আজঃ সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬

চসিকের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের ৩৯তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছেন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

হকার আর যত্রতত্র আবর্জনা কমাতে অভিযানের ঘোষণা চসিক মেয়র রেজাউলের

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন



রোজার ঈদে বন্ধ থাকা উচ্ছেদ অভিযান আবারো শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র (প্রতিমন্ত্রী) বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। এবার উচ্ছেদ অভিযানে ফুটপাত-সড়ক দখলকারীদের পাশাপাশি শাস্তির আওতায় আনা হবে যত্রতত্র ময়লা ফেলা ব্যক্তিদেরও। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লালদিঘী পাড়স্থ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনের সম্মেলন কক্ষে চসিকের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের ৩৯তম সাধারণ সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র রেজাউল বলেন, নগরবাসী রাস্তায় নিরাপদে হাটার অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। ভালো কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। উচ্ছেদ কার্যক্রমকে ব্যর্থ করতে নানা রকম বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে, ঢাকার একেবারে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ সবাই উচ্ছেদ অভিযানে খুশি। ঈদের সময় একটু নমনীয়তা দেখিয়েছি। এখন আবারো ফুটপাত-সড়ক উদ্ধারে অভিযান চলবে।“অভিযানে সংশ্লিষ্ট আরো অন্যান্য সরকারি সংস্থার সম্পৃক্ততা বাড়াতে যোগাযোগ চলছে। একবার উচ্ছেদের পর পুনর্দখল ঠেকাতে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। ফুটপাত উদ্ধার শেষ হলে আমার পরবর্তী লক্ষ্য হলো ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাবো। এছাড়া, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি একজন ডেডিকেটেড ম্যাজিস্ট্রেট দিব যার কাজ থাকবে শুধু যাদের বাসা-দোকান-অফিসের সাথে ময়লা পাওয়া যাবে তাদের জরিমানা করা। ফুটপাত রক্ষায় পুলিশ, র‌্যাব, সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই।” সভায় একাধিক কাউন্সিলর ব্যাটারি রিকশা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
সভায় চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের এডিসি (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা জানান, নিউমার্কেট মোড়ে ব্যাপক উচ্ছেদের মাধ্যমে ফুটপাত-সড়কের স্থান উদ্ধার করা গেলেও ঈদের শেষ সময়ে হকাররা আবারও ফিরে এসেছে। এজন্য হকার উচ্ছেদে আবারও নতুন করে একটা প্রোগ্রাম গ্রহণ করা যেতে পারে। নিউমার্কেট মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার ঘটনায় দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে দ্রুত বিচার আইনে হওয়া মামলাটির চার্জশীট দেয়া হয়েছে। আরেকটি মামলা চলমান আছে যেটির সাথে সংশ্লিষ্ট ফুটেজ বিশ্লেষণসহ তদন্ত করা হচ্ছে।চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রউফ বলেন, চসিকের ৩৭ থেকে ৩৯ নং ওয়ার্ডে পানির সঙ্কট কমাতে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। ৪০ ও ৪১ নং ওয়ার্ডেও পানির সঙ্কট কমাতে কাজ করবে ওয়াসা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রমিজুর রহমান বলেন, বায়েজীদ এলাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্ধারকৃত জায়গায় হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট স্থাপনের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু মুসা জানান, নগরীতে ফুটপাতে অবৈধ কোন দোকান যাতে কোনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ না পায় সে বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক আছে। পিডিবির পোলে ডিশ ও ইন্টারনেটের লাইন অপসারণের বিষয়েও পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সভায় বিগত সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, দরপত্র কমিটির কার্যবিবরণী এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরণী অনুমোদিত হয়। স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতিগণ তাদের নিজ নিজ স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরণী পেশ করেন। সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, প্যানেল মেয়রবৃন্দ, কাউন্সিলরবৃন্দসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ এবং নগরীর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে চসিকের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেয়া হলো ২০০ অবৈধ দোকান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের সাগরিকা এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় ২০০টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে সাগরিকা রোডের বিটাক বাজার এলাকা পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরের সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চসিক সূত্র জানায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রায় ২০০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়, ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে। অভিযানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাহাড়তলী থানা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বিত উদ্যোগে নগরবাসী সুফল পাবে : সিডিএ চেয়ারম্যান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যার অন্যতম কারণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে সিডিএ। রোববার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নগর উন্নয়নে দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম এখনও জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সমন্বয়হীনতার মতো নানা সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, গ্যাস বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা হবে।তিনি বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে নগরবাসী এর সুফল পাবে।

তিনি আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক ও যুগোপযোগী পরিকল্পনার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও টেকসই নগরে পরিণত করতে হবে। এ লক্ষ্যে নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে। তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময় পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে পাহাড়, জলাধার ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।বেলায়েত হোসেন বলেন, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নগরবাসীর কল্যাণ এবং চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।চট্টগ্রাম নগর ও সিডিএর স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা এবং নগরের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ