আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

৬৯ এর গণঅভূত্থানের শহীদ হারুনের রাষ্ট্রীয়স্বীকৃতির দাবি

ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৯৬৯ সালের গণঅভূত্থ্যানে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শহীদ আজিজুল হক হারুনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন গণআন্দোলনের তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ বলেন, ২৭ জানুয়ারি আসলেই আমরা একটা অনুষ্ঠান করি। একটা আলোচনা হয়, শহীদ হারুন বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও দোয়ার মধ্যে দিয়ে হারুনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কিন্তু আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে তার কোন গেজেট হয় নাই। আগামী হারুন দিবসের পূর্বেই শহীদ হারুনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও গেজেটের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় শহীদ হারুন স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্থানীয় হারুন পার্কে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের আলোচনা সভায় অতিথি থেকে তিনি এসব দাবি জানান।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে শহীদ হারুনবেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
শহীদ হারুন স্মৃতি পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য সচিব এম এ হাইয়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন শহীদ আজিজুল হক হারুনের ছোট ভাই শফিকুল আলম চাঁন মিয়া, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ খান পাঠান সেলভী, অচিন্তপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ উল্লাহ আঃ হাই, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আঃ মুন্নাফ, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল গফুর, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এডভোকেট জসীম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রহিম উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান মজনু, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শিউলী চৌধুরী, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমেদ মিলন ও শহীদ হারুন স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি ফজলুল হকের সন্তান রাজিবুল হক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা আন্দোলনের সময় ঢাকা নবকুমার ইনস্টিটিউটের ছাত্র মতিউর রহমান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে সারাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নতুন মাত্রা তুঙ্গে ওঠে। আর এই বিক্ষোভের জের ধরেই ২৭ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১১টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে তৎকালীন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ফজলুল হকের নেতৃত্বে গৌরীপুর কলেজ থেকে ছাত্ররা একটি বিশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের মধ্যবাজার ধানমহালের কাছে আসামাত্রই তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক এম. এ সামাদের নির্দেশে আন্দোলনরত ছাত্রদের মিছিলের ওপর দাঙ্গা পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ওই সময় মিছিলের অগ্রভাগে থাকা পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন ছাত্রনেতা গৌরীপুর কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ২য় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আজিজুল হক হারুন।
শহীদ হারুনের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ছামারুল্লাহ্ গ্রামের মৃত মিয়া বক্স ও মাতা খাতুন্নেছার পুত্র। শহীদ হারুনরা ছিলেন ৬ ভাই ও ৩ বোন। তার মাঝে এক ভাই বেঁচে আছেন। নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের পাশেই ৬৯’র গণ-আন্দেলনে শহীদ আব্দুল আজিজুল হক হারুন চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন। তার জরাজীর্ণ কবরটি এলাকার লোকজনের সহায়তায় কিছু ইট দিয়ে বেষ্টনী করে টাইলস করে রাখা হলেও এখন আর কেউ এর খোঁজ রাখে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ