আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

ট্রেনের রাস্তায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিশাল খামার বাড়ি

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকা ফেনী বিলোনিয়া রেলপথের ফেনী অংশের বেশিরভাগ জায়গা এখন অবৈধ দখলে। জেলার ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নে রেলপথটির প্রায় ২০০ মিটার দখল করে৷ বিশাল খামারবাড়ি করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার। তার যুক্তি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি খালি জায়গায় আবাদ করার জন্য বলেছেন, তাই তিনি রেললাইনের জায়গায় আবাদ করেছেন।

 

জানা যায়, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ১৯২৭ সালে ২৫টি গ্রামের ২৭৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপন করে। ১৯২৯ সালে ফেনী থেকে বিলোনিয়া হয়ে আসাম পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত একটি ট্রেন চলাচল করত। পরবর্তী সময় যাত্রী স্বল্পতার কারণে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট ওই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে রেলপথটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
সরেজমিন দেখা যায়, রেললাইনের লোহার পাত, স্লীপার খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মুন্সীরহাট, মোহাম্মদপুর, গাইনবাড়ি, বন্দুয়াসহ বহু জায়গায় রেললাইনের চিহ্নও অবশিষ্ট নেই। রেললাইন এখন পরিণত হয়েছে সড়কপথে। দখল হয়ে গেছে রেলওয়ের শত শত কোটি টাকার জমি। দখল করা জমিতে তৈরি হয়েছে দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির এবং বিভিন্ন ক্লাব। প্রায় দুবছর আগে আনন্দপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামে রেললাইনের ওপর বালু সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে তিনটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করেছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার। দুটি ঘরে দুই জাতের শতাধিক গরু ও অন্য ঘরে একটি ঘোড়াসহ গরুর খাবার রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রেললাইনের দুই পাশে রয়েছে বিশাল মৎস্য প্রকল্প। রয়েছে কবুতর, টার্কি-মুরগিসহ দেশি হাঁস-মুরগির খামার। চেয়ারম্যানের এই খামারবাড়ির জন্য বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ২০০ মিটার রেললাইন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি খালি জায়গায় আবাদ করার জন্য বলেছেন, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমি রেললাইনের জায়গায় আবাদ করেছি। এটা ছাড়াও রেললাইনের পাশে আমার আরও জায়গা রয়েছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ যদি চায় তাহলে আমি ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকব। রেললাইনের জায়গা শুধু আমি নয়, ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত অনেক জায়গায় দখল হয়ে গেছে। আমি অল্প কিছু করেছি, তাতে এমন সমস্যা কী?
ফেনী রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। রেলওয়ের সার্ভেয়ার বিভাগ এগুলো দেখাশোনা করে। তবে কেউ অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

চট্টগ্রামের বাংলাবাজারে রেলের বগিতে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের মাঝিরঘাট বাংলাবাজার এলাকায় রেলের কয়েকটি বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, বারিকবিল্ডিং এলাকার পাশে এসআরবি স্টেশনে রেলের পুরাতন বগিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নির্বাপণে কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ