আজঃ বুধবার ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

৬৯ এর গণঅভূত্থানের শহীদ হারুনের রাষ্ট্রীয়স্বীকৃতির দাবি

ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৯৬৯ সালের গণঅভূত্থ্যানে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শহীদ আজিজুল হক হারুনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন গণআন্দোলনের তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ বলেন, ২৭ জানুয়ারি আসলেই আমরা একটা অনুষ্ঠান করি। একটা আলোচনা হয়, শহীদ হারুন বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও দোয়ার মধ্যে দিয়ে হারুনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কিন্তু আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে তার কোন গেজেট হয় নাই। আগামী হারুন দিবসের পূর্বেই শহীদ হারুনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও গেজেটের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় শহীদ হারুন স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্থানীয় হারুন পার্কে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের আলোচনা সভায় অতিথি থেকে তিনি এসব দাবি জানান।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে শহীদ হারুনবেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
শহীদ হারুন স্মৃতি পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য সচিব এম এ হাইয়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন শহীদ আজিজুল হক হারুনের ছোট ভাই শফিকুল আলম চাঁন মিয়া, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ খান পাঠান সেলভী, অচিন্তপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ উল্লাহ আঃ হাই, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আঃ মুন্নাফ, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল গফুর, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এডভোকেট জসীম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রহিম উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান মজনু, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শিউলী চৌধুরী, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমেদ মিলন ও শহীদ হারুন স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি ফজলুল হকের সন্তান রাজিবুল হক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা আন্দোলনের সময় ঢাকা নবকুমার ইনস্টিটিউটের ছাত্র মতিউর রহমান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে সারাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নতুন মাত্রা তুঙ্গে ওঠে। আর এই বিক্ষোভের জের ধরেই ২৭ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১১টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে তৎকালীন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ফজলুল হকের নেতৃত্বে গৌরীপুর কলেজ থেকে ছাত্ররা একটি বিশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের মধ্যবাজার ধানমহালের কাছে আসামাত্রই তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক এম. এ সামাদের নির্দেশে আন্দোলনরত ছাত্রদের মিছিলের ওপর দাঙ্গা পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ওই সময় মিছিলের অগ্রভাগে থাকা পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন ছাত্রনেতা গৌরীপুর কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ২য় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আজিজুল হক হারুন।
শহীদ হারুনের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ছামারুল্লাহ্ গ্রামের মৃত মিয়া বক্স ও মাতা খাতুন্নেছার পুত্র। শহীদ হারুনরা ছিলেন ৬ ভাই ও ৩ বোন। তার মাঝে এক ভাই বেঁচে আছেন। নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের পাশেই ৬৯’র গণ-আন্দেলনে শহীদ আব্দুল আজিজুল হক হারুন চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন। তার জরাজীর্ণ কবরটি এলাকার লোকজনের সহায়তায় কিছু ইট দিয়ে বেষ্টনী করে টাইলস করে রাখা হলেও এখন আর কেউ এর খোঁজ রাখে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ ও অবিলম্বে নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা

‘শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’ , ‘হারার ভয়ে খেলে না, সেই কথা তো বলে না’, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, শাকসু ব্যান’, ‘মব করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’, ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’- এসব স্লোগান দেয়।

বিক্ষোবের সময় চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম রনি বলেন, শাকসু নির্বাচন কয়েক দফা পেছালেও আজ একটি সুন্দর নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি ছাত্রসংগঠনের কারণে হাজারো শিক্ষার্থী এ নির্বাচনের উৎসব থেকে বঞ্চিত হল। ১৯৯০-৯১ সালেও তারা দায়িত্ব নিয়ে বিশ্ববিদ্যলয় ছাত্রসংসদগুলোর নির্বাচন বন্ধ করেছিল, এখন আবার একই চেষ্টা করছে। তারা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় ছাত্রসংসদকে। নির্বাচন বন্ধ করতে যা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সবার প্রতিবাদ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের সঙ্গে আমাদের আন্দোলনের অতীত ইতিহাস আছে। তারা একসময় আমাদের সঙ্গে ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তারা টেন্ডারবাজিতে জড়িয়েছে। আপনারা রাজনীতি করতে পারেন, কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী বা স্বৈরাচারী শক্তিকে ক্যাম্পাসে জায়গা দিতে পারবেন না।

চবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছি, তা ছিল আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য। কিন্তু ছাত্রদল ও বিএনপি আবার পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম তারা অপরাজনীতির পথে যাবে না, অথচ সুযোগ পেলেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও হামলায় জড়াচ্ছে।

তাদের অন্তর্কোন্দলে দুই শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হলো কারা আবার আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রেজিম ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে ? প্রাতিষ্ঠানিক খুনের রাজনীতি তারাই শুরু করেছে। ডাকসুতে পরাজয়ের পর লজ্জা থাকলে তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তারা অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি অবিলম্বে শাকসু নির্বাচনের দাবি জানান।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এনসিপি চার সদস্যদের প্রতিনিধি দল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যদের প্রতিনিধি দল।১৯ জানুয়ারী সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।

এসময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন উদ্বেগ জানান এনসিপি নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রচারণা করছেন।

এনসিপির নেতৃবৃন্দ নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং নির্বাচনে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে সরকারকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়, সরকার তা নেবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলোচিত খবর

গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Oplus_131072

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গণভবনে তৈরি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

Oplus_131072

রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন তিনি।


রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ছবি: পিআইডি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ