আজঃ শুক্রবার ১২ জুন, ২০২৬

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) ১১৮তম বার্ষিকী ওরশে লাখো ভক্তের পদচারণায় মুখর মাইজভান্ডার

এম আরমান রাউজান (চট্টগ্রাম)

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) ১১৮তম বার্ষিকী ওরশে লাখো ভক্তের পদচারণায় মুখর মাইজভান্ডার
এশিয়া উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলীয়ে কামেল আধ্যাত্নিক সাধক ও হাজার হাজার পীর মশায়েখদের পথপ্রদর্শক, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ও সুফিজম চর্চায় শতাব্দীর পথপ্রদর্শক গাউছুল আজম হযরত শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) মাইজভান্ডারীর ১১৮তম বার্ষিক ওরশের প্রধান দিবস (১০ মাঘ) আজ বুধবার (২৪ জানুয়ারি) ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হবে ঐতিহাসিক ১০ মাঘ।

এ মহান সাধক বাংলাদেশে কাদেরীয়া তরিকার অন্যতম প্রবক্তা ও পথপ্রদর্শক। যার হাত ধরে গোটা বাংলাদেশের জেলা উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শত শত খলিফা ও খানকয়ে কাদেরীয়া। এছাড়াও বাংলাদেশের বাহিরেও ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মায়ানমার, চীন, ভুটান সহ বহু দেশে ইসলাম ও তরিকত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই জন্য হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারি সৈয়দ আহমেদ উল্লাহ (ক.) শতাব্দীর পথপ্রদর্শক বলা হয়। তাঁর এই ঐতিহাসিক ১১৮তম ঐতিহাসিক ওরশ শরিফে প্রতি বছর প্রায় অর্ধ কোটি মানুষের সমাগম ঘটে। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ থেকে বলা হয়েছে এবারের ওরশে গত কয়েক বছরের চেয়ে বেশি মানুষ উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাইজভান্ডার এলাকা সর্ববৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ধর্ম বর্ণ গােত্র নির্বিশেষে দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেক ভক্ত এই মহান দিবস উপলক্ষ্যে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে সমবেত হয়েছেন। তাদের প্রেম ও ভক্তিপূর্ণ অর্ঘ্যদান করছেন। বহু আশেক ভক্ত গরু, মহিষ, গয়াল, ছাগল, মুরগীসহ যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী হাদিয়া নজরানা নিয়ে জিকির ও জুলুশ সহকারে দরবারে হাজির হয়েছেন। মাইজভান্ডার দরবার শরীফসহ তৎসংলগ্ন এলাকা লােকে লােকারণ্য হয়ে গেছে গতকালই। পথের পাশে বসেছে বাঙালি কৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ ঐতিহ্যবাহী মাঘের মেলা। এ মেলাকে ঘিরে যেন শান্তিময় সাম্যবাদী বাঙালি জাতির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক অভূতপূর্ব মহাসম্মিলন ঘটেছে। আলােকসজ্জা করা হয়েছে হযরত আহমদ উল্লাহ (ক.) রওজাসহ অন্যান্য রওজা এবং মঞ্জিলগুলো। ওরশে আগত আশেক, ভক্ত, মুরিদান, জায়েরীনদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ১জন ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, স্ব স্ব মঞ্জিলের স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ওরশ শরীফে ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা ও ভিডিও চিত্র ধারণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারী করা হচ্ছে।
আজ বুধবার আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজাদ্দানশীন সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারি (ম.)। এ সময় উপস্থিত থাকবেন নায়েবে সাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভান্ডারী (ম.)। তাছাড়া আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করবেন গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলে মোন্তাজেম, সাজাদ্দানশীন সৈয়দ ডা. দিদারুল হক মাইজভান্ডারি (ম.)।

এ সময় উপস্থিত থাকবেন নায়েবে সাজ্জাদানশীন সৈয়দ হোসেইন রাইফ নুরুল ইসলাম রুবাব মাইজভান্ডারি (ম.)। এছাড়া সৈয়দ মনিরুল হক মাইজভান্ডারির পক্ষে পুত্রগণ সৈয়দ আহমদ হোসাইন শাহরিয়ার মাইজভান্ডারি (ম.), সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন সোহেল মাইজভান্ডারি (ম.) আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী সচিব নাজমুল হাসান মাহমুদ।
এদিকে মুনাজাত পরিচালনা করবেন গাউছিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন ও সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. হাসান মাইজভান্ডারী (ম.), গাউছিয়া রহমান মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন ছৈয়দ মুজিবুল বশর মাইজভান্ডারি (ম.), গাউছিয়া মঈনিয়া মঞ্জিলের সাজাদ্দাশীন সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি (ম.), গাউছিয়া আমিন মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ সামশুল আরেফীন মাইজভান্ডারি (বাবুল মিয়া), গাউছিয়া গায়েবিধন মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ আবুল মুনসুর মাইজভান্ডারি (ম.), নায়েবে সাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুর রহমান (মিজান) মাইজভান্ডারি (ম.), গাউছিয়া সামস মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ গোলাম মরতুজা মাইজভান্ডারি (ম.), নায়েবে সাজাদানশীন সৈয়দ আবু ছালেহ জঙ্গি মাইজভান্ডারি (ম.)।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফের ব্যবস্থাপনায় শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১০ জুন ২০২৬খ্রি. বুধবার বাদ মাগরিব গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফ এর ব্যবস্থাপনায় ৫ দিন ব্যাপী শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল-২০২৬ উপলক্ষে ২য় প্রস্তুতি সভা কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল মাহফিল এর অতিথি ও বক্তা নির্ধারণ, অনুষ্ঠানের দাওয়াত ও প্রচার, সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে, বিবিধ। এসময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ছালেহ সুফিয়ান, কাজী হাবিবুল হোসাইন, মো.ফজলুল হক, মো. শওকত হোসাইন, মো. খোরশেদ আলম, মো.রুকুনুজ্জামান টুটুল, আবদুল মান্নান, মাওলানা মুজিবুল হক, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, এসএম জাবেদ হোসাইন, হারুনুর রশিদ, কাজী আশরাফ হোছাইন, মো. জিয়াউল হাসান সাইফ, মো. শাহীন মুরাদ রাজা, সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিব, মো. আকতার মিঞা সমন্বয়কারী, মোহাম্মদ আব্দুর রব, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম রিমন, দিদারুল আলম লোকমান, মো. মুজিবুর রহমান রাসেল, লায়ন ডা.বরুণ কুমার আচার্য বলাই, বাবু প্রবোধপাল, দেবরাজ পাল, সৈযদ আবু আহমদ, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, মো. নুরমিয়া, মো. রানা সরকার, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মো. কামাল উদ্দীন, মো. শাহজাহান মনজু, মো. ইদ্রিস আলী, মুহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, মু. আমান উল্লা খান চৌধুরী লিটন প্রমূখ।

উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে : ডিসি চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, বর্তমানে উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।মঙ্গলবার নগরীর পিটিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক জেলা পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণ যেন সহজে, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

তিনি বলেন,আমরা বছরের পর বছর সভা-সেমিনারে অংশ নিই, নানা পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করি। কিন্তু নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে— বাস্তবে আমরা কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছি? জনগণ কি আমাদের কাছ থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে? এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জন-প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই অন্যের ভুল খুঁজি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব কতটুকু পালন করছি, তা নিয়ে আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি কমে গেছে। অথচ দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব আমাদেরই ওপর ন্যস্ত।

সাপ্তাহিক গণশুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডিসি বলেন, প্রতি বুধবার গণশুনানিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসেন। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, অনেক সমস্যাই স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান করা সম্ভব ছিল। আমরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হতাম, তবে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যেত।
দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অনেক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত একটি কার্যকর উদ্যোগ।তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বল্প ব্যয়ে ও দ্রুত বিচারসেবা দিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার কর্মস্থলকে সেবার সুবাসে ও মানবিকতার সৌরভে ভরিয়ে তুলুন, যেন মানুষ আপনাকে আস্থার প্রতীক হিসেবে মনে রাখে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন গ্রাম আদালত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবামুখী মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে এ সেবা সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। যেসব ইউনিয়নে মামলার সংখ্যা শূন্য বা তুলনামূলক কম, বিশেষ করে মিরসরাই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের উদাহরণ তুলে ধরে সেখানে জনসচেতনতা ও আস্থা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মামলার নথি, রেজিস্টার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে সংরক্ষণের তাগিদ দেওয়া হয়। তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ‘ইপসা’র পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানু শ্যামলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম আনোয়ার ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ১৯১টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ