আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

বড়উঠানে ৮ম-তম কোরআন তেলাওয়াত, হামদ্-নাত ও আযান প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কর্ণফুলী উপজেলা, বড়উঠান মৌলভী বাড়ীতে “সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় অষ্টম বারের মত পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ্-নাত ও আযান প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান’র চেয়ারম্যান, “সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন’র” সভাপতিত্বে ও মিনহাজ উদ্দিন খানের পরিচালনায় গোল্ডেন ইস্পাত সৌজন্যে অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে শাহমীরপুর ফয়জুল বারী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা ড. মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, বিশেষ অতিথি কর্ণফুলি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন, ফাউন্ডেশন’র সচিব মোঃ রেজাউল হক খান, ইউপি মেম্বার সাজ্জাদ হোসেন খান সুমন, মোঃ মিজানুল হক খান, রকিউল হাসান খান সামি, লিয়াকত হোসেন খান খোকন, ব্যাংকার এহতেশামুল হক খান, কলিমুল্লা খান, বদরুদ্দিন খান, মোঃ জহির উদ্দিন টিপু, মোঃ সোহেল, জিহান, রাকিব, অসিউর রহমান, করিম, শাব্বির। প্রধান অতিথি বলেন, রমজানের শিক্ষা নিয়ে মানুষ ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্টীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের পরিচালিত করলে সমাজ থেকে সকল দুর্নীতি জুলুম অন্যায় সকল মন্দ কাজের অবসন ঘটবে। মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান’র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি “সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন’র ও এলাকাবাসী ঐতিহাসিক দেয়াং পাহাড়ে আউলিয়াদের নিদর্শন বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাবলীর স্থানটি সংরক্ষণ, মাইজভান্ডারী আধ্যাত্মিক রিসার্চ সেন্টার ও এই পবিত্র স্থানটি উম্মুক্ত করার দাবির প্রতি সমর্থন জানান। রমজান মাসে আল্লাহতা’য়ালা কোরআন নাযিল করেছেন। আল কোরআনের একনিষ্ট অনুসরণ, অনুকরণ ও রাসুল করিম (সঃ) প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসার মাধমে বিক্ষপ্ত অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি আসবেই। ফাউন্ডেশন’র এই ধরনের ধর্মীয় প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেন। তিনি বড়উঠানে একটি হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান সভাপতির বক্তব্যে বলেন-আমি এবং আমার পরিবার মানবেতর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। রমজানে একসাথে ইফতার ধনী-গরীব এর মাঝে ভ্রাত্বত্বের বন্ধন, ভুলবুঝা বুঝি অধিকতর সুদৃঢ় হয়। তিনি গোল্ডেন ইস্পাত সহযোগিতা করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। সামাজিক দায়বদ্ধতায় গরীব ও অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য বড়উঠানে একটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে হাসপাতালের জন্য একটি জায়গায় ক্রয় করা হয়েছে। সততা, ত্যাগ, সংযম মানবিকতা যদি থাকে, তাহলে যে কোন কঠিনকাজ সহজে হবে বলে মন্তব্য করেন। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি যেকোন প্রতিযোগিতা মুলক অনুষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ করার জন্য আহবান জানান। মেজবাহ উদ্দিন খান বলেন- তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নিয়নমুলক কাজের কথা উল্লেখ করেন এবং ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান’র মহান উদ্যোগ ও মহৎ উদ্দেশ্য প্রশংসা করেন। সম্মানিত বিচারক হিসাবে প্রতিযোগিতার দায়িত্ব পালন করেন বড়উঠান মৌলভী বাড়ী ওয়াইজ বিবি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সরওয়ার আলম আলক্বাদেরী ছাহেব, মাওলানা মুহাম্মদ মনছুরুলহক খান, মাওলানা গাজী মুহাম্মদ ইছাক, হাফেজ মুহাম্মদ মোরশেদ ও হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। সম্মানিত বিচারকদের সার্বিক তত্ববধানে ছিলেন বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান, চেয়ারম্যান “সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন”। কোরআন তেলাওয়াতে ১ম স্থান মুহাম্মদ হজ্জাতুল্লাহিল গালিব বায়েজিদ, বারখাইন জামিয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা। ২য় স্থান মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলম, ফয়জুল বারী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, কর্ণফুলী। ৩য় স্থান মোহাম্মদ হাসান, বারখাইন জামিয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা। হামদ্-নাতে ১ম স্থান মোহাম্মদ হজ্জাতুল্লাহিল গালিব বায়েজিদ, বারখাইন জামিয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা। ২য় স্থান মোহাম্মদ সাজ্জাদ, হযরত মামুন খলিফা হাফেজী মাদ্রাসা, চন্দনাইশ। ৩য় স্থান হাবীবুর রহমান তৈয়বিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা, বহদ্দার হাট। আযান-এ ১ম স্থান আহাদ আলম চৌধুরী, বারখাইন জামিয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা। ২য় স্থান আরমান হোসেন, বারখাইন জামিয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা। ৩য় স্থান মোহাম্মদ শেখ আলিফ মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা, ষোলশহর। এবার মোট ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে কোরআন তেলাওয়াতে- ৩৫জন, হামদ্-নাতে- ৩২ জন, আযান-এ- ৩১জন সহ মোট ৯৮জন প্রতিযোগিতায় অংগ্রহন করে। পুরস্কার বিতরণ শেষে ইফতার মাহফিলে সকল মানব জাতির মঙ্গল এবং কল্যানের জন্য মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ