আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

নাবিকরা সুস্থ থাকলেও রয়েছে দু’চিন্তায়

জলদস্যুদের কবলে কবির গ্রুপের জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই যুদ্ধ জাহাজের ‘উদ্ধার চেষ্টা’ ব্যর্থ নাবিকরা সুস্থ থাকলেও রয়েছে দু’চিন্তায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে ছিনতাইয়ের শিকার চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে উদ্ধার করা হয়েছে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের প্রথম সারির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। তবে এসব সংবাদের ভিত্তি তো নেই বরং উল্টো জিম্মি নাবিকরা এই সংবাদ দেখে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন; মনোবল হারাচ্ছেন। গত শনিবার রাতে জিম্মি এক নাবিক অডিও রেকর্ড পাঠিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্চেন্ট নেভির ক্যাপ্টেন আতিক ইউএ খানকে।
ওই অডিও রেকর্ডে নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়ে জিম্মি নাবিক জানান, তারা সবাই সুস্থ এবং সোমালিয়ার জলদস্যুদের অধীনেই আছেন। ভারতীয় নৌবাহিনী তাদেরকে (নাবিক) উদ্ধার করেছে, এই সংবাদের কোনো সত্যতা নেই। মিডিয়ায় এই সংবাদটা দেখে তারা (নাবিক) বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা (নাবিক) চান যেন মানুষ সত্যটা জানুক।
ওই রেকর্ডে আরও বলা হয়, গত শুক্রবার সকালে সোমালিয়ার কোস্টে অগ্রসর হওয়ার সময় ইউরোপ আর ভারতীয় দুটি নেভির যুদ্ধ জাহাজ সোমালিয়ার জলদস্যুদের থামতে বলেছে, ওয়ার্নিং দিয়েছে, ইঞ্জিন বন্ধ করতে বলেছে। এ সময় আশপাশে পানিতে গোলাগুলি করেছে। কিন্তু জলদস্যুরা নির্বিকার ছিল। এ সময় জলদস্যুরা মনে করেছিল বাংলাদেশের নাবিকরা ওদেরকে ডেকে এনেছে। তাই ওরা (দস্যু) কিছুটা রাগ করে সবাইকে ব্রিজে ডেকে বন্দুকের মুখে রেখেছিল। পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন রেডিওতে ভারতীয় নেভিকে দূরে সরে যেতে বললে পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়।
একজন দোভাষী সর্বদা বাংলাদেশের মিডিয়ার ওপর নজর রাখছে উল্লেখ করে ওই নাবিক বলেন, জলদস্যুদের যে দোভাষী সে বাংলাদেশের টিভি আর মিডিয়ার ওপর চোখ রেখেছে। তাই গুজব রটানো বা নাবিকরা বিপদে পড়ে এমন কিছু যেন মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো না হয়।
নাবিকদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এমন বিচ্ছিন্নতা তৈরি করা জলদস্যুদের একটি কৌশল। চাপ বাড়াতে তারা এমনটি করে। এটা নিয়ে স্বজনদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। জলদস্যুরা মুক্তিপণের জন্য নিজ থেকেই যোগাযোগ করবে।
জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের মুখপাত্র মিজানুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, জলদস্যুদের নতুন আরেকটি দল জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এটি উপকূল থেকে চার নটিক্যাল মাইল দূরে গিয়ে নোঙর করেছে। বর্তমানে জাহাজটি অবস্থান পাল্টে এখানে নোঙর ফেলে। জলদস্যুদের কেউ তাদের সঙ্গে এখনও মুক্তিপণের ব্যাপারে যোগাযোগ করেনি। তবে নাবিকেরা সবাই ভালো, সুস্থ আছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় বেলা একটার দিকে ‘এমভি আবদুল্লাহ’ ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। সশস্ত্র জলদস্যুরা মাত্র ১৫ মিনিটে ২৩ নাবিককে জিম্মি করে জাহাজটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর পর সোমালিয়া উপকূলের দিকে যাত্রা শুরু করে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সোমালিয়ার গ্যারাকাড উপকূলে পৌঁছে জাহাজটি। পরবর্তীতে সোমালিয়ার স্থানীয় সরকারের নির্দেশক্রমে এমভি আবদুল্লাহ শুক্রবার সকাল ১১টায় নোঙর তুলে স্থান পরিবর্তন করে বিকেল ৪টার দিকে আগের অবস্থান হতে ৪০ মাইল দূরে গিয়ে নোঙর করে। জাহাজের বিভিন্ন অবস্থানে মেশিনগান আর একে-৪৭সহ নিরাপত্তা প্রহরী বসায় জলদস্যুরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আটকে পড়া প্রবাসীদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুখবর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বিদেশিদের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড ঘোষণা করেছে দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি)।

এই ছাড়ের সময়সীমা এই বছরের ১০ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বজায় থাকবে।এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জরিমানা ছাড়াই নিজেদের ভিসা বা আবাসিক অবস্থার বৈধতা নিশ্চিত করতে পারবেন অথবা দেশ ত্যাগ করতে পারবেন।

এই সুবিধা তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে ইউএই ছাড়তে না পারায় আগে ‘ওভার স্টে’ জরিমানা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস ও কাজের সুযোগ বজায় রাখতে কিংবা স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে যেতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইসিপি আরও বলেছে, এর আগে ওভার স্টে জরিমানা মওকুফের সিদ্ধান্ত ছিল জরুরি ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ভ্রমণকারী এবং দর্শনার্থীদের সহায়তা করার মানবিক পদক্ষেপের অংশ। সংস্থাটির ভাষ্য, বর্তমানে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় জরিমানা মওকুফের প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি আর বিদ্যমান নেই।

এই সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্টদের কোনো অতিরিক্ত প্রাথমিক আবেদন বা পদক্ষেপও নিতে হবে না। যারা ইউএইতে থাকতে চান, তারা গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে আবাসন বা কর্মসংস্থানের অবস্থা নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবেন। আর যারা দেশ ছাড়তে চান, তারা বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সরাসরি চলে যেতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের সর্বশেষ নির্দেশনা ও তথ্য জানার জন্য সরকারি মাধ্যম অনুসরণ করার আহ্বানও জানিয়েছে আইসিপি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ