আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

মৌলভীবাজার:

স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীকে শারিরীক নির্যাতনের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী কারাগারে।

তিমির বনিক মৌলভীবাজার:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য শারিরীক নির্যাতনের মামলায় অগ্রণী ব্যাংক কুলাউড়া শাখার কর্মকর্তা সুজিত কুমার দে এর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন কুলাউড়ার বিজ্ঞ আমলী আদালত।

সোমবার (১লা এপ্রিল) দুপুরে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দিপংকর ঘোষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুজিত কুমার দে এর বসত ঘরে নির্মমতার চিহ্ন, ভিকটিম ও সাক্ষীদের বক্তব্য শুনেন। সেখানে আসামী পক্ষ কিছুলোক জড়িত করে মিথ্যা সাক্ষী দেয়ার চেষ্ঠা করে।
অপর দিকে, এই মামলার ২নং আসামী সুজিত এর বড় ভাই সন্তোষ দে মামলার সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিতা স্কুল শিক্ষিকার দাবি মূল আসামীর বড় ভাই সন্তোষ দে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কিছু লোক দিয়ে হুমকিসহ নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছেন।
নারী নির্যাতন মামলার আসামী হয়ে কিভাবে সন্তোষ দে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য না দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন এ প্রশ্ন সচেতন মহলের!
ওই ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী উপজেলার চুনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী দেব কুলাউড়া থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নং- (১৯/২৪) দায়ের করলে গত ২৪শে মার্চ অগ্রণী ব্যাংক কুলাউড়া শাখার কর্মকর্তা সুজিত কুমার দে (৫৫) কে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের চুনঘরের বাসিন্দা সুনিল চন্দ্র দে’র পুত্র সুজিত কুমার দে’র সাথে পৌরশহরের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী দেবের বিয়ে হয়। তাদের ২ কন্যা সন্তানও রয়েছে। দীর্ঘ ১০-১১ বছর ধরে তিনি স্বামীর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করে আসছেন। এনিয়ে কয়েকবার শালিসী বৈঠক হলেও সুজিতের অমানুষিক আচরণের কোন পরিবর্তন হয়নি।

মামলার অভিযোগে স্কুল শিক্ষিকা সঞ্চিতা দেব উল্লেখ করেন, ৭-৮ বছর আগে থেকে বেতন ভাতার সম্পুর্ণ টাকা তুলে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতো, না দিলে শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
সম্প্রতি সুজিত কুমার দে তার বড় ভাইয়ের প্ররোচনায় ব্যাংক ঋণ পরিশোধের কথা বলে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। সেই টাকার জন্য গত ১৯ ফেব্রæয়ারি বটিদা দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্ঠা করেন। হামলায় মাথা বাঁচাতে সঞ্চিতা রানী দে’র হাতে তিনটি আঙ্গুলে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। তিনি শারিরীকভাবে গুরুতর আহত করায় ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনা¯’ল থেকে তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জখম গুরুতর হওয়ায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসা গ্রহণ শেষে ২৩ মার্চ শনিবার কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুলাউড়া থানা পুলিশ সুজিত কুমার দে’কে আটক করে রোববার ২৪ মার্চ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার বাদী জানান- বুধবার (২৭শে মার্চ) মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বিজ্ঞ আমলী আদালতে ৮- ১০জন আইনজীবির মাধ্যমে সুজিত কুমার দে’র জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আমলী আদালতে দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাল্কহেড থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেফদার-৫।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার মো. ইমরান (২১), আনোয়ারার পূর্ব গহিরা এলাকার মো. আনিস (২৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভাঙ্গারা এলাকার মো. মনির হোসেন (৪৫), আনোয়ারার করুশকুল এলাকার মো. আলী (৪৭) এবং লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার চর কলাকুপা এলাকার মো. রুবেল (২৭)।
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে কয়েকজন মাদক কারবারি মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে একটি বাল্কহেডে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিয়ে আসছে। খবর পেয়ে র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল বাল্কহেডটির পিছু নেয়।

এক পর্যায়ে বাল্কহেডটি ১৫ নম্বর ঘাটে নোঙর করে কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করেন। পরে বাল্কহেডে তল্লাশি চালিয়ে ইঞ্জিন রুমে রাখা দুটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে নিখোঁজ গাড়ি চালকের লাশ মিলল ডোবায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে নিখোঁজ গাড়ি চালকের
লাশ মিলল ডোবায়
ছবি-৭
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানা এলাকার একটি ডোবা থেকে মঞ্জুর আলম (৪৬) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মঞ্জুর আলম ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলসিদিঘির পাড় আলী মিয়া চেরাগের বাড়ির বাদশা মিয়ার ছেলে। তিন গাড়িচালক ছিলেন। বুধবার সকাল ১১টায় কলসিদিঘির পাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহতের শ্যালক মো. হাসান বলেন, গত ৬ মার্চ থেকে আমার দুলাভাই নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় আমরা থানায় জিডিও করেছিলাম। আমার দুলাভাইকে কেউ পরিকল্পিতভাবে কেউ মেরে ফেলে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসাইন বলেন, কলসিদিঘির পাড় এলাকার একটি ডোবা থেকে মঞ্জুর আলম নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত শুক্রবারে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ