আজঃ শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬

আত্রাইয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ: বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

মোঃ ফিরোজ আহমেদ আত্রাই প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় দেশের উত্তর জনপদের ধানের রাজ্য হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে এবার চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা। অনুকুল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে যথাসময়ে কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন পাবে বলে অভিজ্ঞ মহল ধারণা করছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৬শত ৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ভুট্টা চাষে উপজেলার কৃষকরা বেশি ঝুঁকে পড়ছে। ভুট্টা চাষে খরচ কম অথচ ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভালো ফলনের আশায় উপজেলার কৃষকেরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। কৃষকের পাশাপাশি বসে নেই কৃষি কর্মকর্তারাও। উপজেলার শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, কালিকাপুর, মনিয়ারী ও আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলাকার যেসব জমিতে পূর্বে বোরোচাষ করা হত সেসব জমির অনেক গুলোতেই আমারা এবার ভুট্টা চাষ করছি। বোরোচাষে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি অথচ যখন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয় তখন ধানের বাজারে ধস নামে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই উঠেনা। কিন্তু ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও তেমন বেশি থাকে। এ জন্য আমরা ভুট্টা চাষে এবার ঝুঁকে পড়েছি।

উপজেলার চৌবাড়ি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকা আলু চাষের জন্য দীর্ঘদিন থেকে বিখ্যাত। উপজেলার সিংহভাগ আলু আমাদের এলাকায় উৎপন্ন হয়ে থাকে। মৌসুমের শেষদিকে আলুর দাম বাড়লেও এর মুনাফা কৃষকরা পায়নি। মুনাফা পেয়েছে মজুদদাররা। তাই এবার ভুট্টা চাষ করছি। আশা করি ফলনও বাম্পার হবে। তবে ন্যায্য দাম পেলে কষ্ট সার্থক হবে।

উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের তারাটিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জনান, এবার গত বছরের তুলনায় আমাদের এলাকায় ভুট্টার আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। আশা করছি ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা নিয়োমিত কৃষকদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।

উপজেলার ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মার্জিয়া পারভিন বলেন, এলাকার কৃষকরা যাতে ভুট্টা যথাযথভাবে উৎপাদন করতে পারে এবং স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা উৎপাদন করতে পারে এ জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের নিকট গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছি। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে ভুট্টাকে মুক্ত রাখতেও পরিমিত পরিমান ঔষধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে থাকি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাপশ কুমার রায় জানান, সকল প্রকার ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। যাতে করে কৃষকরা সহজভাবে কৃষি উপকরণ পায়। বিশেষকরে বীজ, সার ও তেল এর জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। এবার ভুট্টার ফলন । হ

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম নগরীর যানবাহন সংকটে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়িতি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিতে ফের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা পাঁচ দিনের এই বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবারও নগরের কয়েকটি নিচু এলাকা পানিতে ডুবে ছিল। এতে জনভোগান্তি বেড়েছে।

এছাড়া অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে আবারও ভূমিধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে বসবাসকারী হাজারো পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।গত দুই দিন আগে ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে ভূমিধসে অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার পর এ আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ৬৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১৯২ দশমিক ৬ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হয়। আগের দিনের টানা বর্ষণ এবং তার সঙ্গে নতুন করে বৃষ্টির ফলে এখনো পুরোপুরি কাটেনি নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে নগরের চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, নয়াহাট, ওয়াজেদিয়া, পুরাতন চাঁদগাও, সিএনবি, বাস সিগন্যাল, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বড়দীঘির পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সকালে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে নগরীতে পরিবহন সংকটের তীব্রতা বেড়েছে। প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষকে দীর্ঘ সময় যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে কিছু অটোরিকশা, রিকশা, বাস ও টেম্পোচালকরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া আদায় করছেন। এ সুযোগে চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি রুটে যাত্রীদের থেকে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। ১০ টার ভাড়া ২০ টাকা নিচ্ছে চালকেরা।

এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। যারা কাজে বাড়ির বাইরে বের হন তারা পড়েছেন বিপাকে। যেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া ২০০ সেখানে চাওয়া হচ্ছে ৩০০, রিকশা ভাড়া ২০ টাকার বদলে নিচ্ছে ৫০-৭০ টাকা।যাত্রীগন বলেন, পানি কমে যাওয়ার পরেও ভাড়তি ভাড়া দাবি করছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। গাড়ি ছাড়ার আগে বাড়তি ভাড়ার কথা বলবে না। গাড়ি যখন অর্ধেক গন্তব্যে চলে আসে তখন তারা বাড়তি ভাড়া কথা বলে।

তবে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা জানান, গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকলেই বন্ধ হয়ে যায়। ইঞ্চিন বিকল হয়ে পড়ে। সারতে অনেক টাকা লাগে। রিস্ক নিয়ে পানি পাড়ি দিতে হলে বাড়তি ভাড়া দাবি করি। যে মন চায় সে যাবে, যার মন চায় না সে যাবে না।
আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম বলেছেন, এখনো ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের সতর্কবার্তা রয়েছে। এ ছাড়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপজনিত কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় সভা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ও টেকসইকরণে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয় বিষয়ে চট্টগ্রামে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে আজ শনিবার সকাল ৯টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ — ৩য় পর্যায় প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক জনাব সুরাইয়া আখতার জাহান। চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসানের পরিচালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব সুরাইয়া আখতার জাহান বলেন, গ্রাম আদালতের মূল উদ্দেশ্য হলো—পারিবারিক ও স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধগুলো দ্রুত, সহজে এবং স্বল্প খরচে নিষ্পত্তির মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা। ভাইয়ে-ভাইয়ে কিংবা প্রতিবেশীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ যদি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমাধান করা যায়, তবে পারস্পরিক ক্ষোভ কমে এবং সমাজে স্থায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে ‘এক্সিট প্ল্যান’-এর আওতায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানোর একটি অন্যতম মাধ্যম হলো এই গ্রাম আদালত। তাই চেয়ারম্যানদের এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ (ইউএনও) মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে নিয়মিত গ্রাম আদালতের শুনানি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম তদারকিতে ‘বিট পুলিশ’ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এই আদালতকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারের একটি পৃথক বাজেট কোড তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি সরকারি কর্মমূল্যায়নেও এখন গ্রাম আদালতের পারফরম্যান্সকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের উদ্যোগে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য গ্রাম আদালত বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। একই সাথে গ্রাম আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নারী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তাই প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অতীতের গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলোকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গ্রাম আদালত দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ আদালতের মামলার চাপ কমাতে সরকার গ্রাম আদালতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিচারকার্য পরিচালনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক বা বিশেষ কোনো পরিচিতির ব্যবস্থা করা যায় কি না—তা ভেবে দেখার সুপারিশ করেন তিনি। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে যাওয়ার আগে ইউএনও অফিসে একটি ‘চেকলিস্ট’ রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেন।

স্বাগত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে। সময়ের সাথে গ্রামগুলোর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও গ্রাম আদালতের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়নি; বরং প্রান্তিক মানুষের সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকার যে মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে তখনই, যখন দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা যাবে।

সরকার গ্রাম আদালতকে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আরো আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে, যাতে গ্রাম আদালত কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও কার্যকর হবে। সাধারণ মানুষ যেন ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে দূরের আদালত যেতে বাধ্য না হয়, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি করতে হবে। মানুষকে গ্রাম আদালতের সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে; তাহলেই এই উদ্যোগ দেশের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনবে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, উন্নত দেশের সঙ্গে আমাদের একটি বড় পার্থক্য হলো—সেখানে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী, আর আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কিন্তু একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে ব্যক্তিনির্ভরতা কমিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। গ্রাম আদালতও সেই প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান। সভায় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের স্থানীয় সরকারের পরিচালক মনোয়ারা বেগম, যুগ্ম সচিব রোঁকসানা খান, উপসচিব (আইন-১) ড. শাহেদ মোস্তফা। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ, চট্টগ্রাম সুব্রত দাশ, সমাজ সেবা অধিদদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক

যুব উন্নয়ন অধিদদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাসার, চট্টগ্রামের সকল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক শাহীন আকতার, গ্রাম আদালত প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসার পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানু, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি, গ্রাম আদালত প্রকল্পের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ প্রমুখ।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ