আজঃ শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬

ইস্পাহানি আদর্শ হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৪ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইস্পাহানি আদর্শ হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৪ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রধান শিক্ষক নার্গিস আকতারের সভাপতিত্বে স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এম এম ইস্পাহানি লিমিটেড এর ডিরেক্টর আলী ইস্পাহানি, বিশেষ অতিথি ছিলেন পাহাড়তলী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল আরিফিন, সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইস্পাহানি সামিট অ্যালায়েন্স টার্মিনালস লিমিটেড এর সিনিয়র জিএম অ্যান্ড হেড অব অপারেশনস ক্যাপ্টেন এম মেহেদী হাসান এবং সিজেএমসিএল এর সম্মানিত ডেপুটি ম্যানেজার (প্রশাসন) মোঃ তৌফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ¯^াগত বক্তব্য রাখেন বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৪ এর আহবায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মঈনুল ইসলাম। এছাড়া স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ সাইফুল আলম এবং শামসুন্নাহার জিনিয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও ক্রীড়া পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এম এম ইস্পাহানি লিমিটেড এর ডিরেক্টর আলী ইস্পাহানি সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষকবৃন্দ ও পরিচালনা পরিষদের পক্ষ হতে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আলী ইস্পাহানি কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণতন্ত্রের সংকট ও বাংলাদেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি জাতির গল্প কে লেখে? ইতিহাস কি মানুষের রক্তে লেখা, নাকি ক্ষমতার কালি দিয়ে? বাংলাদেশে এই প্রশ্ন আজ কেবল বৌদ্ধিক বিতর্ক নয়; এটি আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, এখানে ইতিহাস, অর্জন, এমনকি গণআন্দোলনের চেতনাও প্রায়শই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতর বন্দী হয়ে পড়ে। এই দেশে খুব কমই অধ্যায়, অর্জন, ক্ষেত্র, কিংবা প্রতিষ্ঠান আছে যা রাজনীতিকরণের কবল থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে।

আমরা এমন এক বাস্তবতায় বাস করি, যেখানে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে আখ্যানও বদলে যায়। সংবিধানের ব্যাখ্যা, ইতিহাসের উপস্থাপন, এমনকি জাতীয় অর্জনের মালিকানাও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়। ফলে, যে সংগ্রাম একসময় ছিল জনগণের সম্মিলিত চেতনার প্রতিফলন, তা ক্রমে পরিণত হয় দলীয় পরিচয়ের অংশে। এখানেই শুরু হয় বিভাজন, যেখানে “আমাদের” ইতিহাস আর “তাদের” ইতিহাস আলাদা হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, এক মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে: একজন প্রকৃত বাংলাদেশি হওয়ার মানদণ্ড কী?

প্রকৃতপক্ষে, একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি কি এমন হওয়া উচিত? যে রাষ্ট্র তার গণতান্ত্রিক সাফল্যের কৃতিত্ব জনগণকে দেয়, নাগরিকদের গণতান্ত্রিক হতে শেখায়, এবং প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামকে সাধারণ মানুষের রক্তের ইতিহাস হিসেবে স্বীকার করে, সেই রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক। সেখানে উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে প্রান্তিক মানুষও সমানভাবে অংশীদার হয়; অগ্রগতি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির একচেটিয়া অর্জন হয়ে ওঠে না। এমন শাসনব্যবস্থা শুধু একটি দেশের জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক একটি আদর্শ হতে পারে।

তবুও, সবকিছু অন্ধকার নয়। এখনও এমন মানুষ আছেন, যারা নিজেদের পেশার নৈতিক দায়িত্ব বুঝে কাজ করেন বলেই পৃথিবী টিকে আছে। কিন্তু, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে তখনই, যখন মিথ্যা দিয়ে সত্যকে আচ্ছন্ন করা যাবে না; যখন ভুল ব্যক্তি সঠিক জায়গা দখল করতে পারবে না; এবং যখন মানুষকে কৌশলে প্রভাবিত করার সংস্কৃতি ভেঙে পড়বে। সাধারণ মানুষ শিখবে কীভাবে কোনো নির্দিষ্ট পরিবারতন্ত্রের অন্ধ আনুগত্যের বাইরে গিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন করতে হয়। “greater happiness for a greater number of people”, এই ধারণা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ সামাজিক কাঠামোর কেন্দ্রে ফিরে আসবে।

গণতন্ত্রের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, সংগঠনের প্রকৃত চর্চা, এবং নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর। শুধু গণতন্ত্রের কথা বলা নয়, বরং সাধারণ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা, তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে ক্ষমতায়ন করা; এসবই এর অপরিহার্য শর্ত। শেষ পর্যন্ত, রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার সবকিছুর ভিত্তি ব্যক্তি। ব্যক্তি যদি তার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠ হয়, তবে, সেই গুণই বৃহত্তর পরিসরে রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হবে। প্লেটো এই কারণেই রাষ্ট্রকে ব্যক্তির বৃহৎ রূপ হিসেবে দেখেছিলেন। অন্যদিকে, রবার্ট ডাল সতর্ক করেছেন যে শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক সমাজ ছাড়া গণতন্ত্র কেবল একটি নিষ্ক্রিয় কাঠামোতে পরিণত হয়, যেখানে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য মুছে যায়।

যাই হোক, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সহনশীলতার চর্চা গড়ে তোলা এবং বিভ্রান্তিকর বিতর্ক এড়িয়ে কার্যকর জননীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করা। সেখানে জাতীয় ঐক্য সর্বোচ্চ স্থানে থাকে, কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিকে প্রান্তিক করে নয়, বরং সবার অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে একজন অপরাধীও তার প্রাপ্য শাস্তি ন্যায্যভাবে পায়; না কম, না বেশি। এই ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়াই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।

নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের সেবক, রাজনীতির রাজা নন। রাজনীতি শব্দটির তাই জনগণ ও গণতন্ত্রের চেতনায় পুনর্বিবেচনা হওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সৎ, দক্ষ, সম্মোহনী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব, যা জনগণের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল, তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছ ও তৎপর, এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যা মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ের কল্যাণে নিবেদিত, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকার জনগণের জন্য, এবং ক্ষমতার উৎস জনগণই। জনগণই দায়িত্ব অর্পণ করে, এবং তারাই নিশ্চিত করবে সেই দায়িত্ব কতটা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটলে, গণতন্ত্র জনগণকে সেই ক্ষমতাও প্রদান করে, প্রয়োজনে শাসককে পরিবর্তনের। সমসাময়িক বাস্তবতায়, সকল স্তরের জনসমষ্টির মনোভাব, চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুধাবন করাও একটি কার্যকর গণতন্ত্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। কিন্তু, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশে শাসকগোষ্ঠী প্রায়শই রাষ্ট্রকে একধরনের ‘লেভিয়াথান’-এ পরিণত করে, স্থিতিশীলতার যুক্তি তুলে ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটায়। অথচ, এই ধরনের স্থিতিশীলতা প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক নয়; বরং তা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি যেমন: জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ও স্বাধীনতার পরিপন্থী।

এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন জাগে: বাংলাদেশ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য প্রস্তুত? যেখানে শিক্ষার মান অসম, নাগরিক সচেতনতা সীমিত, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও চাকরির দুষ্প্রাপ্যতা, সুযোগের জানালা যেখানে তৈরি হতে একটি জাতিকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, ন্যায়বিচার এবং তড়িৎ জবাবদিহিতার সংস্কৃতি দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট, সেখানে গণতন্ত্র প্রায়ই প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে, এটি কেবল একটি কাঠামো হয়ে থাকে; কার্যকর শাসনব্যবস্থা নয়।

অতএব, এখন সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। গণতন্ত্রকে কেবল একটি শব্দ হিসেবে নয়, একটি চর্চা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নাগরিকদের সচেতন, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাষ্ট্রকে জবাবদিহিমূলক, এবং ইতিহাসকে সমষ্টিগত রাখতে না পারলে বিভাজন আরও গভীর হবে। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল সমাজে, যেখানে শিক্ষার হার কম, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা বেশি, এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ দুর্বল, সেখানে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিকভাবেই সীমিত থাকে। তাই, যতক্ষণ না আমরা এই ব্যবস্থার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছি, ততক্ষণ এর সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যথায়, একটি রাষ্ট্র কেবল বার বার ভুল করতেই থাকবে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিবার তার মাশুল হয়তো বাংলাদেশ দিতে পারবে না।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় মানুষের ঢল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজা হয়েছে। নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।পরে জয় বাংলা স্লোগানে তাকে বিদায় জানান দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা।জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রয়াতের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সমুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি পেশার মানুষ। এর আগে মরদেহ জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বর্ষীয়ান রাজনীতিককে একনজর দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় কফিন।সাবেক এই মন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে বক্তব্য দেন বিভিন্ন দলের নেতারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। মিরসরাইয়ের সন্তান হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য কাজ করে গেছেন।চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য মানুষ তাঁকে স্মরণ করবেন।


উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা চিরদিন মনে রাখতে হবে। তিনি আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন। সারাজীবন তার সঙ্গে রাজনীতি করেছি।’সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে উনার সাথে আমার স্মৃতি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক উদ্যাোগ নিয়েছেন। তিনি কথা শুনতেন। চট্টগ্রামের ইতিহাসে মোশাররফ হোসেন এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবে।’

মোশাররফ হোসেনের সন্তান সাবেদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি চলে গেছেন। উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের উন্নয়নে উনি কাজ করেছেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’শ্রদ্ধা জানান সিপিবি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মীরসরাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।জানাজা অংশ নেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।

পরে মরদেহের কফিন অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর পর হাজারো সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান শোনা যায়।নেতাকর্মীরা মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন। এসময় পুলিশ সদস্যরা মাঠের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছিল। অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মোশাররফ হোসেনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে। বাবা এস রহমান ষাটের দশকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। দেশভাগের পর তিনি কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে চলে আসেন এবং ‘ওরিয়েন্ট বিল্ডার্স কর্পোরেশন’ নামে একটি কোম্পানি খুলে ব্যবসা শুরু করেন।

মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেন। এরপর লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ছয় দফা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।লাহোর থেকে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এই মুক্তিযোদ্ধা ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন তিনি।

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ছয়বার এমপি হন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৪-২০১৯ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

পরের বছর ২০২৫ সালের ৫ অগাস্ট রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে গত ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রাম ১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ