আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

তরুণ সমাজকে দেশপ্রেমে জাগ্রত করতে না পারলে স্বাধীনতা প্রকৃত মর্মবানী উপলদ্ধি করা যাবে না-চবির ভিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

 

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তাহের বলেছেন  স্বাধীনতার মূল মর্মবানী অনুধাবনে তরুন সমাজ সক্ষম হয়নি বা তাদের কাছে সে তথ্য পৌঁছানো যায়নি। এর কারণে তরুন সমাজ এখন শুধুমাত্র নিজেকে ব্যস্ত, দেশ, সমাজ ও পরিবারকে নিয়ে ভাববার কোন সময় তাদের থাকছে না। আর সুযোগ পেলেই বিদেশ পাড়ি দেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার  ত্রুটি, দুর্বলতা, শিক্ষকদের আধুনিক ও পরিবর্তনশীল বিষয়ে সাথে খাপ-খাওয়াতে না পারা, তরুণদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও নেতৃত্বের বিকাশের সীমাবদ্ধতা  এবং দেশে দক্ষ প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠির তৈরীর ঘাটতির কারনে হতাশার পরিমান বেশি। বিপুল পরিমান তরুণজনগোষ্ঠি জনশক্তি না হয়ে হতাশাগ্রস্ত বেকার হয়ে জাতির জন্য বোঝা হয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, কীভাবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে, কীভাবে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের প্রতিটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে বিশ্বের বুকে নিজের নাম উজ্জ্বল করতে পারে সেই বিষয়ে সকলের সমন্তি প্রয়াসের ওপর আলোকপাত করেন। এক্ষেত্রে তরুণদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুবকদেরকে দেশগঠনে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, বর্তমান তরুণদেরও একইভাবে সংগঠিত হতে হবে। তাদেরকে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এমনকি স্থানীয় সমস্যাগুলোর পাশাপাশি আন্তজাতিক সমস্যা মোকাবিলায় নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। ২০ই এপ্রিল রোজ শনিবার, চট্টগ্রামের মুরাদপুরস্থ উইশ ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্টে বেসরকারি সংস্থা কেয়ার ফর এসেস্টস,রিসোর্সেস এন্ড অবলিগেশনস (করো) কর্তৃক “পিপল ম্যাটার, উই ম্যাটার,আওয়ার ওপিনিয়ন ম্যাটারস, ডেমোক্রেসি ম্যাটারস” শীর্ষক সেমিনার, ‘স্বাধীনতার ৫৩ বছর-প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক অনলাইন ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণী এবং করো’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

করো’র সহপ্রতিষ্ঠাতা মো: খালেদ সাইফুল্লাহ ও সাফা ইফতিসামের যৌথ সঞ্চালনায় সহপ্রতিষ্ঠাতা আরাফাত বিন ইউসুফের স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে সভাপতিত্ব করেন করো’র প্রতিষ্ঠিতা ও গবেষক এ এন এম নূরউদ্দিন। প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন করো’র ইন্টার্ন ও চবি শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার। আলোচনায় অংশনেন ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ও তরুণ সংগঠক এম এ হানিফ নোমান ও ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সদস্য সচিব মোঃ খায়রুল ইসলাম। বিশেষ  অতিথির বক্তব্যে ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন তরুনদের মাঝে আশা জাগাতে করো’র এই সুন্দর এবং স্বপ্নচারী উদ্যোগের প্রশংসা করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তরুণদের আলোচনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন,”আমরা গ্লোবাল বিষয় নিয়ে যতটা কথা বলি, লোকাল বিষয় নিয়ে ততটা কথা বলি না। আমাদের লোকাল বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা দরকার এবং এসব বিষয়ে ফোকাস করা উচিত। আমাদের তরুণদের পড়াশোনার প্রতি ব্যাপক অনীহা রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ব্যবহারিক জ্ঞানের ব্যাপক অভাব রয়েছে। আপনি যদি সমাজকে পরিবর্তন করতে চান, সেক্ষেত্রে বাধা আসবেই। আপনাকেই সেই বাধাগুলো মোকাবিলা করতে হবে। আর প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক শিক্ষা কারিকুলাম তৈরীতে শিক্ষবিদদের পরামর্শ নিয়ে সুগঠিত কারিকুলামের মাধ্যমে করো’র যাত্রা শুরু হলে আশা করি এটি সমাজে একটা পরিবর্তন নিয়ে আসবেই।

 

সেমিনার শেষে ‘স্বাধীনতার ৫৩ বছর-প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক অনলাইন ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের হাত থেকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে উক্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়। উক্ত অনলাইন ইভেন্টে দেশের ৪০ জেলা থেকে বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীল মেধাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের লেখা এবং ভিডিও কন্টেন্ট জমা দেয়। শিক্ষার্থীদের জমাকৃত লেখা এবং ভিডিও কন্টেন্টের মধ্যে ফুটে উঠে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের চিত্র, সেই সাথে এদেশের প্রতি তরুণদের বিভিন্ন প্রত্যাশা এবং দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে ২৭শে মার্চ ২০২৪ উক্ত প্রতিযোগিতার নিয়মানুসারে উভয় প্রতিযোগিতা থেকে প্রথম ৫ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

 

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে এক রাতে দুই কৃষকের সেচপাম্পের ৪ টি ট্রান্সফরমারের খোলস ফেলে ভেতরের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নির্মল দে’র ৩ টি ও শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জৈষ্টপুরা ৯ নং ওয়ার্ডের কৃষক মাদল চৌধুরীর ১টি ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে সেখানকার ১টি বিদ্যুতের খুঁটিতে তার, পাম্পে মোটর ও অন্যান্য সামগ্রী থাকলেও নেই ট্রান্সফরমার। আরেকটিতে ৩ টির মধ্যে ২টি ট্রান্সফরমার খুটিতে থাকলেও ১টি নাই। পৃথক দুটি স্থানে পড়ে আছে ট্রান্সফরমারের খোলস, নেই ভেতরের যন্ত্রাংশ।

ভুক্তভোগী ককৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ভারাম্বা খালের আমুচিয়া ও জৈষ্টপুরা অংশে দুটি মোটরচালিত বৈদ্যুতিক সেচপাম্প দিয়ে ওই এলাকার মনতলা কালি বিল, আন্ধার বিল ও জৈষ্টপুরা এলাকার কুমার গাতা বিলে অন্তত ২০০ কানি জমির চাষাবাদ করা হয়।

বোরো মৌসুম শেষ হলে প্রতি বছরের মতো গত এক মাস আগে ১৭/৫/২৬ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে ট্রান্সফরমার নামিয়ে দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এতোদিন ধরে না নামানোর কারণে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সরকারি খরচে ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নির্মল দে ও মাদল চৌধুরী।

চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) স ম মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন কাজের চাপে যথাসময়ে খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামানো না হলেও চুরি প্রতিরোধে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া সেচ ও কলকারখানার ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহককে নিজ খরচে তা স্থাপন করার বিধান আছে। প্রতিটি পাঁচ কেভিএ ধারণসম্পন্ন ট্রান্সফরমারের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ