আজঃ শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬

রাণীশংকৈলে বৃষ্টির আশায় ইস্তিকার নামাজ আদায়

সফিকুল ইসলাম শিল্পী, রাণীশংকৈল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. :

    তীব্র তাপদাহের সঙ্গে বইছে গরম বাতাস। প্রচন্ড গরম, কাঠফাটা রোদে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৃষ্টি না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে ফসল। নেমে গেছে পানির স্তর। দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট। রোদ আর গরমে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ (সালাতুল ইস্তিকার)

আদায় করেছেন আলেম উলেমা ও সাধারণ মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নেকমরদ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের খোলা আকাশের নিচে ফাঁকা মাঠে ইস্তিকার নামাজ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ এ নামাজে এলাকার শত’শত মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত নামাজে ইমামতি করেন নেকমরদ বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাসুম বিল্লাহ। এসময় নামাজের পরে খুতবা শেষে মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। মোনাজাতে মুসল্লিরা অঝোরে তাদের চোখের পানি ফেলে এক পশলা রহমতের বৃষ্টির জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া প্রার্থনা করেন। উক্ত মোনাজাত পরিচালনা করেন নেকমরদ পুরাতন গরুহাটি মসজিদের ইমাম মাওলানা ওয়ালিল্লাহ সাহেব। নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, প্রচন্ড তাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠঘাট কৃষিজমি। তীব্র খরায় ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন মানুষ। হিট স্ট্রোকে মারা যাচ্ছে মানুষ। এই অবস্থায় বৃষ্টি হওয়াটা খুব দরকার। বৃষ্টি হলে গরম কমে যাবে। আল্লাহ তাআলা সালাতের মাধ্যমে বৃষ্টি বা পানি চাইতে বলেছেন। তাই আমরা সবাই একত্রে নামাজ আদায় করেছি। নামাজে অংশ নেয়া কৃষক মো. ফারুক বলেন, ‘আমরা কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। বৃষ্টির কারণে আমরা কোন ফসল রোপণ করতে পারছি না৷ এই গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই বৃষ্টির জন্য আমরা নামাজ আদায় ও দোয়া করলাম।’
নেকমরদ বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব কাজী মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘রাসুল (সা.) তার সময়েও বৃষ্টির জন্য এই সালাত আদায় করতেন। আমরাও আদায় করলাম। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলাম এবং বৃষ্টি চাইলাম।’

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অসহায় প্রবাসী পরিবারের পাশে ইউএই হাটহাজারী সমিতি, অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে সালাউদ্দীন আলী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) হাটহাজারী সমিতির উদ্যোগে দুই প্রবাসী মরহুমের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদান তুলে দেওয়া হয় শোকসন্তপ্ত দুই পরিবারের হাতে।২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) হাটহাজারীর একটি স্থানীয় হোটেলে অনুষ্ঠিত এ মানবিক সহায়তা অনুষ্ঠানে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন তালুকদার, সিআইপি সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গভর্নিং বডির সদস্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হাটহাজারী সমিতির অন্যতম সদস্য লায়ন সালাউদ্দীন আলী। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পূর্বকোণের হাটহাজারী প্রতিনিধি খোরশেদ উল আলম শিমুল, সমিতির অন্যতম সহ-সভাপতি এনামুল হক ফোরকান, মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম, মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মাওলানা নাছির উদ্দিন, দিদার আলম দিদার, মাহাবুব আলম মাহাবুব, মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন খোকন, নিজাম উদ্দিন, তৌহিদুল আলম, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ রেজাউল আমিন, বাদশা মিয়া, মাওলানা শোয়াইব, মাওলানা হাফেজ মাসুদ, মোহাম্মদ জালাল, মোহাম্মদ আনিছসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে গুমানমর্দন এলাকার মরহুম হোসেনের পরিবারের হাতে ১ লাখ টাকা এবং মেখল ইউনিয়নের মরহুম খোরশেদ আলমের পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন সালাউদ্দীন আলী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবিকার সন্ধানে বিদেশে অবস্থানরত অনেক প্রবাসী নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করেন। তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে পরিবারগুলো প্রায়ই কঠিন আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়ে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ইউএই হাটহাজারী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে।

তিনি বলেন, “মানবসেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সমাজের যেসব প্রবাসী পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাদের সহযোগিতায় আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকব। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। তাই তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।সালাউদ্দীন আলী আরও বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের উচিত অসহায় ও শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। পারস্পরিক সহযোগিতা, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

সভায় বক্তারা প্রবাসী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তারা প্রবাসী কল্যাণে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এতে উপস্থিত অতিথি, সমিতির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগকে এলাকাবাসী প্রশংসার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।

আল্লাহর ঘরে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক- সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাদ্রাসায় ও মসজিদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মিটিং নিষিদ্ধ করতে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। বাজেট আলোচনায় সংসদে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি তোলেন।

সোমবার ২২ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ এ কথা বলেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ