আজঃ সোমবার ২২ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে মারধর ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের মামলায় উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হাসান মুরাদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন একটি আদালত। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম আদালত এই আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পেছনের ধানক্ষেতে আহমেদ হোসেন সোহেল নামে ব্যক্তিকে মারধর করেছিলেন আসামী। হাসান মুরাদ (৩৩), হাটহাজারী থানার চিকনদন্ডী এক নম্বর ওয়ার্ড ধোপা দিঘীর পাড় আকমল মিয়াজির বাড়ির দিদারুল আলমের ছেলে। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুন আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার আসামি হাসান মুরাদ আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আহমেদ হোসেন সোহেল হাটহাজারীর উত্তর ফতেয়াবাদ দক্ষিণ পাহাড়তলী নন্দীরহাট এলাকার হাজী মো. মুছার ছেলে। তিনি ওই এলাকায় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আগে ব্যবসা নিয়ে অভিযুক্ত হাসানের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে গত ২৯ অক্টোবর রাতে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চট্টগ্রাম আদালতে অভিযুক্ত হাসানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সোহেল। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে চার আসামির বিরুদ্ধে ১৫ নভেম্বর হাটহাজারী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়। বর্তমানে মামলাটি চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার বাদীর আইনজীবী এড. আবু সায়েম মোহাম্মদ নাসিম উদ্দীন বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর আঘাত করার ঘটনায় ব্যবসায়ী আহমেদ হোসেন সোহেল হাটহাজারী থানায় দায়ের করা মামলায় হাসান মুরাদ হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৩ সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু ৩ সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরও আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় গত ২৪ ডিসেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ারা জারি করেছিল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন :যোগ জীবনের প্রতিটি দিককে সমৃদ্ধ করে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নেভি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রামের যোগব্যায়াম উৎসাহীদের সাথে এ দিবস উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ( চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে ৮০০ অধিক জনসমাগম হয়।যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সুধীজনরা অংশগ্রহণ করেন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যোগ অনুশীলন পরিচালনা করেন।

সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হারীশ কুমার তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, যোগ একটি প্রাচীন অনুশীলন, যার অর্থ হলো ‘যুক্ত হওয়া’ বা ‘একত্রিত হওয়া’। এটি দেহ, মন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা অর্জনে সহায়তা করে।
প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ভারতীয় উপমহাদেশে এর উৎপত্তি হলেও যোগ কেবল শারীরিক ব্যায়াম বা বিভিন্ন ভঙ্গির অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনধারা, যা শারীরিক প্রাণশক্তি, মানসিক স্বচ্ছতা এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত হয়। ভারতের উদ্যোগে ইউনাইটেড নেশনস ২০১৪ সালে এই দিবসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’, যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সুস্বাস্থ্য, নমনীয়তা, মানসিক স্থিতি এবং জীবনীশক্তি বজায় রাখতে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। নিয়মিত যোগাভ্যাস মানসিক চাপ কমায়, শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই একটি সুস্থ, সুখী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গঠনে যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, যোগ আমাদের সকলকে সংযুক্ত করে ও একত্রিত করে। যখন যোগ জীবনযাত্রার অংশ হয়ে ওঠে, তখন তা মানব ঐক্যের ভিত্তি স্থাপন করে। যোগ আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের শিল্প শেখায় এবং মানসিক সুস্থতা থেকে শারীরিক সুস্থতার পথ দেখায়। এটি আমাদের শরীরকে নমনীয় হতে সাহায্য করে এবং আমাদের শক্তির মাত্রা উচ্চ রাখে। শারীরিক সুস্থতা থেকে শুরু করে মনের শান্তি পর্যন্ত, যোগ জীবনের প্রতিটি দিককে সমৃদ্ধ করে।

ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কৃষি শ্রমিক কে মারধরের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা পর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে এক কৃষি শ্রমিক কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রায় চার ঘণ্টা পর জামিল হোসেন (৫০) নামে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামের আবু মণ্ডলের ছেলে।

অভিযুক্ত ইউসুফ আলী উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে জামিল হোসেন তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

নিহতের মেয়ের জামাই আব্দুল কাদের জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইউসুফ আলী জামিল হোসেনকে ধান মাড়াইয়ের কাজে যেতে বলেন। তিনি কিছুটা দেরি হবে জানালে ইউসুফ আলী ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে সেই চাবি দিয়েই তাকে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রায় তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই করেন।

আব্দুল কাদের আরও জানান, কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে তারা কৈডাঙ্গা গ্রামে ফিরে আসেন। এ সময় জামিল হোসেন অসুস্থ বোধ করলে পাশের নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফিরে এসে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর ইউসুফ আলীর চাপে তারা দ্রুত মরদেহ নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে ভাঙ্গুড়া থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাড়িতেও গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ভাঙ্গুড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, প্রাথমিকভাবে মরদেহের মাথার পেছনে সামান্য কাটা-ছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেছে। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কারণে ওই আঘাত লেগে থাকতে পারে। শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ