আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

উখিয়ার হলদিয়া পালংয়ে র‍্যাবের অভিযান ৩৩৩০ কেজি চাল জব্দ

এম.এ.রহমান সিমান্ত:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হলদিয়া পালংয়ে র‍্যাবের অভিযানঃ৩৩৩০কেজি চাল জব্দ। তর্জন গর্জন যেভাবে বর্ষণ হলো না সেভাবে! অধরাই থাকল গরিবের রিজিক আত্মসাৎকারীরা।

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের রুমখাঁ চৌধুরী পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভিজিডি’র ৩৩৩০ কেজি চাল জব্দ করেছে র‍্যাপিড একশ্যান ব্যাটালিয়ন র‍্যাব-১৫। পরে জব্দকৃত চালগুলো উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উখিয়ার খাদ্য গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোমবার(১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‍্যাব-১৫ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ল এন্ড মিডিয়া) মো. আবু সালাম চৌধুরী এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন,”র‌্যাব-১৫ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সকল অপরাধ দমনে প্রতিনিয়ত অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন এবং অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা সহ আন্তরিকতার সহিত।নিরলসভাবে কাজ করছে।

তারই ধারাবাহিকতায় উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সালেহ আহমদের সহযোগিতায় র‍্যাবের একটি দল হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে অভিযানে খাদ্য অধিদপ্তরের ১শ ১১ বস্তা (প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে মোট ৩,৩৩০ কেজি) আতপ চাউল উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত চাউলের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এসিল্যান্ডের মাধ্যমে খাদ্য গুদামে জমা করা হয়
বলে তিনি জানান।

এদিকে স্থানীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ভিজিডির কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দকৃত বিগত কয়েক মাসের চাল বিতরণ দেখিয়ে উপকারভোগীদের নিকট থেকে টিপসই আদায়পূর্বক আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জনৈক আরিফের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন।
তার কাছ থেকে চৌধুরী পাড়া গ্রামের আরেক যুবক ক্রয় করে বিক্রির উদ্দেশ্যে তার বাড়ীতে মজুত করেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন। তার বাড়ী থেকে চালগুলো জব্দ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিকট হস্তান্তর করা হয়।

সচেতন মহলের মতে ওই স্থানের প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চালগুলোর প্রকৃত মালিক কে,কোথায় থেকে, কারা চাল গুলো এনে মজুত করছে তার বিস্তারিত আদ্যোপান্তর তথ্যের তলের বেড়াল বেরিয়ে পড়বে।হতদরিদ্র পরিবারগুলোর খাদ্যের যোগান দিতে প্রধানমন্ত্রীর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিশেষ কর্মসূচি তথা শেখ হাসিনার নির্দেশ ক্ষুদা হবে নিরুদ্দেশ এই স্লোগানের আলোকে বিজিডির এই কার্যক্রম সারাদেশে পরিচালিত হয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই মহতী উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতে এবং গরিবের রিজিক আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে একশ্রেণীর লোভী দুর্নীতিপরায়ণ জনপ্রতিনিধিরা নয়,ছয়ের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ম্লান করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক, “সুজনের” উখিয়ার সভাপতি সাংবাদিক নূর
মোহাম্মদ সিকদার এ প্রসঙ্গে বলেন গরিবের হক আত্মসাৎ করে লুটপাট কারী দুর্নীতিবাজ উক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সমীচীন হবে নচেৎ এক্ষেত্রে দুর্নীতি আরো বেড়ে যাবে। শুভঙ্করের ফাঁকির মাধ্যমে গরিবের রিজিক চুরির হিড়িক পড়বে এবং সরকারের অভূতপূর্ব অর্জন
বিসর্জনের সম্মুখীন হবে।

এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা না হওয়ায় উখিয়া সচেতন মহল সহ সর্বত্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সকলের প্রশ্ন যেভাবে গর্জন হলো, সেভাবে বর্ষণ হলো না। তাহলে দুর্বৃত্তদের অপ তৎপরতাশ আইনি প্রক্রিয়া কি। বাধাগ্রস্ত হল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তায় এসআইসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার-১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরের খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান।মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ।মামলার আসামিরা হলেন- এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল। এদিকে নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় শনিবার সকালে এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল এবং আরেকজন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

তিনি জানান, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন।বিষয়টি জানার পর দুঃখ প্রকাশ করে সম্মানের সঙ্গে নাঈমকে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। তিনি আরও বলেন, নাঈমের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা ত্যাগ করবেন না।পরে এ ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামি সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর স্থাপনা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা, শিল্প ও সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি বানৌজা ঈসা খানে অবস্থিত আইএফএফ সেন্টার, সেন্টার ফর নেভাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিএনআরডি) এবং চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আইএসপিআর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আইএফএফ সেন্টার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসীমায় সব জাহাজের গতিবিধি, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণ করে থাকে, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অপরদিকে, সিএনআরডি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখী প্রতিষ্ঠান, যেখানে জ্বালানি পরিশোধন প্রযুক্তি, ড্রোন উন্নয়ন এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন বেসামরিক জাহাজের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশের সামুদ্রিক শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে মেড ইন বাংলাদেশ নীতির আলোকে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের গুরুত্ব অপরিসীম বলেও উল্লেখ করেন এবং চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের পেশাগত ও কারিগরি দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড এবং ওয়েস্টার্ন মেরিন লিমিটেড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সক্ষমতা, চলমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দক্ষ জনশক্তির প্রশংসা করেন। তিনি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং প্রতিরক্ষা খাতের টেকসই উন্নয়নে সবাইকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ