আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

ঘুঘুর মতো বারবার ধান খেয়েছে জাতীয় পার্টি’ স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রান্সজেন্ডার রানী।

রংপুর প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় পার্টি রংপুরের মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী। ঈগল পাখি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর এই প্রতিনিধি বলেন, রংপুর এক সময় জাতীয় পার্টির ঘাঁটি ছিল। আমরা সারাজীবন অন্ধের মতো উনাদেরকে (জাতীয় পার্টি) ভোট দিয়ে এসেছি। কিন্তু তারা রংপুরের জন্য তেমন কোনো দৃষ্টান্ত তৈরি করতে উন্নয়ন করেনি। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় রংপুরকে উনারা পিছিয়ে রেখেছেন।

সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রতীক নিতে আনোয়ারা ইসলাম রানী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসানের সভাকক্ষে যান। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক ‌বরাদ্দ পেয়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, আমরা রংপুরের সহজ-সরল মানুষেরা সরল মনে জাতীয় পার্টিকে ভালোবেসে গিয়েছি। কিন্তু উনারা আমাদেরকে ভালোবাসার প্রতিদান দেননি। উনারা (জাতীয় পার্টির নেতারা) বারবার এসে ঘুঘুর মতো আমাদের ধান খেয়ে গেছেন। আমাদের জন্য কোনো উন্নয়ন করেননি। রংপুরের মানুষ পরিবর্তন চায়। নতুন কিছু দেখতে চায়। সঠিক ও যোগ্য একজন নেতাকে দেখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, আমি জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিএম কাদের সাহেবকে শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। আমি ছোট একজন মানুষ। আমি নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছি না, আমি একজন অংশগ্রহণকারী। নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করেছি জনগণ যেটা সিদ্ধান্ত দেবে আমি সেটাই মেনে নিব।

এ সময় আনোয়ারা বলেন, আমরা বারবার উনাদেরকে (জাতীয় পার্টি) নির্বাচিত করে এসেছি। আমি নিজেও জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়েছি। কিন্তু উনারা নির্বাচিত হওয়ার পর আমাদের সাধারণ জনগণের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখেন। রংপুরে বন্যা, বর্ষা, করোনা, লকডাউনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরা তাদের পাশে পাই না। তাদের দেখা পাওয়া যায় না। যার কারণে রংপুরের মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে। আমরা পরিবর্তনে পক্ষে আছি, আমাদের কোনো পিছুটান নেই।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন (সিটি কর্পোরেশন ও রংপুর সদর) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আনোয়ারা ইসলাম রানী। এই আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দলীয় প্রতীক ‘লাঙ্গল’, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আব্দুর রহমান রেজু ‘একতারা’, বাংলাদেশ কংগ্রেসের একরামুল হক ‘ডাব’, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সহিদুল ইসলাম ‘মশাল’ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শফিউল আলম ‘আম’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

এদিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানান, রংপুর জেলার ছয়টি আসনে ৪৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ৩৯ জনের বৈধ হয়। নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পায় আরও সাতজন। রোববার (১৭ ডিসেম্বর) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ছয়টি আসন থেকে ১০ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। সোমবার প্রতীক বরাদ্দের দিনে চূড়ান্ত হওয়া ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রতীক দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে রংপুর-১ আসনে নয়জন, রংপুর-২ আসনে তিনজন, রংপুর-৩ আসনে ছয়জন, রংপুর-৪ আসনে তিনজন, রংপুর-৫ আসনে আটজন এবং রংপুর-৬ আসনে সাতজনসহ মোট ৩৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি (রোববার) অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা পৌর প্রশাসক, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৃক্ষরোপণ শেষে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেশি বেশি করে গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাই কে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ উদ্যোগ ভাঙ্গুড়ার পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়া অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পূর্ব কালুরঘাট ১২ নম্বর ব্রিজ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার পরনে লুঙ্গি ও নীল রঙের গেঞ্জি ছিল। বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ অলক চাকমা বলেন, “ট্রেনে কাটা পড়ে লোকটির দেহ কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর হবে। ঘটনাটি রেলওয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গোমদণ্ডী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন কালুরঘাট সেতু পার হয়ে আসার পথে এক ব্যক্তি কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন। ট্রেনটি বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটে গোমদণ্ডী স্টেশন ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ