আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

দীর্ঘ তেইশ বছর আন্দোলন সংগ্রামে বাংলাদেশের অভ্যুদ্ধয় -আ জ ম নাছির উদ্দিন

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ তেইশ বছর আন্দোলন, লড়াই, সংগ্রাম এবং অতঃপর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্ধয় ঘটে । বঙ্গবন্ধুর আকাক্সক্ষা ছিল বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। সেই লক্ষেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ গরীব দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক টানা ১৫ বছর ক্ষমতাসীন থাকায় এ জাতির সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জিত হলেও সামাজিক বৈষম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নির্মূল হয়নি। আগামী জাতীয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মত বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার প্রতিষ্ঠা করে সামাজিক বৈষম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটনের প্রত্যয় ধারণ করে জনগণের কাছে আমাদেরকে যেতে হবে। তিনি আজ শনিবার সকালে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপি নির্বাচনী ট্রেন মিস করে এখন আবোল-তাবোল বকছে। তারা অবরোধ হরতালের নামে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। চোরাগুপ্ত হামলায় পরিবহনে আগুন দিচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার কাটার দিয়ে রেললাইন কেটে ফেলছে। তাই এই দলটি কিছুতেই গণতান্ত্রিক দল নয়। এটা একটি আন্ডারগ্রাউন্ড গুপ্ত ঘাতকের আস্তানা। এ আস্তানাকে অবশ্যই গুরিয়ে দেয়া হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধু যে লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন এবং সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তা তিনি করে যেতে পারেননি। বাংরাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মারা তাঁকে সপরিবারে খুন করেছে। এরপর বাংলাদেশ পাকিস্তানী ভাবধারায় নিমর্জ্জিত হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা ৬ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এসে দল ও জাতির হাল ধরেছেন এবং ১৯৯৬ সালে নৌকা প্রতীকের বিজয়ের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় এসে দেশকে পাকিস্তানী ভাবধারার কবল থেকে উদ্ধার করেন। এরপর ২০০১ সালে সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করলে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধী নিজামী ও মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়ে তাদের গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেন। এ লজ্জা রাখি কোথায়। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে জাতিকে যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন তা অকল্পনীয়। আমরা অনেক সূচকে পাকিস্তানকে অনেক আগেই পিছনে ঠেলে দিয়েছি। ভারত একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ক্ষমতা সম্পন্ন দেশ। বেশকিছু সূচকে আমরা ভারতের চেয়ে এগিয়ে। অচিরেই ভারতে বিভিন্ন সূচকে আরো বেশি পিছনে ফেলে দেয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি জেনে গেছে নির্বাচন হবে এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবেই। বিএনপি নেতা মঈন খান বলেছেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ৫ দিনও ঠিকবে না, এটা পাগলের প্রলাপ। যারা বিদেশী প্রভুর পা ধরে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল তাদের প্রভুরাও বুঝে গেছে বিএনপি শিকড়হীন পরগাছা। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ এবং তার গঠনতান্ত্রিক সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাড়াও নৌকামুখী আরো একাধিক সংগঠন রয়েছে। আওয়ামী লীগসহ এ সকল সংগঠনের নেতাকর্মী ও আত্মীয় স্বজন এবং ঘনিষ্ঠজনরা ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হলে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে। তাই কে নির্বাচনে আসুক বা না আসুক সেটা বড় কথা নয়; ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতির ঢল থাকলে প্রমাণ হবে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে এবং ইনশাল্লাহ হবেই। চট্টগ্রাম-০৯ আসনে নৌকা প্রতীক প্রার্থী ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের আইন ও বিধিমালায় সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে, কোন রাজনৈতিক দল পর পর যদি দুইটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে ঐ দলের নিবন্ধন বাতিল হবে। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন করেনি, ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচন করতে বাধ্য হয়। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনও তারা বর্জন করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা যদি না আসে তাহলে তাদের নিবন্ধন থাকবে না। তাই তারা ঐ নির্বাচনে আসতে বাধ্য হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি, শিক্ষা মানব সম্পদ সম্পাদক জালাল উদ্দিন ইকবাল, নির্বাহী সদস্য আবুল মনসুর, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, ড. নিছার উদ্দিন মঞ্জু, মোহাম্মদ জাবেদ, রোটারিয়ান হাজী মো. ইলিয়াস, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের রুহুল আমিন তপন, মো. এরশাদ উল্লাহ, জাফরুল হায়দার সবুজ, সাইফুল আলম বাবু, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা যুবলীগের আহŸায়ক সায়েরা বানু রুশনী। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা শেখ মোহাম্মদ ইসহাক, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ হাসান মাহমুদ শমসের, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাজী মো. হোসেন, মহিলা সম্পাদিকা জোবাইরা নার্গিস খান, ইঞ্জিনিয়ার মানস রক্ষিত, উপসম্পাদক শহিদুল আলম, নির্বাহী সদস্য বখতিয়ার উদ্দিন খান প্রমুখ। এছাড়া ১৫টি থানা, ৪৪ সাংগঠনিক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে অস্থায়ী শহীদ মিনারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন-বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া যতবারই দেশ পরিচালনা করেছে ততবারই দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দেখা পেয়েছে। জিয়া পরিবারের সুুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

 

মানুষের যে মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করে; দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রুপ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, ই হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মত কল্যাণমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “ঈদবস্ত্র বিতরণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৫০০ মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের সেবা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, জনগণের কাছে আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপি-কাউন্সিলররা জনগণের পাশে ছিলনা। জনগণের ভাগ্যন্নোয়নের কথা বলে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। সে পাচারের টাকায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীরা এখন বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে।

৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু তালেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. ইসমাঈল বালি, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজ সেবক বাবু দিলীপ মজুমদার, পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. শহিদুল হক, আশরাফুল ইসলাম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শফিকুল আলম, মোহাম্মদ হামিদ, জিয়া সাইবার ফোর্স বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বাহাউদ্দিন ফারুক মুন্না, কোতোয়ালি থানা তাঁতি দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. শেখ আলী মিঠু , প্রবাল কৃষ্ণ, মোহাম্মদ সেলিম, যুবদলের মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নাদিম, রিয়াজ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ তুহিন,  সদস্য সচিব মো. জসিম, কোতোয়ালী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মারুফ,  কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. হোসেন মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ।

নারীদের শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচীর মধ্যে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অন্যতম। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদেরকে স্বনির্ভর, আত্মপ্রত্যয় এবং শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে মেয়েদের জন্য এইচ.এস.সি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এছাড়া নারীদের সার্বিক কল্যাণে তিনি অনেকগুলো কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য পুত্র বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্সমতায় আসার পর নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও বেগবান করতে প্রত্যেক নারীকে উদ্যেক্তা হিসেবে গড়ে উঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা কাজও শুরু করেছেন।


সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পর্যায়ে ৩ ক্যাটাগরিতে ৪ জন অদম্য নারীকে ফুল, ক্রেস্ট ও সনদপত্রসহ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা হচ্ছেন-শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল হালিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনা, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের মেয়ে শমলা বেগম, সফল জননী নারী ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আমিন আহমদ ভূঁঞার স্ত্রী বেগম তাজকেরা চৌধুরী ও সফল জননী নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার চান্দনপুর পাখাচং গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে বিলকিছ বেগম। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা তাদের জীবন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈরী পরিস্থিতিতে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা বলে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা মেরামতের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বিএনপি ৩১ দফা ঘোষনা করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফার ৮টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-ফ্যামিলি কার্ড। এটি পাবেন পরিবারের প্রধান নারী। কোন রাজনৈতিক বিবেচনা বা জনপ্রতিনিদিদের মাধ্যমে নয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ তালিকার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে, যাতে পরবর্তীতে কোন সরকার এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি জেলার ১৪টি ওয়ার্ড/উপজেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সবক’টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত অদম্য নারীদের বক্তব্যের আলোকে তিনি বলেন, আজকের অদম্য নারীদের মধ্যে এ পুরস্কার সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে-ইউনিয়নে-পৌরসভা-উপজেলা-থানা-নগর ও জেলা পর্যায়ে এটি ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নারী সম্মানের হকদার। বাংলাদেশে যত নারী আছেন তারা কোন না কোন জায়গায় অদম্যতার পরিচয়ে ঠিকে আছেন। অদম্য নারীদের জীবন-যুদ্ধে হার না মানার কাহিনীর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার এবং সমাজের অন্যান্য নারীদেরকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমরা বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে চাই, চট্টগ্রামের জন্য অনেক কিছু করতে চাই, এজন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, সংবিধানে সকলের সমান অধিকার। ১৯ কোটি মানুষের দেশে ৪ কোটি মানুষও যদি কর্মক্ষম বা অর্থনীতির বাইরে থাকে তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা কাঙ্খিত উন্নয়ন কোনভাবে সম্ভব নয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা উদ্যেক্তা হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে এবং উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে যদি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, সমতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে আমাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদেরকে সাথে নিয়ে পথ চলতে হবে। উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষের সমতা আনায়ন অত্যন্ত জরুরী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো.জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অদম্য নারী পুরস্কার কর্মসূচীর অতিরিক্ত পরিচালক ও কর্মসূচী পরিচাল মোঃ মনির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিচালক (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অদম্য নারীগণ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ