আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

দেবহাটায় ফুটবল মাঠে পানি দেওয়া কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান সহ আহত-৫

দেবহাটা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেবহাটার সখিপুর ইউনিয়নের শেখ রাসেল স্মৃতি ফুটবল মাঠে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপে সংঘর্ষে ৫ জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সখিপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পিলের মাঠ এলাকার শেখ রাসেল স্মৃতি ফুটবল মাঠে ধান ক্ষেতের পানি দেওয়া কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
এতে সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ সরদার (৭০), আবুল সরদার (৬৫), আব্দুল গফুর (৬৩) ও রাজু (৪০) নামের ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, সখিপুরের শেখ রাসেল স্মৃতি মাঠে কিছুদিন আগে প্রকল্পের মাধ্যমে মাটি ভরাট করে শিশুদের খেলার উপযোগী করা হয়েছে। ঈদের কয়দিনপর ওই মাঠে একটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার সকালে আমাকে স্থানীয়রা ফোন করে জানান পাশের বিলের ধান ক্ষেতের পানি মাঠে সেচ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জেনে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আজহারুল ইসলাম নামের ব্যক্তির কাছে পানি সেচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন। আমি খেলার মাঠে এভাবে পানি সেচ দেওয়া বন্ধ করতে বললে আমার উপর চড়াও হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় কল দিতে থাকে। একপর্যায়ে আমি পানি সেচ বন্ধ করে দিলে আমার উপর হামালা করে। আমার মাথা সেলাইরেন্স দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থান আঘাত প্রাপ্ত হলে স্থানীয় জনসাধারণ এসে আমার উপর হামলাকারীদের মারপিট শুরু করে। তাদের হামলায় কয়জন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির উপর হামলার ঘটনায় আমি নিজে বাদি হয়ে দেবহাটা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছি।
সখিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার আমজাদ হোসেন জানান, আমার ভাইপো আজহারুল আমাকে কল করে তার ধানের ক্ষেতে যেতে বলেন। আমি তার ফোন পেয়ে সেখানে পৌঁছালে মোটরসাইকেল থেকে নামার আগে টেনে হেচড়ে নামানো হয়। পরে আমাকে এবং আমার ৩ ভাই ও আমার ভায়ের কর্মচারীকে তারা পিটিয়ে জখম করে। ততক্ষণ ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে সবকিছু ছত্রভঙ্গ করেন। তখন আমি অচেতন ছিলাম। জ্ঞান ফিরলে আমাকে ও আমার ভাই আবুল সরদার, আব্দুল গফুর ও কর্মচারী রাজুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
এঘটনায় উভয় গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ধোর্য্য ধারণ করার অনুরোধ জানান।
তবে এঘটনায় সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে দেবহাটা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ২/৩ জন অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেখ মাহমুদ হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে যাতে আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সে বিষয়ে আমি নিজেই তদারকি করছি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে একটি এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার, আটক- ২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি ট্রাক, ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ৫৮৫ পিস ইয়াবা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা, একটি ট্রাক ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইনের পাশের সড়কে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৯৯০ নম্বরের একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. রিয়াদ হোসেন (২০)কে আটক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাশাপুর গ্রামের বাসিন্দা।এ সময় ট্রাকটির পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপ, ট্রাক ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌকা বিওপির নায়েক সুরজিত নাগের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মো. নাঈম ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা।উদ্ধার করা ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০০ টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা ট্রাক, নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের মোট সিজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ