আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

জাতীয়:

পানির প্রতিটি ফোঁটার সর্বোত্তম ব্যবহারই নিশ্চিত করতে পারে সর্বজনীন ন্যায়ভিত্তিক বণ্টন: প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা অফিস:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পানির প্রতিটি ফোঁটার সর্বোত্তম ব্যবহারই নিশ্চিত করতে পারে পানির সর্বজনীন ন্যায়ভিত্তিক বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা।তিনি ‘বিশ্ব পানি দিবস-২০২৪’ উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন। বিশ্ব পানি দিবস- উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নদীমাতৃক বাংলাদেশের সকল জনগণ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পানি দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য- ‘ওয়াটার ফর পিস’ সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পানি’ শান্তি কিংবা সংঘাত ঘটাতে পারে। পানির অসম বণ্টন বা দুষ্প্রাপ্যতা উত্তেজনা ও সংঘাত সৃষ্টি করে। সুষম পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহজতর হলে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং পানিসম্পদের ওপর এর প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষার লক্ষ্যে আন্ত:সীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতামূলক মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির প্রতিটি ফোঁটার সর্বোত্তম ব্যবহারই নিশ্চিত করতে পারে পানির সর্বজনীন ন্যায় ভিত্তিক বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। আবহমানকাল হতে পানি আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। তাই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পানি সম্পদকে দক্ষতার সাথে ব্যবহার করে পরিবেশ বান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
পানির পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাই আমাদের জলবায়ু ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করাসহ জীববৈচিত্র রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সহিষ্ণু বদ্বীপ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ প্রণয়ন করেছে। অভিযোজন ভিত্তিক কারিগরি এবং অর্থনৈতিক এ মহাপরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করে পানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা, ভূমি ব্যবহার এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ উন্নয়নের অঞ্চল ভিত্তিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পানি ব্যবহার শৃঙ্খলা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পানি আইন, জাতীয় পানি নীতি ও পানি বিধিমালা প্রণীত হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও নিষ্কাশন, নদীতীর ভাঙ্গন প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে।’

এছাড়াও ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্যার পূর্বাভাস সম্বলিত প্লাবন মানচিত্র ও আগাম সতর্কবার্তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়াসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা করেন। প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়তে সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি ‘বিশ্ব পানি দিবস-২০২৪’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকার দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে।সোমবার (১৬ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পাচ্ছেন অধ্যাপক রইস উদ্দিন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ।এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক মো. আল ফোরকান, এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।

 

যতই শক্তিশালী হোক, খাল দখলদারদের ছাড় দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


খাল দখলদারদের ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বামনসুন্দর এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে। এসব প্রকল্পে দুর্নীতির স্থান নেই। যতই শক্তিশালী হোক, খাল দখলদারদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়, মধ্যপ্রাচ্যেও যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যেও সরকার সব কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি এনার্জি ক্রাইসিসের মধ্যেও সরকার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রান্তিক মানুষকে সুফল দিতে খাল খনন কর্মসূচি কৃষি ও মৎস্যসহ নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল জলাধরা খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে বামনসুন্দর এলাকার আলিরপোল এলাকা থেকে বানাতলী পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হবে। এতে করে সরাসরি উপকারভোগী হবেন সাধারণ কৃষক। কৃষিতে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ নিশ্চিত করা যাবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ