপ্পি, মহারম আলী, আকবরশাহ থানা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিম উদ্দিন এবং ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রদলের ইমনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এনিয়ে মনজুর আলমের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

স্বপ্ন নিয়ে গেল প্রবাসে, ফিরল লাশ হয়ে- শেষযাত্রায় হাজারো মানুষের অশ্রুস্রোত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অভাব ঘুচিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই সুদূর প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন তরুণ সোহান। কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা তাকে ফিরিয়ে আনল নিথর দেহ হয়ে এক রক্তাক্ত পরিণতির নির্মম সাক্ষ্য রেখে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ছয় দিন পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায় ২১ বছর বয়সী সোহানের মরদেহ। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

শেষবারের মতো একনজর দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে তার বাড়িতে। কান্না, আহাজারি আর নিঃশব্দ বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ। নিহত সোহান ওই গ্রামের দুলাল মিয়ার একমাত্র ছেলে। সংসারের হাল ধরতে ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ এক বুক হাহাকারে পরিণত হয়েছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের অদূরে কতলেহং এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। সেখানে একটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন মুদি দোকানে কর্মরত ছিলেন সোহান। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নামাজের পর হঠাৎ লোডশেডিং হলে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। সেই সুযোগে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দোকানে ঢুকে পড়ে। দোকানের মালিক পেছনের দিকে গেলে একা থাকা সোহানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় এই তরুণের।

শুক্রবার সকালে সোহানের মৃত্যুসংবাদ গ্রামে পৌঁছালে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মা। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো চিকনমাটি গ্রাম। দীর্ঘ ছয় দিন পর প্রিয় সন্তানের মরদেহ হাতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের বাবা দুলাল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলের লাশ দেখতে হবে কখনো ভাবিনি। ধারদেনা করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম ভাগ্য বদলাতে, এখন সব শেষ হয়ে গেল।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং একই দিন জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। প্রবাসে জীবনযুদ্ধে নামা অসংখ্য তরুণের মতো সোহানও স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন দূরদেশে। কিন্তু তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল প্রবাসের পথ শুধু সম্ভাবনার নয়, অনেক সময় তা অনিশ্চয়তা আর ঝুঁকিতে ভরা এক কঠিন বাস্তবতা।

আলোচিত খবর

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত রোববার ১২ এপ্রিল বিকালে তেল পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর ক্রুড তেলের সংকটের কারণে মজুত ক্রুড তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এমনটাই জানা যায়।

পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় সংকট মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকেই। যেখানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হতো, সেখানে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ