আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) ১১৮তম বার্ষিকী ওরশে লাখো ভক্তের পদচারণায় মুখর মাইজভান্ডার

এম আরমান রাউজান (চট্টগ্রাম)

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) ১১৮তম বার্ষিকী ওরশে লাখো ভক্তের পদচারণায় মুখর মাইজভান্ডার
এশিয়া উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলীয়ে কামেল আধ্যাত্নিক সাধক ও হাজার হাজার পীর মশায়েখদের পথপ্রদর্শক, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ও সুফিজম চর্চায় শতাব্দীর পথপ্রদর্শক গাউছুল আজম হযরত শাহছুফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) মাইজভান্ডারীর ১১৮তম বার্ষিক ওরশের প্রধান দিবস (১০ মাঘ) আজ বুধবার (২৪ জানুয়ারি) ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হবে ঐতিহাসিক ১০ মাঘ।

এ মহান সাধক বাংলাদেশে কাদেরীয়া তরিকার অন্যতম প্রবক্তা ও পথপ্রদর্শক। যার হাত ধরে গোটা বাংলাদেশের জেলা উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শত শত খলিফা ও খানকয়ে কাদেরীয়া। এছাড়াও বাংলাদেশের বাহিরেও ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মায়ানমার, চীন, ভুটান সহ বহু দেশে ইসলাম ও তরিকত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই জন্য হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারি সৈয়দ আহমেদ উল্লাহ (ক.) শতাব্দীর পথপ্রদর্শক বলা হয়। তাঁর এই ঐতিহাসিক ১১৮তম ঐতিহাসিক ওরশ শরিফে প্রতি বছর প্রায় অর্ধ কোটি মানুষের সমাগম ঘটে। মাইজভান্ডার দরবার শরীফ থেকে বলা হয়েছে এবারের ওরশে গত কয়েক বছরের চেয়ে বেশি মানুষ উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাইজভান্ডার এলাকা সর্ববৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ধর্ম বর্ণ গােত্র নির্বিশেষে দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেক ভক্ত এই মহান দিবস উপলক্ষ্যে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে সমবেত হয়েছেন। তাদের প্রেম ও ভক্তিপূর্ণ অর্ঘ্যদান করছেন। বহু আশেক ভক্ত গরু, মহিষ, গয়াল, ছাগল, মুরগীসহ যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী হাদিয়া নজরানা নিয়ে জিকির ও জুলুশ সহকারে দরবারে হাজির হয়েছেন। মাইজভান্ডার দরবার শরীফসহ তৎসংলগ্ন এলাকা লােকে লােকারণ্য হয়ে গেছে গতকালই। পথের পাশে বসেছে বাঙালি কৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ ঐতিহ্যবাহী মাঘের মেলা। এ মেলাকে ঘিরে যেন শান্তিময় সাম্যবাদী বাঙালি জাতির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক অভূতপূর্ব মহাসম্মিলন ঘটেছে। আলােকসজ্জা করা হয়েছে হযরত আহমদ উল্লাহ (ক.) রওজাসহ অন্যান্য রওজা এবং মঞ্জিলগুলো। ওরশে আগত আশেক, ভক্ত, মুরিদান, জায়েরীনদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ১জন ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, স্ব স্ব মঞ্জিলের স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ওরশ শরীফে ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা ও ভিডিও চিত্র ধারণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারী করা হচ্ছে।
আজ বুধবার আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজাদ্দানশীন সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারি (ম.)। এ সময় উপস্থিত থাকবেন নায়েবে সাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভান্ডারী (ম.)। তাছাড়া আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করবেন গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলে মোন্তাজেম, সাজাদ্দানশীন সৈয়দ ডা. দিদারুল হক মাইজভান্ডারি (ম.)।

এ সময় উপস্থিত থাকবেন নায়েবে সাজ্জাদানশীন সৈয়দ হোসেইন রাইফ নুরুল ইসলাম রুবাব মাইজভান্ডারি (ম.)। এছাড়া সৈয়দ মনিরুল হক মাইজভান্ডারির পক্ষে পুত্রগণ সৈয়দ আহমদ হোসাইন শাহরিয়ার মাইজভান্ডারি (ম.), সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন সোহেল মাইজভান্ডারি (ম.) আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী সচিব নাজমুল হাসান মাহমুদ।
এদিকে মুনাজাত পরিচালনা করবেন গাউছিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন ও সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. হাসান মাইজভান্ডারী (ম.), গাউছিয়া রহমান মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন ছৈয়দ মুজিবুল বশর মাইজভান্ডারি (ম.), গাউছিয়া মঈনিয়া মঞ্জিলের সাজাদ্দাশীন সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি (ম.), গাউছিয়া আমিন মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ সামশুল আরেফীন মাইজভান্ডারি (বাবুল মিয়া), গাউছিয়া গায়েবিধন মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ আবুল মুনসুর মাইজভান্ডারি (ম.), নায়েবে সাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুর রহমান (মিজান) মাইজভান্ডারি (ম.), গাউছিয়া সামস মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ গোলাম মরতুজা মাইজভান্ডারি (ম.), নায়েবে সাজাদানশীন সৈয়দ আবু ছালেহ জঙ্গি মাইজভান্ডারি (ম.)।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ