আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

আজ ঢাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলের সমাবেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমাবেশ ও শান্তি সমাবেশের নামে বিএনপি-আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি শোডাউনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলেই তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে নামবে পুলিশ। তাণ্ডব সৃষ্টিকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, এমনকি প্রয়োজনে রাবার বুলেটও ছুড়বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত সদস্যের পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার রিজার্ভ ফোর্স মাঠে নামছে। তবে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলে পুলিশ তাতে কোনো ধরনের বাধা দেবে না।

এদিকে দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশস্থল এবং এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে সর্বোচ্চ সহনশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেউ যাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাতা ফাঁদে পা না দেয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার তাগিদ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য অতিউৎসাহী হয়ে যাতে অহেতুক অ্যাকশনে না নামে সে বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তীক্ষè নজরে রাখবেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জানান, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমাবেশের এক দিন আগে সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারের ককটেল বিস্ফোরণ এবং এতে একজন আহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনের আগে ফের বোমাবাজি ফিরে এলো কিনা তা নিয়ে গোয়েন্দারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এটি ক্ষমতা প্রদর্শনের মহড়া, নাকি ভীতি সৃষ্টির পায়তারা গোয়েন্দারা তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে এর নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো পক্ষকে ফাঁসানোর ঘটনা রয়েছে কিনা সে বিষয়টিও খুঁজে দেখবে গোয়েন্দারা।

এদিকে বিএনপির সমাবেশ এবং আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার দুপুরের পর থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফা বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। যারা সরাসরি নাশকতা চালাবে শুধু তাদের বিরুদ্ধেই নয়, নেপথ্য মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ চলাকালে কোথাও কোনো অরাজক পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট জোনের দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা তা নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি প্রদর্শন করলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আগাম সতর্ক করা হয়েছে।

ডিএমপির অপরাধ বিভাগের একজন ডিসি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নিয়ে তারা যথেষ্ট চাপে রয়েছে। কেননা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের সমাবেশস্থল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে এক লাখ মানুষের জমায়েত করার টার্গেট নিয়েছে। একই দিনে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সমাবেশ থেকে এক দফা আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণার সময় বড় শোডাউনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অথচ দু’টি সমাবেশস্থলের দূরত্ব গুগল ম্যাপ অনুযায়ী মাত্র ১.১ কিলোমিটার। আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে এক লাখ মানুষ জড়ো হলে এ ঢল ফকিরাপুল ছাড়িয়ে নয়া পল্টনের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছাবে। আবার বিএনপির সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হলে তার ঢেউ আরামবাগে আছড়ে পড়বে। বুধবার দুপুরে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি সমাবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা তাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে পুলিশ প্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশ আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ এখন ইন্টেলিজেন্স-নির্ভর কাজ করে। আগাম তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়। এ কারণে গত কয়েক বছর ধরে দেশে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। কোথাও যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয় সে ব্যাপারে আগাম ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায় তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে, কে কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী তা বিবেচনা করবে না পুলিশ।

আইজিপি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তবে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে কেউ পার পাবে না। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে পুলিশের কাছে সন্দেহ হচ্ছে, এরই মধ্যে তাদের গতিবিধি এবং সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করছে। তাদের বিষয় গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সমাবেশের দিন ফেসবুক এবং ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটনার অপচেষ্টা চালাতে না পারে সে বিষয়ে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, নয়া পল্টন, মতিঝিল, কাকরাইলের নাইট অ্যাঙ্গেল ক্রসিং, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা ও বায়তুল মোকাররমের চারপাশসহ নগরীর প্রায় তিন ডজন পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্পর্শকাতর স্পটে মোতায়েন থাকবে গোয়েন্দা ওয়াচম্যান এবং ডিবির ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরাম্যানরা। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং তথ্য সংগ্রহ করবে তারা। যাতে এসব ঘটনায় জড়িতদের পরবর্তীতে সহজেই শনাক্ত করা যায়।

এদিকে নির্ধারিত এ স্পটগুলো বাইরেও রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। কেননা কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসার পথে কিংবা সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা কোথায় কোন ধরনের বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা চালাবে তা গোয়েন্দাদের অজানা। তাই র‌্যাব-পুলিশের নিয়মিত টিমের পাশাপাশি পিকেট, মোবাইল, দাঙ্গা ও স্টাইকিং রিজার্ভ ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যাতে তারা যে কোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত যে কোনো পয়েন্টে ছুটে গিয়ে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে।

বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হচ্ছে। কর্মসূচির স্পটমুখী কারও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থামিয়ে দেহ তল্লাশি করা হবে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী বহনকারী যানবাহনে লাঠিসোঁটা-ধারাল অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরকদ্রব্য বহনের খবর পাওয়া গেলে তা আটক করবে পুলিশ। তবে অবৈধ কোনো কিছু পাওয়া না গেলে তা তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেওয়া হবে।

এদিকে খোদ আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অনেক নেতাও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে কাছাকাছি স্পটে দু’টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপিকে রাজপথ ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেননা তারা এ সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় জ্বালাও-পোড়াও-বোমাবাজিসহ নানা ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছে। সারা দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তাই এবার সে সুযোগ পেলে একই ধরনের অপতৎপরতা চালাতে পারে। তাই বিএনপিকে রাজপথ থেকে হটিয়ে না দেওয়ার কোনো বিকল্প পথ নেই। তবে দলের নেতাকর্মীরা যাতে কোনোভাবে কোনো বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে তাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে প্রথম সারির নেতারা দাবি করেছেন।

অন্যদিকে সমাবেশের নামে সন্ত্রাস ও অরাজকতা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ কথা বলেন মন্ত্রী। ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসা যাবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব। এ সময় বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাস প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে।


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন-বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া যতবারই দেশ পরিচালনা করেছে ততবারই দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দেখা পেয়েছে। জিয়া পরিবারের সুুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

 

মানুষের যে মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করে; দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রুপ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, ই হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মত কল্যাণমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “ঈদবস্ত্র বিতরণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৫০০ মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের সেবা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, জনগণের কাছে আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপি-কাউন্সিলররা জনগণের পাশে ছিলনা। জনগণের ভাগ্যন্নোয়নের কথা বলে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। সে পাচারের টাকায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীরা এখন বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে।

৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু তালেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. ইসমাঈল বালি, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজ সেবক বাবু দিলীপ মজুমদার, পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. শহিদুল হক, আশরাফুল ইসলাম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শফিকুল আলম, মোহাম্মদ হামিদ, জিয়া সাইবার ফোর্স বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বাহাউদ্দিন ফারুক মুন্না, কোতোয়ালি থানা তাঁতি দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. শেখ আলী মিঠু , প্রবাল কৃষ্ণ, মোহাম্মদ সেলিম, যুবদলের মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নাদিম, রিয়াজ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ তুহিন,  সদস্য সচিব মো. জসিম, কোতোয়ালী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মারুফ,  কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. হোসেন মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ।

নারীদের শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচীর মধ্যে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অন্যতম। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদেরকে স্বনির্ভর, আত্মপ্রত্যয় এবং শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে মেয়েদের জন্য এইচ.এস.সি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এছাড়া নারীদের সার্বিক কল্যাণে তিনি অনেকগুলো কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য পুত্র বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্সমতায় আসার পর নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও বেগবান করতে প্রত্যেক নারীকে উদ্যেক্তা হিসেবে গড়ে উঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা কাজও শুরু করেছেন।


সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পর্যায়ে ৩ ক্যাটাগরিতে ৪ জন অদম্য নারীকে ফুল, ক্রেস্ট ও সনদপত্রসহ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা হচ্ছেন-শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল হালিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনা, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের মেয়ে শমলা বেগম, সফল জননী নারী ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আমিন আহমদ ভূঁঞার স্ত্রী বেগম তাজকেরা চৌধুরী ও সফল জননী নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার চান্দনপুর পাখাচং গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে বিলকিছ বেগম। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা তাদের জীবন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈরী পরিস্থিতিতে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা বলে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা মেরামতের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বিএনপি ৩১ দফা ঘোষনা করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফার ৮টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-ফ্যামিলি কার্ড। এটি পাবেন পরিবারের প্রধান নারী। কোন রাজনৈতিক বিবেচনা বা জনপ্রতিনিদিদের মাধ্যমে নয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ তালিকার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে, যাতে পরবর্তীতে কোন সরকার এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি জেলার ১৪টি ওয়ার্ড/উপজেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সবক’টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত অদম্য নারীদের বক্তব্যের আলোকে তিনি বলেন, আজকের অদম্য নারীদের মধ্যে এ পুরস্কার সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে-ইউনিয়নে-পৌরসভা-উপজেলা-থানা-নগর ও জেলা পর্যায়ে এটি ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নারী সম্মানের হকদার। বাংলাদেশে যত নারী আছেন তারা কোন না কোন জায়গায় অদম্যতার পরিচয়ে ঠিকে আছেন। অদম্য নারীদের জীবন-যুদ্ধে হার না মানার কাহিনীর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার এবং সমাজের অন্যান্য নারীদেরকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমরা বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে চাই, চট্টগ্রামের জন্য অনেক কিছু করতে চাই, এজন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, সংবিধানে সকলের সমান অধিকার। ১৯ কোটি মানুষের দেশে ৪ কোটি মানুষও যদি কর্মক্ষম বা অর্থনীতির বাইরে থাকে তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা কাঙ্খিত উন্নয়ন কোনভাবে সম্ভব নয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা উদ্যেক্তা হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে এবং উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে যদি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, সমতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে আমাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদেরকে সাথে নিয়ে পথ চলতে হবে। উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষের সমতা আনায়ন অত্যন্ত জরুরী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো.জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অদম্য নারী পুরস্কার কর্মসূচীর অতিরিক্ত পরিচালক ও কর্মসূচী পরিচাল মোঃ মনির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিচালক (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অদম্য নারীগণ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ