আজ ঢাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলের সমাবেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমাবেশ ও শান্তি সমাবেশের নামে বিএনপি-আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি শোডাউনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলেই তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে নামবে পুলিশ। তাণ্ডব সৃষ্টিকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, এমনকি প্রয়োজনে রাবার বুলেটও ছুড়বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত সদস্যের পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার রিজার্ভ ফোর্স মাঠে নামছে। তবে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলে পুলিশ তাতে কোনো ধরনের বাধা দেবে না।

এদিকে দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশস্থল এবং এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে সর্বোচ্চ সহনশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেউ যাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাতা ফাঁদে পা না দেয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার তাগিদ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য অতিউৎসাহী হয়ে যাতে অহেতুক অ্যাকশনে না নামে সে বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তীক্ষè নজরে রাখবেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জানান, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমাবেশের এক দিন আগে সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারের ককটেল বিস্ফোরণ এবং এতে একজন আহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনের আগে ফের বোমাবাজি ফিরে এলো কিনা তা নিয়ে গোয়েন্দারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এটি ক্ষমতা প্রদর্শনের মহড়া, নাকি ভীতি সৃষ্টির পায়তারা গোয়েন্দারা তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে এর নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো পক্ষকে ফাঁসানোর ঘটনা রয়েছে কিনা সে বিষয়টিও খুঁজে দেখবে গোয়েন্দারা।

এদিকে বিএনপির সমাবেশ এবং আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার দুপুরের পর থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফা বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। যারা সরাসরি নাশকতা চালাবে শুধু তাদের বিরুদ্ধেই নয়, নেপথ্য মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ চলাকালে কোথাও কোনো অরাজক পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট জোনের দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা তা নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি প্রদর্শন করলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আগাম সতর্ক করা হয়েছে।

ডিএমপির অপরাধ বিভাগের একজন ডিসি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নিয়ে তারা যথেষ্ট চাপে রয়েছে। কেননা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের সমাবেশস্থল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে এক লাখ মানুষের জমায়েত করার টার্গেট নিয়েছে। একই দিনে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সমাবেশ থেকে এক দফা আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণার সময় বড় শোডাউনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অথচ দু’টি সমাবেশস্থলের দূরত্ব গুগল ম্যাপ অনুযায়ী মাত্র ১.১ কিলোমিটার। আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে এক লাখ মানুষ জড়ো হলে এ ঢল ফকিরাপুল ছাড়িয়ে নয়া পল্টনের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছাবে। আবার বিএনপির সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হলে তার ঢেউ আরামবাগে আছড়ে পড়বে। বুধবার দুপুরে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি সমাবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা তাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে পুলিশ প্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশ আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ এখন ইন্টেলিজেন্স-নির্ভর কাজ করে। আগাম তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়। এ কারণে গত কয়েক বছর ধরে দেশে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। কোথাও যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয় সে ব্যাপারে আগাম ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায় তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে, কে কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী তা বিবেচনা করবে না পুলিশ।

আইজিপি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তবে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে কেউ পার পাবে না। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে পুলিশের কাছে সন্দেহ হচ্ছে, এরই মধ্যে তাদের গতিবিধি এবং সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করছে। তাদের বিষয় গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সমাবেশের দিন ফেসবুক এবং ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটনার অপচেষ্টা চালাতে না পারে সে বিষয়ে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, নয়া পল্টন, মতিঝিল, কাকরাইলের নাইট অ্যাঙ্গেল ক্রসিং, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা ও বায়তুল মোকাররমের চারপাশসহ নগরীর প্রায় তিন ডজন পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্পর্শকাতর স্পটে মোতায়েন থাকবে গোয়েন্দা ওয়াচম্যান এবং ডিবির ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরাম্যানরা। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং তথ্য সংগ্রহ করবে তারা। যাতে এসব ঘটনায় জড়িতদের পরবর্তীতে সহজেই শনাক্ত করা যায়।

এদিকে নির্ধারিত এ স্পটগুলো বাইরেও রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। কেননা কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসার পথে কিংবা সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা কোথায় কোন ধরনের বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা চালাবে তা গোয়েন্দাদের অজানা। তাই র‌্যাব-পুলিশের নিয়মিত টিমের পাশাপাশি পিকেট, মোবাইল, দাঙ্গা ও স্টাইকিং রিজার্ভ ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যাতে তারা যে কোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত যে কোনো পয়েন্টে ছুটে গিয়ে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে।

বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হচ্ছে। কর্মসূচির স্পটমুখী কারও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থামিয়ে দেহ তল্লাশি করা হবে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী বহনকারী যানবাহনে লাঠিসোঁটা-ধারাল অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরকদ্রব্য বহনের খবর পাওয়া গেলে তা আটক করবে পুলিশ। তবে অবৈধ কোনো কিছু পাওয়া না গেলে তা তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেওয়া হবে।

এদিকে খোদ আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অনেক নেতাও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে কাছাকাছি স্পটে দু’টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপিকে রাজপথ ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেননা তারা এ সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় জ্বালাও-পোড়াও-বোমাবাজিসহ নানা ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছে। সারা দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তাই এবার সে সুযোগ পেলে একই ধরনের অপতৎপরতা চালাতে পারে। তাই বিএনপিকে রাজপথ থেকে হটিয়ে না দেওয়ার কোনো বিকল্প পথ নেই। তবে দলের নেতাকর্মীরা যাতে কোনোভাবে কোনো বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে তাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে প্রথম সারির নেতারা দাবি করেছেন।

অন্যদিকে সমাবেশের নামে সন্ত্রাস ও অরাজকতা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ কথা বলেন মন্ত্রী। ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসা যাবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব। এ সময় বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাস প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস গণতন্ত্র, অধিকার ও ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের এক গৌরবময় স্মারক দিপ্তী-শাহেদ


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আমাদের গণতন্ত্র, অধিকার ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের একটি গৌরবময় স্মারক। আগামী ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন র‌্যালির মাধ্যমে আমরা সেই সব শহীদ ও আহত সংগ্রামীদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই, যাদের আত্মত্যাগে দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছে।

তিনি আজ ০৩ আগস্ট সোমবার বিকালে কাজীর দেউরীস্থ নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয় সম্মুখ মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আগামীকাল ৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের র‌্যালি ও ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে মহানগর বিএনপি আয়োজিত শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিজ্ঞতা করছে শহীদের স্বপ্নে বাংলাদেশ গড়তে যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়, এটি অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তরুণদের সাহসী অবস্থানের প্রতীক। আগামী কালকের র‌্যালি থেকে আমরা দেশের যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং দেশ গঠনে ইতবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই। তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কখনো বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায় বিচার এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাব। নগর বিএনপি আয়োজিত শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট সফল করার লক্ষ্যে যুবদল সার্বিক শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করবে।

প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, ফজলুল হক সুমন, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, নাসির উদ্দিন চৌধুরী নাসিম, মুজিবুর রহমান, জসিমুল ইসলাম কিশোর, অরুপ বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, এরশাদ হোসেন, সেলিম উদ্দিন রাসেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, মোরশেদ আলম, রাজন খাঁন, তানভীর মল্লিক, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাঁচা, ওসমান গনি সিকদার, শাহজালাল পলাশ, মুজিবুর রহমান রাসেল, সাবেক সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মহিউদ্দিন মুকুল,

এস এম বখতিয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, মোহাম্মদ ইকবাল, আসাদুজ্জামান রুবেল, সাবেক সহ- সম্পাদকবৃন্দ আতিকুর রহমান, মনোয়ার হোসেন মানিক, কমল জৌতি বড়ুয়া, কামরুল ইসলাম, কোরবান আলী, শাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, জিয়াউল হক মিন্টু, গুলজার হোসেন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ হাসান, আবুল কালাম, মনজুর আলম মনজু, মিজানুর রহমান দুলাল, হোসেন জামান, ইয়াছিন আজাদ, আবদুল্লাহ আল জিতু, মোহাম্মদ জসিম, সাবেক সদস্য শাবাব ইয়াজদানী, কলিম উল্লাহ, প্রফেসর সাইদুল হক সিকদার, শাখাওয়াত কবির সুমন, থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজম, মোশাররফ আমীন , বজল আহমেদ, কুতুবউদ্দিন কুতুব, মোহাম্মদ সেলিম, সাবেক সদস্য সচিব শেখ রাসেল, মোহাম্মদ হাসান, শওকত খান রাজু, মোহাম্মদ মুসা, মোরশেদ কামাল, আশিক মল্লিক আরসি, মনজুর আলম মনজু, মোহাম্মদ সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আকতার, এস এম আলী, আবু বক্কর বাবু, সাইফুল আলম, জহিরুল ইসলাম, মাসুদ আলম, জাহাঙ্গীর আলম বাবলু প্রমুখ।

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতির ফেসবুক পোস্ট তীব্র বিতর্ক


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিলেট ও হবিগঞ্জে এনসিপি নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।পোস্টে হামলার পেছনে ‘সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য’ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করায় শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেয়ার পরও বিতর্ক থামেনি।

একদিকে এপোস্টকে নিয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ একাধিক নেতা জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। মনিরা শারমিন নিজের ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের সাম্প্রতিক বিতর্কিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে ‘ডিপ প্ল্যান’ খোঁজার প্রবণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

অন্যদিকে, শিবির-সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের পক্ষের পোস্টও যথেষ্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে এনসিপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ