আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

আজ ঢাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলের সমাবেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমাবেশ ও শান্তি সমাবেশের নামে বিএনপি-আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি শোডাউনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলেই তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে নামবে পুলিশ। তাণ্ডব সৃষ্টিকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, এমনকি প্রয়োজনে রাবার বুলেটও ছুড়বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত সদস্যের পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার রিজার্ভ ফোর্স মাঠে নামছে। তবে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলে পুলিশ তাতে কোনো ধরনের বাধা দেবে না।

এদিকে দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশস্থল এবং এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে সর্বোচ্চ সহনশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেউ যাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাতা ফাঁদে পা না দেয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার তাগিদ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য অতিউৎসাহী হয়ে যাতে অহেতুক অ্যাকশনে না নামে সে বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তীক্ষè নজরে রাখবেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জানান, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমাবেশের এক দিন আগে সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারের ককটেল বিস্ফোরণ এবং এতে একজন আহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনের আগে ফের বোমাবাজি ফিরে এলো কিনা তা নিয়ে গোয়েন্দারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এটি ক্ষমতা প্রদর্শনের মহড়া, নাকি ভীতি সৃষ্টির পায়তারা গোয়েন্দারা তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে এর নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো পক্ষকে ফাঁসানোর ঘটনা রয়েছে কিনা সে বিষয়টিও খুঁজে দেখবে গোয়েন্দারা।

এদিকে বিএনপির সমাবেশ এবং আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার দুপুরের পর থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফা বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। যারা সরাসরি নাশকতা চালাবে শুধু তাদের বিরুদ্ধেই নয়, নেপথ্য মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ চলাকালে কোথাও কোনো অরাজক পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট জোনের দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা তা নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি প্রদর্শন করলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আগাম সতর্ক করা হয়েছে।

ডিএমপির অপরাধ বিভাগের একজন ডিসি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নিয়ে তারা যথেষ্ট চাপে রয়েছে। কেননা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের সমাবেশস্থল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে এক লাখ মানুষের জমায়েত করার টার্গেট নিয়েছে। একই দিনে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সমাবেশ থেকে এক দফা আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণার সময় বড় শোডাউনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অথচ দু’টি সমাবেশস্থলের দূরত্ব গুগল ম্যাপ অনুযায়ী মাত্র ১.১ কিলোমিটার। আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে এক লাখ মানুষ জড়ো হলে এ ঢল ফকিরাপুল ছাড়িয়ে নয়া পল্টনের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছাবে। আবার বিএনপির সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হলে তার ঢেউ আরামবাগে আছড়ে পড়বে। বুধবার দুপুরে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি সমাবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা তাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে পুলিশ প্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশ আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ এখন ইন্টেলিজেন্স-নির্ভর কাজ করে। আগাম তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়। এ কারণে গত কয়েক বছর ধরে দেশে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। কোথাও যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয় সে ব্যাপারে আগাম ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায় তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে, কে কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী তা বিবেচনা করবে না পুলিশ।

আইজিপি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তবে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে কেউ পার পাবে না। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে পুলিশের কাছে সন্দেহ হচ্ছে, এরই মধ্যে তাদের গতিবিধি এবং সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করছে। তাদের বিষয় গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সমাবেশের দিন ফেসবুক এবং ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটনার অপচেষ্টা চালাতে না পারে সে বিষয়ে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, নয়া পল্টন, মতিঝিল, কাকরাইলের নাইট অ্যাঙ্গেল ক্রসিং, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা ও বায়তুল মোকাররমের চারপাশসহ নগরীর প্রায় তিন ডজন পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্পর্শকাতর স্পটে মোতায়েন থাকবে গোয়েন্দা ওয়াচম্যান এবং ডিবির ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরাম্যানরা। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং তথ্য সংগ্রহ করবে তারা। যাতে এসব ঘটনায় জড়িতদের পরবর্তীতে সহজেই শনাক্ত করা যায়।

এদিকে নির্ধারিত এ স্পটগুলো বাইরেও রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। কেননা কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসার পথে কিংবা সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা কোথায় কোন ধরনের বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা চালাবে তা গোয়েন্দাদের অজানা। তাই র‌্যাব-পুলিশের নিয়মিত টিমের পাশাপাশি পিকেট, মোবাইল, দাঙ্গা ও স্টাইকিং রিজার্ভ ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যাতে তারা যে কোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত যে কোনো পয়েন্টে ছুটে গিয়ে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে।

বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হচ্ছে। কর্মসূচির স্পটমুখী কারও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থামিয়ে দেহ তল্লাশি করা হবে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী বহনকারী যানবাহনে লাঠিসোঁটা-ধারাল অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরকদ্রব্য বহনের খবর পাওয়া গেলে তা আটক করবে পুলিশ। তবে অবৈধ কোনো কিছু পাওয়া না গেলে তা তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেওয়া হবে।

এদিকে খোদ আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অনেক নেতাও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে কাছাকাছি স্পটে দু’টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপিকে রাজপথ ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেননা তারা এ সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় জ্বালাও-পোড়াও-বোমাবাজিসহ নানা ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছে। সারা দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তাই এবার সে সুযোগ পেলে একই ধরনের অপতৎপরতা চালাতে পারে। তাই বিএনপিকে রাজপথ থেকে হটিয়ে না দেওয়ার কোনো বিকল্প পথ নেই। তবে দলের নেতাকর্মীরা যাতে কোনোভাবে কোনো বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে তাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে প্রথম সারির নেতারা দাবি করেছেন।

অন্যদিকে সমাবেশের নামে সন্ত্রাস ও অরাজকতা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ কথা বলেন মন্ত্রী। ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসা যাবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব। এ সময় বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাস প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার।


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রামে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার মিছিলের পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন-তানভীর হাসান (২৭), মোসলেম উদ্দিন (৪০), বিপু ঘোষ বিলু (৫৫), মোঃ নাহিদ হোসেন (১৯), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২০), মোঃ নওশের উদ্দিন চৌধুরী (২১), মোঃ জুয়েল (২৪), মোঃ আলাল (২১), মোঃ আসিফ (২২), মোঃ শুভ রহমান (২২), সৌরভ দেওয়ানজী (২৯), ইমাম হোসেন সাদমান (২২)৷

পুলিশ জানায়, শুক্রবার কোতোয়ালী থানাধীন রেলওয়ে বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। পরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝটিকা মিছিলে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আ. লীগ নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার মেডিকেল সেন্টার গলি থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।

জানা গেছে, বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া সবাই ওমর গণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল নিয়ে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। কোনো অগ্রগতি হলে আপনাদেরকে (সাংবাদিক) জানানো হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র আরও জানায়, সকাল সাতটার দিকে ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি নগরীর মেডিকেল সেন্টার গলি থেকে গোলপাহাড় মোড়ের দিকে চলে। এতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদ জানায়। এই মিছিলে পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর ছবিযুক্ত ব্যানার দেখা যায়।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ