আজঃ বুধবার ১ জুলাই, ২০২৬

ঝালকাঠিতে জাল ভোটের অভিযোগে ৯ জনকে কারাদন্ড

মশিউর রহমান রাসেল ঝালকাঠি প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঝালকাঠি জেলার দুটি সংসদীয় আসনে জাল দেয়ার
চেস্টার অভিযোগে ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং একটি কেন্দ্রে জালভোটকে কেন্দ্র করে ৩০ মিনিটি ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখার মধ্য দিয়ে বিকাল চারটায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জেলার ২৩৭ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ রবিবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকাল
চারটায় শেষ। ভোট প্রদানের গড় হার ৪৭% বলে জানিয়েছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম ও পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুলজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আবদুস সালেক, নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। কেন্দ্রের বাহিরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব সদস্যরা স্টাইকিং
ফোর্স হিসেবে টহল দিয়েছে। নলছিটি উপজেলার মগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীনের নেতৃত্বে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ৫৪ টি ব্যালট lপেপার জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে জাল ভোট দেয়ার চেস্টা করলে এ নিয়ে হট্টোগোল হলে ৩০ মিনিটি ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদার বিষয়টি
লিখিতভাবে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং অফিসারকে জানিয়েছেন। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, জাল ভোট দেয়ার চেস্টাকে কেন্দ্র করে ওই কেন্দ্রে ৩০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আবার ভোট গ্রহণ স্বাভাবিক করে। পরবর্তীতে জেলা রিটানিং কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে পরবর্তীআইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সকাল ১১ টারদিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পাকমহর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে মেহেদেী হাসান সোহাগ (৩৫) পিতা তোফাজ্জেল হোসেন নামে এক যুবককে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদাণ করে ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে চারজনকে ১৫ দিন করে কারাদন্ড প্রদান করে ভ্রাম্যান আদালত। এ ছাড়া রাজাপুর ইদ্রপাশা কেন্দ্রে সুখি আক্তার নামে এক নারীতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও নলছিটি উপজেলায় ১জনকে কারাদন্ড ও ২জনকে অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।ঝালকাঠির দুটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১৬৪ জন।
ঝালকাঠি ১ আসনে মোট ভোটার ২১২০০৮ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০৭৮৬০ জন এবং নারী ১০৪১৪৫ জন এবং হিজরা ৩ জন। ঝালকাঠি ০২ আসনে মোট ভোটার ৩৪২১৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭৩৯০০ জন এবং নারী ভোটর ১৬৮২৫৪ জন, হিজড়া ২জন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো প্রতিরোধে সবাইকে কাজ করতে হবে : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মিথ্যা তথ্যা, গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। ফেসবুক বা অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে কোন তথ্য শেয়ার বা মন্তব্য করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরী। গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় এমন কর্মকান্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার রোধে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় ও উদ্বুদ্ধকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি ্এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোঃ সাইদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বুদ্ধকরণ সভায় চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম, প্রেস ক্লাব সভাপতি মোঃ জাহিদুল করিম কচিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ মতামত ব্যক্ত করেন।
মানবিক ডিসি জাহিদ বলেন, নতুন প্রজন্ম বা শিক্ষার্থীদেও কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে না নিয়ে তাদেরকে মোবাইলের অপব্যবহার থেকে মুক্ত রাখতে পিতা-মাতাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ভুয়া নামে পরিচালিত ফেসবুক আইডি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে জেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সভায় বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও সচেতন ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি যে কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, সরকারের নিদের্শনা অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও অনেক সময় গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার এবং সত্য ও নির্ভুল তথ্য প্রচারে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুররুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মতবিনিময় ও উদ্বুদ্ধকরণ সভায় সামাজিক সম্প্রীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

কুষ্টিয়ায় শ্বশুরকে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে জামাই কারাগারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় শ্বশুরকে মাদকদ্রব্য দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন হাবিবুল ইসলাম ঠান্টু (৩২) নামের এক যুবক।সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের কুন্টিরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।আটক ঠান্টু একই উপজেলার মাঝিহাট গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, কুন্টিরচর গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ের সঙ্গে কয়েক বছর আগে বিয়ে হয় ঠান্টুর। অতিরিক্ত মাদকাসক্ত থাকার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকদিন আগে তালাক নোটিশ পাঠায় তার স্ত্রী।
এর প্রতিশোধ নিতে রবিবার রাতে শ্বশুরবাড়ির বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে মাদক রেখে ট্রিপল নাইনে ফোন দেন তিনি। এ সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফারুক হোসেনের বাড়ি থেকে ওই মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।

এদিকে ৯৯৯-এ ঠান্ডুর দেওয়া মাদকের নিখুঁত তথ্যে পুলিশের সন্দেহ হয়। পাশাপাশি ফারুককে জিজ্ঞেস করে পুলিশ তালাকের বিষয়টিও জানতে পারে। পরে পুলিশ ঠান্ডুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শ্বশুরকে ফাঁসাতে মাদক রাখার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করেছে।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, আটক ঠান্টু নিয়মিত মাদক সেবন করেন। এ নিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার ঝামেলা চলছিল। স্বামীকে মাদক থেকে ফেরাতে স্ত্রী তালাকের নোটিশ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত ঠান্টু শ্বশুরবাড়িতে মাদক রেখে এসে মিথ্যে গল্প সাজায়। তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ