আজঃ সোমবার ২২ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে বখাটে মতিনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকায়বাসী

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় থাকেন অভিভাবকরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার পথে গতিরোধ করে অশ্লীল কথাবার্তা বলে উত্যক্ত করে বখাটে মতিন। রাতের বেলায় ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে মতিনের বিরুদ্ধে। তার অত্যাচারে মান সম্মানের ভয়ে মুখ না খুললেও নীরবে কয়েকটি পরিবার বাড়ি ছেড়ে শহরের ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। জানা গেছে, শুধু রাস্তা ঘাটে নয় রাতের বেলায় ঘরে এসেও নারীদের উত্যক্ত করে এ মতিন। ঘরের বাইরে শুকোতে দেওয়া নারীদের কাপড় চোপড় নিয়ে যায়। তার ভয়ে মুখ না খোলায় দিনদিন বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে বখাটে মতিন। আবদুল মতিন (৩০) বোয়ালখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী অলি মিয়াজি বাড়ির আবদুল করিমের ছেলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কলেক শিক্ষার্থী জানান, মতিনের অত্যাচারে গ্রামের কয়েকটি পরিবার শহরে বসবাস করছেন। গ্রামে থাকা পরিবারগুলো মুখ বুঝে এসব সহ্য করছেন মান সম্মানের ভয়ে। অনেকে পুরুষ নিকটাত্মীয়দের বাড়ি এনে রেখেছেন নিরাপত্তার স্বার্থে। মতিনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতে যখন তখন বাড়িতে ঢুকে পড়ে ঘরের মেয়েদের উত্যক্ত করে। এলাকার মা-বোনদের বাইরে শুকাতে দেওয়া কাপড় চোপড় নিয়ে গিয়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। দোকান থেকে জিনিসপত্র নিয়ে টাকা দেয় না। চা-নাস্তা খেয়ে বিল দেয় না। টাকা ধার নিলে তাও ফেরত দেয়। কথায় কথায় মানুষজন মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। এসব নিত্য দিনের ঘটনা। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় গতিরোধ বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা বলে। এসবই যেন মাদকাসক্ত মতিনের নেশা এবং পেশা। এছাড়া এক বয়স্ক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল মতিন এ নিয়ে থানায় মামলাও হয়েছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, বখাটে মতিনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে বোয়ালখালী থানায় দায়ের হয়েছিলো দুইটি মামলা। এছাড়া ২০২২ সালের ২১ মার্চ পৌর সদর থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারপরও দমেনি মতিন। দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সে।

বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আছহাব উদ্দিন বলেন, ইভটিজিং বা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির সুযোগ নেই। মতিনের বিষয়েও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এসব অপরাধ নির্মূলে পুলিশ সব সময় জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদন্ড সহ কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একজন কে বিনাশ্রম কারাদণ্ড সহ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার ২০ জুন সকাল রাত ৮ টার দিকে উপজেলার কাশিপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং মোঃ তানভীর আহমেদ শিমুল (২৮), পিতা-মোঃ সামছুল হক, সাং- চৌবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া, ভাঙ্গুড়া, পাবনা কে ১০০০/= (এক হাজার) টাকা অর্থদন্ড ও ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযান পরিচালনা করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে তাকে সহযোগীতা করেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ