জকিগঞ্জে ট্রাক শ্রমিকের ঈদ পুনঃমিলনী ও আলোচনা সভা

আবুল কালাম আজাদ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী এমপি বলেছেন, ড্রাইভাররা হয়রানী হন এটা সত্য। একটা এক্সিডেন্ট হলেই ড্রাইভারের উপর চলে যায়, দূর্ঘটনা হলে ড্রাইভারকে দায়ী করে গাড়ী ভাংচুর করা হয়, এটা অত্যন্ত গর্হিত ও বিবেকহীন কাজ। কারন কোনো দুর্ঘটনা মানুষ ইচ্ছা করে ঘটায় না। আপনাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে অবৈধ লাইসেন্সধারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। যদি প্রকৃত লাইসেন্সধারীদের নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে পুলিশী হয়রানি ও সামাজিক হয়রানি থেকে আপনারা বাঁচবেন। আমি যাদের পক্ষে কথা বলছি তারা যদি বয়কট করে তাহলে আপনারা পণ্য পাবেন না। আপনাদের দোকানে খাদ্য পন্য আসবে না। এটা আমরা জানি। তাদেরকে সম্মান দিয়ে বলছি, তাদের মধ্যে যে সকল দূর্বলতা রয়েছে সেগুলো ঠিক দূর করার আশ্বাস দিলে তাদের সকল বিপদ আপদ দেখার দায়িত্ব আমরা গ্রহন করবো। তিনি আরো বলেন, শ্রমিকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। আল্লাহর নবী বলেছেন যদি কোনো মানুষ কোনো শ্রমিকের শ্রম নিয়ে তাকে তার পাওনা থেকে আংশিক বঞ্চিত রাখে, তাহলে ঐ শ্রমিকের পক্ষে কিয়ামতের দিন আমি নবী ওকালতি করবো। আল্লাহর নবী (সা) যার বিরুদ্ধে ওকালতি করবেন তার অবস্থা কি হবে? সুতরাং শ্রমিকদের শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্টা করুন। মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী এমপি গত শনিবার জকিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে সিলেট জেলা ট্রাক, পিকাপ, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং চট্র-২১৫৯ এর অন্তর্ভুক্ত জকিগঞ্জ উপকমিটির আওতাধীন সর্বস্তরের শ্রমিকদের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুণঃমিলনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী এমপিকে ক্রেষ্ট দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
শ্রমিকনেতা আব্দুর রহিম চৌধুরী আদু মিয়ার সভাপতিত্বে ও সিলেট জেলা ট্রাক,পিকাপ,কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মাছুম আহমদ লস্করের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদ সদস্য ইফজাল আহমদ চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুস সবুর, সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দিলু মিয়া, জেলার কার্যকরি সভাপতি আব্দুস সালাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী স্বপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক বিলাল মিয়া, কোষাধ্যক্ষ জুলহাস হোসেন বাদল, কানাইঘাট শাখার সভাপতি জসিম উদ্দিন ও বিয়ানীবাজার শাখার সহ-সভাপতি লোকমান উদ্দিন।
শ্রমিক নেতা আব্দুল মালিক মলিকের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন জকিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হুসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী এমপি শ্রমিকদের জন্য জকিগঞ্জের প্রতিটি বাজারে স্ট্যান্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন আপনাদেরকে এগুলো থেকে গাঁজার আসর, ড্রাগ বিক্রয় ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখতে হবে। তাহলে আঞ্চলিক বাধার সম্মুখীন হবেন না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নদী আছে,ব্রিজ নেই-দুর্ভোগে দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া খাঁপাড়া ও সরকার পাড়ার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে গুমানি নদী। এই গুমানি নদীতে একটি ব্রিজ না থাকায় দুই পাড়ের সাধারণ মানুষ কে ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যদিন।

স্থানীয়দের দাবি, গুমানি নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে আশপাশের ৩০-৪০টি গ্রামের সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। এই গুমানি নদীর উপর একটি ব্রিজ আছে নৌবাড়ীয়া, এই নৌবাড়িয়া ব্রিজ বা সেতু ঘুরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার পথ কমবে। এতে কৃষকের কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় সুবিধা বাড়বে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এই গুমানি নদীতে ব্রিজ বা সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য যায়নি।

নাটোরে বড়াইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার থানার মোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহেদুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ