আজঃ বৃহস্পতিবার ৭ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করেছে। সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল, ওএসপি, এনইউপি, পিপিএম, পিএসসি এবং চবক এর সকল সদস্যবৃন্দ বন্দর ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর অফির্সাস এসোসিয়েশন, চবক এর সকল বিভাগীয় প্রধানসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, অবসরপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা/কর্মচারী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ধরে, আনব হাসি সবার ঘরে’ এ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে শহীদ ফজলুর রহমান মুন্সি অডিটোরিয়ামে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জনাব হাবিবুর রহমান (যুগ্ম সচিব), বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব হাদী হোসেন বাবুল এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিপাদ্য বিষয়ে বক্তৃতা প্রদান করেন। সভার প্রধান অতিথি চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদদের। তিনি বলেন- জাতির পিতা শিশুদের ভালবাসতেন এবং তাদের অধিকারের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি সবসময় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকতেন। তাই আজকের এই শিশু দিবসের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজ করা। তিনি সকলকে জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাঙলা বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার জন্য আহবান জানান। এরপর চেয়ারম্যান, চবক মহোদয় ‘‘১৭ই মার্চের পূর্বে বাংলাদেশ” থিমের উপর রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনী ও মহান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ডকুমেন্টারী প্রর্দশন এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে চবক এর আওতাধীন সকল মসজিদ, এবাদতখানা, মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয় এবং বন্দর হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ রোগীদের উন্নতমানের খাদ্য পরিবেশন করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কাতালগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, গড়ে উঠবে আধুনিক সবুজ পার্ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম চকবাজার–মুরাদপুর সড়কের কাতালগঞ্জ এলাকায় রাস্তার পাশে ইবনে সিনা হাসপাতাল-এর সামনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিতে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে চুক্তি লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন-এর নির্দেশনায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন-এর তত্ত্বাবধানে বুধবার এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা।

চসিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ও স্থায়ী অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছিল, যা শুধু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনই নয়, বরং পথচারীদের চলাচল ও আশপাশের পরিবেশের জন্যও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। বিশেষ করে হাসপাতালসংলগ্ন হওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছিল এবং একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে চসিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত দোকানঘর, টিনশেড স্থাপনা ও অন্যান্য দখলকৃত অবকাঠামো উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় দখলদারদের সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখল বা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উচ্ছেদকৃত জায়গাটি পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করে একটি নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় রাজধানীর রমনা পার্ক-এর আদলে একটি আধুনিক সবুজ পার্ক নির্মাণ করা হবে। এতে শিশুদের জন্য আলাদা খেলার জায়গা, পথচারীদের বসার স্থান, ছায়াবৃক্ষ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে হাসপাতালে আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য এটি একটি স্বস্তির জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

চসিক জানিয়েছে, নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নগরকে বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন দেড় লাখ টাকা জরিমানা গুনল ফুলকলি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও আমদানিকৃত কাঁচামালের বৈধ উৎস প্রদর্শনে ব্যর্থতার অভিযোগে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি ফুড প্রোডাক্ট ফ্যাক্টরিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার দুপুরে পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের কৃষি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ফ্যাক্টরিটি পরিদর্শন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে খাদ্য উৎপাদন এলাকায় মাছির উপস্থিতি এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এসময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) যুযুৎস যশ চাকমা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আনিচুর রহমান জানান, পরিদর্শনের সময় খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া ব্যবহৃত আমদানিকৃত পণ্যের আমদানিকারকের নাম প্রদর্শন করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের সহায়তা করে, তবে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও জানান, ফ্যাক্টরির বর্জ্য পানির কারণে স্থানীয় পরিবেশ দূষণ ও কৃষিকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। পূর্বে সময় দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় পুনরায় পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ