আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

বদলি করা হলো যেই ৪৭ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে

ঢাকা অফিস:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ধারাবাহিক বদলির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৪৭ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ইউএনওদের বদলির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে সম্মতি দেয় ইসি। ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সোমবার (৪ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। এ ছাড়া আরও ২০ জন ইউএনও’র বদলির চিঠি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলির সময় তিন দিন বাড়িয়ে পুনরায় চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার (৩ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। ইসির উপসচিব মো. মিজানুর রহমানের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে—সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) পর্যায়ক্রমে বদলির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে ৫ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আন্তবিভাগে বদলি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যে বিভাগের কর্মকর্তা (ইউএনও) সেই বিভাগেরই অন্য কোনও উপজেলায় তাকে দেওয়া হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যেও বদলি করা হয়েছে।

বদলি হওয়া ইউএনও

চট্টগ্রাম বিভাগ: রাঙামাটি সদরের ইউএনও নাজমা বিনতে আমিনকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে, বান্দরবানের লামার ইউএনও মোস্তফা জবেদ কাওসারকে রাঙামাটি সদরে, রাঙামাটির রাজস্থলীর ইউএনও শান্তনু কুমার দাশকে বান্দরবানের লামায়, খাগড়াছড়ির পানছড়ির ইউএনও রুবাইয়া আফরোজকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে, কক্সবাজারের পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমাকে চাঁদপুরের হাইমচরে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের ইউএনও এএইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদকে রাঙামাটির রাজস্থলী, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের ইউএনও অঞ্জন দাশকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি, চাঁদপুরের হাইমচরের ইউএনও চাই থোয়াইহলা চৌধুরীকে কক্সবাজারের পেকুয়ায় বদলি করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগ: কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ইউএনও মো. সাদিকুর রহমান সবুজকে টাঙ্গাইলের মধুপুর, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ইউএনও বি এম কুদরত এ-খুদাকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গাজীপুরের কাপাসিয়ার ইউএনও একেএম গোলাম মোর্শেদ খানকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে, কিশোরগঞ্জ সদরের ইউএনও মোহাম্মদ আলী সিদ্দিককে গাজীপুরের কাপাসিয়া, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার ইউএনও রোজলিন শহীদ চৌধুরীকে নরসিংদীর রায়পুরায়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ইউএনও ফেরদৌস ওয়াহিদকে ঢাকার সাভারে, ঢাকার ধামরাইয়ের ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকীকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে,

গাজীপুরের শ্রীপুরের ইউএনও মো. তরিকুল ইসলামকে কিশোরগঞ্জের সদর, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ইউএনও তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদকে ঢাকার ধামরাইয়ে, নরসিংদীর রায়পুরার ইউএনও মো. আজগর হোসেনকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়, ঢাকার সাভারের ইউএনও মো. মাজহারুল ইসলামকে বন্দর নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইলের মধুপুরের ইউএনও শামীমা ইয়াসমিনকে গাজীপুরের শ্রীপুরে, ফরিদপুরের ভাঙ্গার ইউএনও আজিম উদ্দিনকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া বদলি করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগ: বরিশাল সদরের ইউএনও মনিরুজ্জামানকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ এবং পিরোজপুরের নেছারাবাদের ইউএনও মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদারকে বরিশাল সদরে বদলি করা হয়েছে।

খুলনা বিভাগ: চুয়াডাঙ্গা সদরের ইউএনও শামীম ভূঁইয়াকে সাতক্ষীরা সদরে, কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ইউএনও বিতান কুমার মণ্ডলকে ঝিকরগাছা যশোর, সাতক্ষীরা সদরের ইউএনও ফাতেমা-তুজ-জোহরাকে চুয়াডাঙ্গা সদরে, যশোরের ঝিকরগাছার ইউএনও মো. মাহবুবুল হককে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বদলি করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ: ঈশ্বরগঞ্জের ইউএনও হাফিজা জেসমিনকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহের তারাকান্দার ইউএনও মিজাবে রহমতকে শেরপুর সদরে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ইউএনও ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ, জামালপুর সদরের ইউএনও লিটুস লরেন্স চিরানকে নেত্রকোনার আটপাড়ায়, শেরপুর সদরের ইউএনও মেহনাজ ফেরদৌসকে জামালপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়ার ইউএনও মো. শাকিল আহমেদকে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বদলি করা হয়েছে।

সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলের ইউএনও মহুয়া শারমিন ফাতেমাকে সিলেটের ওসমানীনগরে, সিলেটের ওসমানীগরের ইউএনও নীলিমা রায়হানাকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে, সিলেটের গোয়াইনঘাটের ইউএনও তাহমিলুর রহমানকে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলে, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সিদ্ধার্থ ভৌমিককে সিলেটের গোয়াইনঘাট, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ইউএনও মো. সাজেদুল ইসলামকে সিলেটের জৈন্তাপুর এবং সিলেটের জৈন্তাপুরের ইউএনও আল-বশিরুল ইসলামকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বদলি করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ: নওগাঁর বদলগাছীর ইউএনও আলপনা ইয়াসমিনকে পাবনার সাঁথিয়া, নওগাঁর সাপাহারের ইউএনও মো. আবদুল্যাহ আল মামুনকে জয়পুরহাট সদরে, জয়পুরহাট সদরের ইউএনও মো. আরাফাত হোসেনকে পাবনার ভাঙ্গুরা, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ইউএনও তৃপ্তি কণা মণ্ডলকে নওগাঁর বদলগাছী, পাবনার ভাঙ্গুরার মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ এবং পাবনার সাথিঁয়ার ইউএনও মো. মাসুদ হোসেনকে নওগাঁর সাপাহারে বদলি করা হয়েছে।

রংপুর বিভাগ: কুড়িগ্রাম সদরের ইউএনও রাসেদুল হাসানকে পঞ্চগড়ের অটোয়ারী এবং অটোয়ারীর ইউএনও মো. মুসফিকুল আলম হালিমকে কুড়িগ্রাম সদরে বদলি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পাকাপাকিভাবে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির চেয়ারে তামিম ইকবালরোববার (৭ জুন) বিকেলে মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক পদে বিজয়ী হয়েছেন তামিম ইকবাল খান। পরিচালকদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। 

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ ভোট পেয়েছেন সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইশরাফিল খসরু। এরপর মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ফয়সাল ইয়াসির পেয়েছেন ৬৮ ভোট।ফাহিম সিনহা এবং শানিয়ান তানিম ৬৬টি করে ভোট পেবিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হলেন তামিম ইকবালয়েছেন। আসিফ রাব্বানী ৬৪, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ৬৩টি ভোট পেয়েছেন। রফিকুল ইসলাম বাবু ৫৩ এবং ড. শামীম ৪১ ভোট পেয়েছেন । ক্লাব ক্যাটাগরিতে মোট ভোট ছিল ৭৬টি। এর মধ্যে ৭৪টি ভোট কাস্ট হয়েছে।

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ