আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

তরুণ সমাজকে দেশপ্রেমে জাগ্রত করতে না পারলে স্বাধীনতা প্রকৃত মর্মবানী উপলদ্ধি করা যাবে না-চবির ভিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

 

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের বলেছেন  স্বাধীনতার মূল মর্মবানী অনুধাবনে তরুন সমাজ সক্ষম হয়নি বা তাদের কাছে সে তথ্য পৌঁছানো যায়নি। এর কারণে তরুন সমাজ এখন শুধুমাত্র নিজেকে ব্যস্ত, দেশ, সমাজ ও পরিবারকে নিয়ে ভাববার কোন সময় তাদের থাকছে না। আর সুযোগ পেলেই বিদেশ পাড়ি দেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার  ত্রুটি, দুর্বলতা, শিক্ষকদের আধুনিক ও পরিবর্তনশীল বিষয়ে সাথে খাপ-খাওয়াতে না পারা, তরুণদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশের সীমাবদ্ধতা  এবং দেশে দক্ষ প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠির তৈরীর ঘাটতির কারনে হতাশার পরিমান বেশি। বিপুল পরিমান তরুণজনগোষ্ঠি জনশক্তি না হয়ে হতাশাগ্রস্ত বেকার হয়ে জাতির জন্য বোঝা হয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, কীভাবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে, কীভাবে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের প্রতিটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে বিশ্বের বুকে নিজের নাম উজ্জ্বল করতে পারে সেই বিষয়ে সকলের সমন্তি প্রয়াসের ওপর আলোকপাত করেন। এক্ষেত্রে তরুণদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুবকদেরকে দেশগঠনে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, বর্তমান তরুণদেরও একইভাবে সংগঠিত হতে হবে। তাদেরকে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এমনকি স্থানীয় সমস্যাগুলোর পাশাপাশি আন্তজাতিক সমস্যা মোকাবিলায় নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। ২০ই এপ্রিল রোজ শনিবার, চট্টগ্রামের মুরাদপুরস্থ উইশ ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্টে বেসরকারি সংস্থা কেয়ার ফর এসেস্টস,রিসোর্সেস এন্ড অবলিগেশনস (করো) কর্তৃক “পিপল ম্যাটার, উই ম্যাটার,আওয়ার ওপিনিয়ন ম্যাটারস, ডেমোক্রেসি ম্যাটারস” শীর্ষক সেমিনার, ‘স্বাধীনতার ৫৩ বছর-প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক অনলাইন ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণী এবং করো’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

করো’র সহপ্রতিষ্ঠাতা মো: খালেদ সাইফুল্লাহ ও সাফা ইফতিসামের যৌথ সঞ্চালনায় সহপ্রতিষ্ঠাতা আরাফাত বিন ইউসুফের স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে সভাপতিত্ব করেন করো’র প্রতিষ্ঠিতা ও গবেষক এ এন এম নূরউদ্দিন। প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন করো’র ইন্টার্ন ও চবি শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার। আলোচনায় অংশনেন ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ও তরুণ সংগঠক এম এ হানিফ নোমান ও ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সদস্য সচিব মোঃ খায়রুল ইসলাম। বিশেষ  অতিথির বক্তব্যে ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন তরুনদের মাঝে আশা জাগাতে করো’র এই সুন্দর এবং স্বপ্নচারী উদ্যোগের প্রশংসা করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তরুণদের আলোচনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন,”আমরা গ্লোবাল বিষয় নিয়ে যতটা কথা বলি, লোকাল বিষয় নিয়ে ততটা কথা বলি না। আমাদের লোকাল বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা দরকার এবং এসব বিষয়ে ফোকাস করা উচিত। আমাদের তরুণদের পড়াশোনার প্রতি ব্যাপক অনীহা রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ব্যবহারিক জ্ঞানের ব্যাপক অভাব রয়েছে। আপনি যদি সমাজকে পরিবর্তন করতে চান, সেক্ষেত্রে বাধা আসবেই। আপনাকেই সেই বাধাগুলো মোকাবিলা করতে হবে। আর প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক শিক্ষা কারিকুলাম তৈরীতে শিক্ষবিদদের পরামর্শ নিয়ে সুগঠিত কারিকুলামের মাধ্যমে করো’র যাত্রা শুরু হলে আশা করি এটি সমাজে একটা পরিবর্তন নিয়ে আসবেই।

 

সেমিনার শেষে ‘স্বাধীনতার ৫৩ বছর-প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক অনলাইন ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের হাত থেকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে উক্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়। উক্ত অনলাইন ইভেন্টে দেশের ৪০ জেলা থেকে বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীল মেধাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের লেখা এবং ভিডিও কন্টেন্ট জমা দেয়। শিক্ষার্থীদের জমাকৃত লেখা এবং ভিডিও কন্টেন্টের মধ্যে ফুটে উঠে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের চিত্র, সেই সাথে এদেশের প্রতি তরুণদের বিভিন্ন প্রত্যাশা এবং দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে ২৭শে মার্চ ২০২৪ উক্ত প্রতিযোগিতার নিয়মানুসারে উভয় প্রতিযোগিতা থেকে প্রথম ৫ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

 

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ