আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

পার্বত্য জেলা বান্দরবান।

ঈদ ও বৈসাবী উৎসব পালনে অনিশ্চিয়তায় পাহাড়ের ৩ উপজেলার বাসিন্দারা।

টিটু বড়ুয়া সুরঞ্জিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফের সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় সোনালী ব্যাংক শাখার সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে কৃষি ব্যাংকের কার্যক্রমও। একই সঙ্গে জেলা সদরের প্রতিটি ব্যাংক এবং এটিএম বুথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম ইনচার্জ মোহাম্মদ ওসমান গণি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ব্যাংকের নিরাপত্তার স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনটি উপজেলায় আগের মতো ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ দিকে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বৈসাবী ও ঈদের বাজারের এই সময়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তারা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে না পারার কারণে বৈসাবী ও ঈদ উৎসব কিভাবে পালন করবে ,আদো পারবে কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এগিয়ে আসছে উভয় সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মহা সাংগ্রাই বৈসাবী বা বিজু উৎসব।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্ধ থাকা তিনটি উপজেলার ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা জেলা সদরের সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন। এ ছাড়া লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এ দিকে ঘটনার তিন দিন পরও উদ্ধার করা হয়েছে রুমা উপজেলার সোনালী ব্যাংকের অপহৃত ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনেকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলে স্হানীয় প্রশাসনের সাথে কেএনএফ সদস্যদের মধ্যে গুলাগুলির ঘটনায় আরও ভিত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে পাহাড়ের বসবাসরত বাঙালি অবাঙালীরা। ব্যাবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা আতংক।
এ ছাড়া রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ টহল দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুধবার (৩ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে বান্দরবানের থানচিতে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর আগে, মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রুমায় সোনালী ব্যাংক থেকে অস্ত্র ও টাকা লুট করে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন দেড় লাখ টাকা জরিমানা গুনল ফুলকলি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও আমদানিকৃত কাঁচামালের বৈধ উৎস প্রদর্শনে ব্যর্থতার অভিযোগে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি ফুড প্রোডাক্ট ফ্যাক্টরিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার দুপুরে পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের কৃষি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ফ্যাক্টরিটি পরিদর্শন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে খাদ্য উৎপাদন এলাকায় মাছির উপস্থিতি এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এসময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) যুযুৎস যশ চাকমা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আনিচুর রহমান জানান, পরিদর্শনের সময় খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া ব্যবহৃত আমদানিকৃত পণ্যের আমদানিকারকের নাম প্রদর্শন করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের সহায়তা করে, তবে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও জানান, ফ্যাক্টরির বর্জ্য পানির কারণে স্থানীয় পরিবেশ দূষণ ও কৃষিকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। পূর্বে সময় দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় পুনরায় পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি: চট্টগ্রামে নারীর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


‎থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে একটি বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানি করার অপরাধে বিবি মরিয়ম বেগম নামে চট্টগ্রামের এক নারীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

‎আজ (বুধবার) চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত-৬ এর ম্যাজিস্ট্রেট জনাব এস এম আলাউদ্দীন মাহমুদ এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বিবি মরিয়ম নগরীর আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকার একাধিক মামলার আসামি ‘চটপটি আলাউদ্দিনের’ স্ত্রী ও ডাকাত ফয়সা‌লের মা । আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আদালত ও পুলিশ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আকবরশাহ থানায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের ছেলে মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন বিবি মরিয়ম।

অভিযোগে তিনি দাবি করেন, মোক্তার হোসেন তার দুই ছেলে মো. ফয়সাল উদ্দীন ও ফাহাদ উদ্দীনকে মারধর এবং পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশে আকবরশাহ থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এম সাকের আহমেদ ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পুলিশের তদন্তে বিবি মরিয়মের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হয়।

‎পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং রাষ্ট্রপক্ষের লিখিত যুক্তিতর্ক অনুযায়ী, উত্তর কাট্টলী এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের মালিকানাধীন জমিটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছিল স্থানীয় সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন ও তার পরিবার। এই নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং পরবর্তীতে আপিল বিভাগের ‘লার্জার বেঞ্চ’ বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের পক্ষে রায় বহাল রাখেন এবং নির্বিঘ্নে নির্মাণকাজের অনুমতি দেন।

‎আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে মোক্তার হোসেন তার জমিতে ইটভর্তি ট্রাক আনলে বিবি মরিয়মের ছেলে ফয়সাল ওরফে ‘গুটি ফয়সাল’ ও তার সহযোগীরা মোক্তার হোসেনের ওপর অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় মোক্তার হোসেন মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এই বর্বরোচিত হামলা ও নিজেদের অপরাধ ঢাকা দিতে এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ফাঁসাতে পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর থানায় উল্টো মিথ্যা জিডি করেন বিবি মরিয়ম।
‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিবি মরিয়মের স্বামী আলাউদ্দিন ওরফে চটপটি আলাউদ্দিন হত্যা মামলাসহ ১৪টিরও বেশি মামলার আসামি ও আওয়ামীলী‌গের একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী।

‎তার ছেলে ফয়সালও র‌্যাব কর্তৃক ডাকাতির প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে ধৃত এবং একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই চক্রটি বারবার মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল। এমনকি অভিযুক্তদের পক্ষে তৎকালীন এমপির লিখিত সুপারিশের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘদিন পুলিশি প্রতিকার পায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

‎পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিবি মরিয়মের অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এবং প্রকৃত ভুক্তভোগী মোক্তার হোসেনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করায়, আদালত দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মামলাটি আমলে নেন। বিজ্ঞ আদালত ৫ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আজ এই রায় প্রদান করেন।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ